১৯ আগস্ট ২০১৮, ৩ ভাদ্র ১৪২৫, শনিবার
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ট্রাম্প-কিম বৈঠক, শান্তির পথে ঐতিহাসিক যাত্রা

একুশে প্রতিবেদক
প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, জুন ১২, ২০১৮

ওমর ফারুক হিমেল, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং–উন একটি যৌথ চুক্তিপত্রে সই করছেন। একে গুরুত্বপূর্ণ নথি বলা হলেও তাতে কী আছে, এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপের ক্যাপেলা হোটেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিমের একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুই দেশের শীর্ষ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্বিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক মিলিত হন।

পরে ট্রাম্প ও কিম একান্ত বৈঠকে করেন। এর কিছুক্ষণ পর গুরুত্বপূর্ণ নথিতে সই করার ঘোষণা আসে।

দুই নেতা চুক্তির সময় হাসিমুখে ছিলেন। মনে করা হচ্ছে, এই বৈঠক শান্তির পথে আরেকটি ঐতিহাসিক যাত্রা।

বৈঠককালে ট্রাম্প নিজে থেকে নানান কথা বলেন সাংবাদিকদের সাথে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা খুব গুরুত্বপূর্ণ, তাৎপর্যময় নথি সই করেছি। নথিটি বিস্তারিত দলিল।’

‘এতে কি আছে, কি চুক্তি হয়েছে আমরা পৃথক প্রেস ব্রিফিং করে জানাব। এটি বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করা হবে।’

বৈঠকে উভয়ে দোভাষীর সাহায্য কথা বলেন।

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম বলেছেন, বৈঠকের আয়োজন করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ। কিমকে কোরিয়ান ভাষায় সব বুঝিয়ে দেন দোভাষী।

কিম বলেন, ঐতিহাসিক এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। গোটা বিশ্ব ব্যাপক একটি পরিবর্তন দেখবে শীঘ্রই।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, দুই নেতা সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপের ক্যাপেলা হোটেলের বারান্দায় হাসিমুখে দেখা দেন। বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে দুইনেতা দুপুরের খাবার সারেন। দুপুরের বিরতির সময় কিমের সঙ্গে হোটেলের আঙিনায় কিছুক্ষণ হাঁটেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘দ্য বিস্ট’ নামের গাড়ির ভেতরটা উত্তর কোরীয় নেতা কিমকে দেখান যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীরা; মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই গাড়িকে বলা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত গাড়ি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- খাবারের টেবিলে বেশ প্রাণবন্ত ছিলেন ট্রাম্প। তিনি হাসিতে মাতিয়ে তোলেন কিম ও সাংবাদিকদেরকে।

প্রসঙ্গত তাৎপর্যময় নজিরবিহীন এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয় ট্রাম্প ও কিমের গত বছরের বাকযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। একে অপরকে গালিও দিয়েছেন, পাল্টাপাল্টি ধমক দিয়েছেন, যা বিশ্ববাসী অবলোকন করেছে।

গত ২৭ এপ্রিল দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের সঙ্গে ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ করেন কিম। ২৬ মে আরও এক দফা বৈঠক করেন কোরিয় পেনিনসুলার দুই প্রেসিডেন্ট। কোরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা পাজুর পানজুমুনের পিস হাউস বা শান্তির নীড়ে বৈঠকে মিলিত হন তারা। এর আগে স্বস্ত্রীক চীন সফর সম্পন্ন করেন কিম জং উন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও উত্তর কোরিয়া সফর করেন।

সিঙ্গাপুরের সফল এই বৈঠকের জন্য ট্রাম্প ধন্যবাদ জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে।

সবকিছুর পরেও বিশ্বনেতাদের এই মিলনের মূল কারিগর হিসেবে যার নাম উঠে আসবে তিনি হলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা প্রধান স হুন।

এর আড়ে সিউলে মুন জায়ে-ইন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ সম্মেলনের সাফল্যের জন্য আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, বৈঠকের আগে তিনি একটি হতাশার রাত্রি দেখেছিলেন।

‘উত্তর কোরিয়া-আমেরিকা শীর্ষ সম্মেলন শুরুর পর থেকে, সম্ভবত আমাদের জনগণের মন সিঙ্গাপুরে। আমি চিন্তা নিয়ে রাত কাটিয়েছি’, মুন মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষের মতো এক সফল সাক্ষাতের আশা করি, যা আমাদের সম্পূর্ণ শান্তি বজায় রাখবে এবং দক্ষিণ, উত্তর ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা করবে।’

এ ছাড়া সিঙ্গাপুরের শীর্ষ সম্মেলনের লাইভ কভারেজ দেখে দক্ষিণ কোরিয়ায় রাষ্ট্রপতি ও শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের মঙ্গলবারের সাপ্তাহিক বৈঠক শুরু হয়।

এ দিকে সিউলে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পের সভাপতিত্বে মুন জায়ে-ইন এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বুধবার সিউল পৌছার কথা রয়েছে।

একুশে/এসআর