১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, সোমবার

মক্কায় হিজাব-আলখেল্লা পরা নারী ভিক্ষুক (ভিডিও)

প্রকাশিতঃ শনিবার, জুলাই ২১, ২০১৮, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ

মক্কা থেকে ফিরে : গেল ঈদের আগের দিনের ঘটনা। মক্কার মিসফালাহ ফ্লাইওভার। তার নিচে হজ সংক্রান্ত ছোট্ট একটি অফিস। এক আফ্রিকান বের হলেন সেখান থেকে। ডান হাতে উঁচিয়ে ধরলেন কিছু সৌদি রিয়াল (জাকাত-ফিতরা)। মুহূর্তের মধ্যে পিপড়ার মতো জড়ো হলেন শ’খানেক নারী। আছে পুরুষও। সবাই ঘিরে ধরলেন লোকটাকে। চিলের মতো ঝাঁপটা দিলেন কেউ কেউ। নিমিশে এক বান্ডিল নোট হাওয়া। এরপরও হুমড়ি টেকাতে বারে বারে হাততালি দিয়ে তাকে বোঝাতে হলো নোট শেষ!

এমন দৃশ্য প্রায় দেখা যায় মক্কার পথে পথে। ভিক্ষা ও করুণা প্রত্যাশী এরা কারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এরা সবাই বহিরাগত। ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সিরিয়া, মিশর, মিয়ানমার, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ওরা। এদের বেশিরভাগ আবার হাজি। হজ করতে এসে ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমে পড়ে। বিভিন্ন ছুতোনাতায় ভিক্ষা করে তারা। হেরেম শরীফে, কাবাঘর সামনে নিয়ে, এহরাম পরে ব্যাগ খোয়ানোর কথা বলেও হরহামেশা ভিক্ষা করতে দেখা যায় তাদের।

মক্কা প্রবাসী মহিউদ্দিন এ প্রসঙ্গে জানালেন তার অভিজ্ঞতা। বললেন, এদের একটা গ্রুপ আছে। আবার গ্রুপের বাইরেও কেউ কেউ হয়ে ভিক্ষা করে। ল্যান্ড ক্রুজার গাড়িতে চড়েও ভিক্ষা করতে দেখা যায়। চলন্ত গাড়ি থামিয়ে পথচারিকে বোকা বানিয়েও ভিক্ষাবৃত্তি করার মানুষের সংখ্যা কম নয়।

মহিউদ্দিন বলেন, একদিন মক্কার পথে চলছিলাম। হঠাৎ ল্যান্ডক্রুজার গাড়ি থামালেন নাদুসনুদুস এক নারী। ইশারা দিয়ে ডাকলেন। তারপর এমন ভাব করলেন মনে হলো সত্যিই তিনি বিপদে পড়েছেন, টাকার ব্যাগ হারিয়েছেন। এত বড় মানুষ বিপদে পড়েছেন। কম টাকাও দেয়া যায় না। অগত্যা ১শ রিয়াল (বাংলাদেশি ২২শ টাকা) তার হাতে তুলে দিলাম। পরবর্তীতে একই ধরনের কেস যখন আরও পেলাম তখনই বুঝতে পারি এটা একধরনের ব্যবসা!

একুশে/এটি