২০ অক্টোবর ২০১৮, ৫ কার্তিক ১৪২৫, শনিবার

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এক্সেল লোড স্থগিতে সেতুমন্ত্রীকে অনুরোধ চসিক মেয়রের

প্রকাশিতঃ বুধবার, মে ১৬, ২০১৮, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য পরিবহনে দুই এক্সেল (ছয় চাকা) বিশিষ্ট মোটরযানে ১৩ টনের বেশি ওজন পরিবহনের ক্ষেত্রে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। মাত্র ১৩ টন ওজন নির্দিষ্ট করে দেয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে শিল্পের কাঁচামাল, ভোগ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে পরিবহন ব্যয় কেজি প্রতি প্রায় ৩/৪টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশের অন্য কোন মহাসড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে অপরাপর অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের সাথে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারে। বাজারে অসম হারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এমতাবস্থায় রমজান মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্য পরিবহনে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি’র কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

বুধবার বিকেলে ৪৮/২০১৮ স্মারক একটি উপানুষ্ঠানিক পত্রের মাধ্যমে তিনি মন্ত্রীর বরাবরে এই অনুরোধ জানিয়েছেন।

পত্রে উল্লেখ করা হয়, মাননীয় মন্ত্রী, সম্প্রতি বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে সারা দেশে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে দুই এক্সেল (ছয় চাকা) বিশিষ্ট মাটরযানের মাধ্যমে মাত্র ১৩ টন ওজন নির্দিষ্ট করে দেয়ার ফলে পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।শিল্পের কাঁচামাল,ভোগ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে পরিবহন ব্যয় কেজি প্রতি ৩/৪টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের অন্য কোন মহাসড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবসায়ীবৃন্দ অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে এবং আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় সিংহভাগ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের অধিকারী বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে আমদানিকৃত নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল সারাদেশে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অন্যদিকে সরকার সারাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উল্লেখিত ওজন নিয়ন্ত্রণের কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সারাদেশের সাধারণ মানুষ এসব পদক্ষেপের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে এবং ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পাবে বলে আমি মনে করি।

এমতাবস্থায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে সারাদেশে শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় লাঘব করে পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে রাখার লক্ষ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুই এক্সেল বিশিষ্ট মোটরযানে ১৩টন ওজন পরিবহনের বাধ্যবাধকতা শিথিল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার নিকট বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে রমজান মাসের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পরিবহনে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ স্থগিত করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

এডি/এসআর/একুশে

প্রিন্ট করুন