২১ অক্টোবর ২০১৮, ৫ কার্তিক ১৪২৫, শনিবার

ইলিয়াছ ব্রাদার্সে’র এমডিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশিতঃ বুধবার, মে ১৬, ২০১৮, ৭:১৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে রাষ্ট্রয়াত্ত অগ্রণী ব্যাংকের ১৫৫ কোটি ৪৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রামের খাদ্যপণ্য আমদানিকারক ও ব্যবসায়িক গ্রুপ ‘মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্সে’র বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তাদেরও আসামি করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ মে) দুদকের উপ পরিচালক সামছুল আলম বাদী হয়ে সিএমপির ডবলমুরিং থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ২৭। ডবলমুরিং থানার ওসি মহিউদ্দিন সেলিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন মামলাটি দুদকই তদন্ত করবে।

মামলার আসামিরা হলেন, মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্সে’র এমডি ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ সামশুল আলম (৫০), চেয়ারম্যান মো. নূরুল আবছার (৪৯) ও পরিচালক মো. নূরুল আলম (৪২), পরিচালক জয়নাব বেগম (৬৪) পরিচালক কামরুন্নাহার বেগম (৪২), পরিচালক তাহমিনা বেগম (৩৪), অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, কর্পোরেট বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদ শাখার সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. নূরুল আমিন (৫৬), সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. জোনায়েদ বোগদাদী (৬১) সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার উদয় কুমার বিশ্বাস (৬৩), প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শাহজাদুল আলম (৪৯) ও সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক ইয়াসিন ফারুকী(৫৬)।

মামালায় আসামিদের বিরুদ্ধে অগ্রণী ব্যংকের কর্মকর্তাদের সহায়তায় অর্থ আত্মসাৎ করায় দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য প্রতারণা, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে ব্যাংক কর্মকর্তারা ঋণ মঞ্জুরি/ ক্রেডিট কমিটির শর্তানুযায়ী ঋণপত্র খোলা, ঋণ বিতরণ, আমদানিকৃত মালামাল/পণ্যের বিক্রিত মূল্য থেকে যথাসময়ে টিআর ঋণ সমন্বয় নিশ্চিত না করার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা আমদানিকৃত মালামালের ওপর নিবিড় তদারকি ও স্টক পরিদর্শন করেনি। ঋণ মঞ্জুরীর শর্তানুযায়ী ঋণের ব্যবহার নিশ্চিতকরণের দায়িত্ব ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী শাখা ব্যবস্থাপক ও শাখার কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থাকা ছিল। তা সত্ত্বেও ব্যাংক বিধি অনুযায়ী উল্লিখিত ব্যাংক কর্মকর্তারা ঋণ আদায় করেননি। এমনকি মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্স (প্রা:) লিমিটেডের পরিচালকরা ব্যাংকের অর্থায়নে ইন্দোনেশিয়া থেকে অপরিশোধিত ( ক্রুড) পাম অয়েল আমদানি করে এবং আমদানিকৃত পণ্য বিক্রয় করার পরও ব্যাংকের অর্থ পরিশোধ না করে ৩ টিটিআর ঋণ বাবদ যথাক্রমে ৪৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, ৪৬ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা এবং ৬৩ কোটি ৩৬লাখ ২৫ হাজার টাকা অর্থাৎ সর্বমোট ১৫৫ কোটি ৪৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

একুশে/এডি

প্রিন্ট করুন