১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, সোমবার

দায়িত্বের তিন বছর : নাছিরের স্বপ্ন ছোবার চেষ্টা…

প্রকাশিতঃ বুধবার, জুলাই ২৫, ২০১৮, ৯:২৩ অপরাহ্ণ

.আলম দিদার : ৩৬ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচিত হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দিনের দায়িত্ব গ্রহণের তৃতীয় বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ বুধবার (২৬ জুলাই)। এ তিন বছরে মেয়র হিসেবে কতটুকু সফল এ প্রশ্নটি ছিল আ জ ম নাছিরের কাছে। এর জবাবে তিনি নিজেকে নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও সফল দাবি করেছেন।

কিন্তু তার নির্বাচনী ইস্তেহারের প্রধান প্রতিশ্রুতি জলাবদ্ধতামুক্ত বন্দর নগরী গঠনের কথা থাকলেও তিন বছরের মাথায় এসে সেই মহাদায়িত্ব যখন সিডিএ’র কাঁধে দিয়েছে সরকার। তখন সিটি করপোরেশনের প্রধান কাজগুলো কি সেটিও ব্যাখা দিয়ে স্পষ্ট করেছেন নগর পিতা নাছির।

বলেছেন, সিটি করপোরেশনের প্রধান কাজ হচ্ছে- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তাঘাট সংস্কার ও মেরামতের মাধ্যমে চলাচল উপযোগী রাখা এবং সড়ক বাতির মাধ্যমে আলোকায়নের ব্যবস্থা করা। এরপরও নানা সেবামূলক কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে নগরবাসীকে দেওয়া তার প্রতিশ্রুতি তথা স্বপ্ন ছোবার চেষ্টায় আছেন মেয়র নাছির।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনজুর আলমকে হারিয়ে জয়ী হন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির। মেয়র হিসেবে তিনি শপথ নেন ওই বছরের ৬ মে। কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে দায়িত্ব পেতে তাঁকে ২৬ জুলাই, ২০১৫ সাল পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ হবে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত। ২০১০ সালের ১৭ জুন অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর জয়ী মেয়র ও কাউন্সিলরদের প্রথম সভা হয় ওই বছরের ২৬ জুলাই।

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম বছরেই দীর্ঘ বছরের জঞ্জালে ভরপুর বিলবোর্ড উচ্ছেদের মাধ্যমে প্রথম সফলতা দেখিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নগরবাসীর বাহবাও পেয়েছেন মেয়র। তবে দ্বিতীয় বছরে এসে ক্লিন সিটি গ্রীণ সিটি গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া নাছির ডোর টু ডোর আর্বজনা পরিস্কারের কার্যক্রম হাতে নিলেও সেটি তেমন সফলতা পায়নি। ফলে সিটি করপোরেশনের নাগরিক সেবাগুলোর মধ্যে প্রধানতম যে কাজ আবর্জনা ব্যবস্থাপনা সেই কাজে অনেকটা ব্যর্থ সিটি করপোরেশন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর মেয়র গ্রিন ও ক্লিন সিটি নির্মাণে পরিচ্ছন্নতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন। প্রাথমিক পদক্ষেপে ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে দিনের পরিবর্তে রাতের বেলায় বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু হয়। বলা হয়, সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে ডাস্টবিন-কনটেইনারে ময়লা ফেলতে হবে। ১১টার পর চসিক ময়লা অপসারণ করবে। প্রথম দিকে এ কার্যক্রমে কিছুটা সুফল মিললেও ক্রমে ভাটা পড়ে। বর্তমানে নগরীর বেশির ভাগ এলাকার ডাস্টবিনে পড়ে থাকে আবর্জনা। ফলে চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পথ চলতে হয় পথচারীদের।

মেয়র নাছির বলেন, ‘ক্লিন সিটি আমার স্বপ্ন। এ নিয়ে প্রথম ধাপে একটি উদ্যোগও গ্রহণ করি। কিন্তু এ কাজে নগরবাসীর আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। শতভাগ ক্লিন নগর গড়তে নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। ’

তবে দ্বিতীয় বছরে এসে বর্ধিত গৃহকর নিয়ে বিরোধে জড়ান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এনিয়ে নিজ দলের বিরোধীতার মুখেও পড়েন তিনি। যদিও তিনি বারবার দাবি করেছেন এতে তার কোনো হাত নেই সব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আদেশে করা হচ্ছে। যদিও চট্টগ্রামের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নগরবাসীর দাবির মুখে সরকার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলে গৃহকর বিরোধের অবসান হয়।

এছাড়া নগরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো সিটি করপোরেশন ব্যাপক উন্নয়ন করলেও মূল সড়কগুলোতে ওয়াসা ও সিডিএর ফ্লাইওভারের কাজের কারণে বেহাল দশার দায়ভার এসে পড়ছে সিটি করপোরেশনের ওপর। এছাড়া স্কুল কলেজসহ শিক্ষা ক্ষেত্রে সাফল্য দেখিয়েছে নাছিরের নেতৃত্বাধীন সিটি করপোরেশন। চসিক পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি আদায়, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম, গরিব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান, জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের এককালীন অনুদান, স্কুল সবুজায়ন উন্নয়নসহ শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের ফাস্ট ট্র্যাক ব্যাংকিং সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাথে কার্যক্রম শুরু করেছে চসিক।

সরকারের ফ্যাসিলিটি ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে জরিনা-মফজল সিটি কর্পোরেশন কলেজের পাঁচ তলাবিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ, অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, কৃষ্ণকুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ, পূর্ব বাকলিয়া সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণকাজ চলমান। নগরীতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সুপারিশক্রমে আরো নতুন ১০টি স্কুল ভবন নির্মাণ এবং ১০টি স্কুল ভবন সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চসিকের নিজস্ব অর্থায়নে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কদম মোবারক সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে।

