১৯ আগস্ট ২০১৮, ৩ ভাদ্র ১৪২৫, শনিবার
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

চবি ছাত্রলীগের কমিটি না হওয়ার নেপথ্যে এসএম জাকিরের সিলেটপ্রীতি!

একুশে প্রতিবেদক
প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, মে ১০, ২০১৮

চট্টগ্রাম: নিজ এলাকা সিলেটের সন্তান ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক সদস্যকেই ‘হতে হবে’ সভাপতি- এমন গোঁ ধরে বসে থেকে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটিই স্বাক্ষর করলেন না কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন! এমন অভিযোগ চবি ছাত্রলীগের অধিকাংশ নেতার। এ অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে কথা বলে।

তবে সাধারণ সম্পাদকের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পেরেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। শুধুমাত্র সভাপতির নাম ঘোষণা করেতো আর কমিটি ঘোষণা করা যাবে না- তাই কপাল পুড়েছে চবি ছাত্রলীগের সভাপতি হতে যাওয়া সেই সৌভাগ্যবান ছাত্রনেতারও।

ছাত্রলীগের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চবি ছাত্রলীগের বিবাদমান দুটি পক্ষের সামগ্রিক বিষয় ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেখভাল করে আসছেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। প্রয়াত হওয়ার পর মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাম্রাজ্যের হাল ধরেন তার বড় সন্তান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। চবি ছাত্রলীগের মহিউদ্দিন-শিবিরের নেতাকর্মীরাও নওফেলের ইশারায় রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।

চবি ছাত্রলীগের রীতি অনুযায়ী, এক কমিটিতে যদি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে সভাপতি মনোনীত হয়ে থাকে, পরের কমিটির সভাপতি হবেন আ জ ম নাছির উদ্দিনের পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে। একই রীতিতেই মনোনয়ন পেয়ে আসছে সাধারণ সম্পাদক পদটিতেও। ২০১৫ সালের জুন মাসে গঠিত চবি ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু ছিলেন আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী। এ বছর তাই সভাপতি মনোনীত হওয়ার পালা নওফেলের অনুসারীদের মধ্য থেকে।

সে অনুযায়ী, নওফেলের কাছে ২১ জন সভাপতি প্রার্থীর তালিকা জমা পড়ে। তিনি সে তালিকা থেকে তিন নেতার নাম কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে সুপারিশ করেন। চবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও সে তালিকা মেনে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দীর্ঘদিনের রীতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন নিজ এলাকার বাসিন্দা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক সদস্যকে চবি ছাত্রলীগের সভাপতি পদে বসাতে চেয়েছেন। শুধু তাই নয়; চুরি, ছিনতাই, নেশাগ্রস্থসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত ওই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাকে সভাপতি করতে না পারায় তিনি চবি ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা থেকে বিরত থেকেছেন।

অথচ রাত পেরোলেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলন। দেশজুড়ে শত শত ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করলেও স্বজনপ্রীতি থেকে বের হতে না পারায় চবি ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়া থেকে জাকিরের বিরত থাকাকে নজিরবিহীন ঘটনা বলে দাবি করছে চবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।

চবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, চবি দর্শন বিভাগ থেকে দুই বছর আগে মাস্টার্স শেষ করা ওই ছাত্রলীগ নেতার বাড়ি সিলেটে। নিজ এলাকার হওয়া এসএম জাকির তাকে বানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতা। এরপর থেকে ওই নেতা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকেই সময় দিয়েছে বেশি। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একজন নেতাকে চবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বানাতে গোঁ ধরে থাকা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। যারা চবি ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছে তাদের মধ্য থেকে যে কাউকে নেতা বানালে সংগঠন গতিশীল হতো।

তারা আরও অভিযোগ করেন, চবি ছাত্রলীগের নেতাদের মধ্য থেকে ইউনিটের সহ সভাপতি জিয়া, আলামিন রিমন, যুগ্ম সম্পাদক তারেকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জীবনের নাম প্রস্তাব করা হয়। এদের মধ্য থেকে যে কাউকেই মনোয়ন দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পদে থাকা যার নাম প্রস্তাবই করা হয়নি তাকে সভাপতি করার চেষ্টা চালান এসএম জাকির। শুধু তাই নয়; তাকে নেতা বানানোর চেষ্টায় এসএম জাকির হোসেন প্রায় ১৫ দিন ধরে কমিটি স্বাক্ষর না করে ঝুলিয়ে রাখেন।

এ বিষয়ে চবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ক্ষোভের খবর প্রচার হওয়ায় ১১ মে সম্মেলনের আগের দিনও এ কমিটি এসএম জাকির হোসেন স্বাক্ষর করেনি।
চবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রাকিব হোসাইন বলেন, মহিউদ্দিন ভাইয়ের অনুসারীদের মধ্য থেকে কে নেতা হবে সেটা দেখার দায়িত্ব মহিউদ্দিন চৌধুরীর সন্তান ব্যারিস্টার নওফেল ভাইয়ের। জননেত্রী শেখ হাসিনাই নওফেল ভাইকে চট্টগ্রাম শুধু নয়, ঢাকা আওয়ামী লীগেরও দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির কখনোই চবি ছাত্রলীগের কোনো বিষয়ে খোঁজখবর রাখেনি, নওফেল ভাইয়ের কথা অমান্য করেছেন তিনি। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা গেলে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন কখনো চবি ছাত্রলীগের নেতাদের সাথে ভালোভাবে কথাও বলেনি। শিবিরের বিরুদ্ধে রক্ত দিয়ে জীবনবাজি রাখা চবি ছাত্রলীগের হাজারো ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর হৃদয় থেকে জাকিরের প্রতি আজ থেকে শুধু ঘৃণাই বের হবে।

তিনি বলেন, জাকিরের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে শিবির ও ছাত্রদলের নেতারা ছাত্রলীগের পদ পেয়েছেন। চবি ছিল শিবিরের দূর্গ। চবি ক্যাম্পাসে শিবিরকে প্রতিষ্ঠা করতে এসএম জাকির নিজ এলাকার চুরি, ছিনতাই ও নেশাগ্রস্থ কারও হাতে তুলে দিতে হাজারো চেষ্টা করেও পারেননি। শেষ পর্যন্ত নোংরা ও নজিরবিহীনভাবে তিনি চবি ছাত্রলীগকে কমিটিবিহীনই রেখে দিয়েছেন। যার ফলে চবি ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টদের কাছে জাকির শিবিরের এজেন্ট হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। ছাত্রলীগের যে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে ব্যক্তিগত পছন্দই শেষ কথা তিনি আর যাই হোক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কেউ হতে পারেন না।

এ বিষয়ে জানতে এসএম জাকির হোসাইনের মোবাইলে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এদিকে চবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারীদের মধ্য থেকে ১৫ জনের তালিকা করা হয়। এদের মধ্য থেকে একজনকে সাধারণ সম্পাদক করার বিষয়ে একমত হয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের সবুজ সংকেত পেয়েই তাকে সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য মনোনীত করার কথা রয়েছে।

একুশে/এসআর/এটি