২০ অক্টোবর ২০১৮, ৫ কার্তিক ১৪২৫, শনিবার

ভিক্ষার নামে চুরি করে ওরা

প্রকাশিতঃ বুধবার, জুন ১৩, ২০১৮, ৯:২৬ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম: ভিখারির বেশে বাসা-বাড়িতে যান তারা। দরজা বন্ধ পেলে অসহায় সেজে টাকা-পয়সা সাহায্য চায় এরা। তবে সদর দরজা খোলা পেলেই তারা সুযোগ বুঝে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মোবাইল ও দামি পণ্য নিয়ে দেয় চম্পট।

বুধবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানার হাজারী লেইন মসজিদ গলি ও লয়েল রোড়ের হাবিব আবাসিক হোটেলে অভিযানে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের এমনই সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. মোবারক হোসেন (২৩), মো. আবু বক্কর (১৯), মো. আরাফাত (১৯), মো. রবিউল আলম (১৮), মো. শাহ আলম (২৬), মোহাম্মদ হোসেন (২৫) ও মো. ইউসুফ (৩৫)।

হাজারী লেইন মসজিদ গলির বাটা ভবনের ছয় তলায় একটি ব্যাচেলর বাসা থেকে মোবাইল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রথম চারজনকে স্থানীয়দের সহায়তায় ধরে ফেলে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর হাবিব আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে শাহ আলম, হোসেন ও ইউসুফকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৭টি চোরাই মোবাইল, একটি লাগেজ ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয় বলে জানান নগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারি কমিশনার (বন্দর) আসিফ মহিউদ্দীন।

তিনি বলেন, এই চক্রটি দুই ধরনের চুরি করে থাকে। এদের একদল করে মোবাইল চুরি। আরেক দল করে বিভিন্ন বাস কাউন্টার থেকে যাত্রীদের লাগেজ চুরি।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা আসিফ মহিউদ্দীন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জেনেছি, দিনের বেলায় তারা বিভিন্ন ফ্ল্যাট বাসায় যায় সাহায্য চাইতে। নক করার পর দরজা খুললে নিজেদের অসহায় অবস্থা বর্ণনা করে টাকা-পয়সা সাহায্য চেয়ে থাকে। এভাবে যদি কোনো ফ্ল্যাটের সদর দরজা খোলা পেয়ে যায়, তাহলে মোবাইল ও অন্যান্য দামি আসবাব চুরি করে সটকে পড়ে তারা।’

‘এভাবেই একটি ফ্ল্যাট থেকে ৭টি মোবাইল চুরি করে পালানোর সময় চক্রের চার সদস্য বুধবার রাতে ধরা পড়েছে।’

‘চক্রটির চুরি করার অন্য ধরণটি হচ্ছে- বাড়ি ফেরা মানুষের লাগেজ চুরি করা। বিশেষ করে ঈদে বাড়ি যাওয়ার তাড়া থাকে অনেকের। তখন বাস কাউন্টারে ওৎ পেতে থাকে চক্রটির সদস্যরা। প্রথমে তারা যাত্রীদের অনুসরণ করে। যাত্রী যে-ই না একটু অমনোযোগী হয়েছে, তখনই তার ব্যাগ-ব্যাগেজ নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায় এই চোর চক্রের সদস্যরা। ’ -যোগ করেন পুলিশ কর্মকর্তা আসিফ মহিউদ্দীন।

গত কয়েকদিনে নগরের এ কে খান বাস কাউন্টার থেকে বেশ কয়েকজন যাত্রীর লাগেজ চক্রটি চুরি করেছে বলে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারি কমিশনার (বন্দর) আসিফ মহিউদ্দীন বলেন, ‘বাসার দরজা ভালো করে লাগানো হয়েছে কি না, সেটা ভালোভাবে দেখতে হবে। এ ছাড়া লাগেজ, ব্যাগ বহনের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। ’

একুশে/এসআর

প্রিন্ট করুন