এছাড়া নেয়া হচ্ছে নানা প্রকল্প। এরমধ্যে চসিক ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৫টি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছে। পরিকল্পনাসমূহ হল : নগর ভবন নির্মাণ, আইটি ভিলেজ নির্মাণ, মাস্টারপ্ল্যানের সুপারিশমতে প্রস্তাবিত নতুন সড়ক নির্মাণ, ফিরিঙ্গিবাজার হতে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ, মুরাদপুর, ঝাউতলা, অক্সিজেন ও আকবর শাহ রেলক্রসিং-এর ওপর ওভারপাস নির্মাণ, ঢাকামুখী ও হাটহাজারীমুখী বাস টার্মিনাল নির্মাণ, টোল রোডের পাশে কন্টেইনার ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ওভারপাস/আন্ডারপাস নির্মাণ, চান্দগাঁও ও লালচান্দ রোডে সিটি কর্পোরেশনের জায়গায় বহুমুখী ভবন নির্মাণ, নগরীর কাঁচা বাজারগুলিকে আধুনিকায়ন, বাকলিয়া সিটি কর্পোরেশনের জায়গায় স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণ, ওয়ার্ডভিত্তিক খেলার মাঠ, শিশু পার্ক, কমিউনিটি সেন্টার, মিলনায়তন, ব্যায়ামাগার, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ, চট্টগ্রাম মহানগরীতে একটি আধুনিক কনভেনশন হল নির্মাণ, নগরীতে জোনভিত্তিক থিয়েটার ইনস্টিটিউট নির্মাণ এবং সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে একনেকে অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয়েছে। ১২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে চসিকের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং বাস/ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প এবং ২৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চসিক আওতাধীন পরিচ্ছন্নকর্মী নিবাস শীর্ষক প্রকল্প।

মেয়র বলেন, ‘কর্পোরেশনের কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা অনেক। প্রত্যাশিত সেবা এবং অবশ্যকরণীয় উন্নয়ন কর্মকা-সমূহ নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ও সময়ের সমন্বয়ের প্রয়োজন। আমাদের সম্পদ সীমিত। নগর উন্নয়ন ও নাগরিক জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনার লক্ষ্যে কর্পোরেশনের বকেয়া কর আদায়, সুষ্ঠু কর নির্ধারণ এবং নির্ধারিত কর আদায়ের সাথে মহানগরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রাসঙ্গিভাবে জড়িত। সময়ের আবর্তে বৃদ্ধি পেয়েছে জনসংখ্যা, গড়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল, প্রসার ঘটেছে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের, বিস্তার লাভ করেছে শিক্ষার, বৃদ্ধি পেয়েছে নাগরিক চাহিদার।’

‘আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নগরবাসীর সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়কবাতি জ্বালানো, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা প্রদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, রাস্তাঘাট, নালা-নর্দমা মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণমূলক ব্যয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতাদি নির্বাহ করতেই সিংহভাগ অর্থ ব্যয় হয়। সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতায় নগরবাসীর সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য আমার নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ উন্নয়ন-প্রচেষ্টায় নগরবাসীও সাহায্য-সহযোগিতা ও নাগরিক দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসবেন বলে আশা করি।’

নগরীর বিশাল জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য ও নাগরিকসেবা দিতে গিয়ে চসিকের রাজস্ব আয়ের একটি বড় অংশ ব্যয় করা হচ্ছে। ১০০ শয্যাবিশিষ্ট মেমন মাতৃসদন হাসপাতাল, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোস্তফা-হাকিম মাতৃসদন হাসপাতাল, ৫ নং ওয়ার্ডস্থ ছাফা-মোতালেব মাতৃসদন হাসপাতাল, ৩৯ নং ওয়ার্ডস্থ বন্দরটিলা মাতৃসদন হাসপাতাল, একটি হেল্থ টেকনোলজি, একটি মিডওয়াইফারি ইনিস্টিটিউট, একটি হোমিওপ্যাথিক কলেজ, ১৮নং ওয়ার্ডস্থ হাজী ওয়াইজ খাতুন মাতৃসদন হাসপাতাল, ১৯ নং ওয়ার্ডস্থ নুরুল ইসলাম বি.এসসি. মাতৃসদন হাসপাতালে বহির্বিভাগীয় চিকিৎসাসেবাসহ প্যাথলজি সেন্টার, অপারেশন থিয়েটার, ব্লাড ব্যাংক-সেবা দিয়ে যুগান্তকারী ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। তা ছাড়াও শিশু ইনকিউবেটর, নেবুলাইজার, কার্ডিয়াক মনিটরের ব্যবস্থা আছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক অপারেশন থিয়েটার ভিআইপি ও জেনারেল কেবিনসহ ইপিআই. টিকাদান কর্মসূচি, পরিবার পরিকল্পনা, ইমারজেন্সি ও বহির্বিভাগ চালু আছে।

অবহেলিত স্বাস্থ্যসেবাকে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় পরিণত করার লক্ষ্যে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট মেমন জেনারেল হাসপাতালে সাধারণ রোগীর চিকিৎসা, গর্ভবতী চিকিৎসা, শিশু চিকিৎসা, বিভিন্ন এক্স-রে কার্যক্রম, দন্ত ও চক্ষু বিভাগ চালুসহ প্রতিবন্ধী কর্নার স্থাপন, ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সংবলিত জেনারেল হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে বহির্বিভাগীয় ও আন্ত:বিভাগীয় চিকিৎসাসেবার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চসিক ৭৮টি সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, সাধারণ রোগীর সেবা, টিকাদান কর্মসূচি, বস্তিবাসীসহ নানাক্ষেত্রে নামমাত্র মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকে। মাদকসেবীদের পাশাপাশি ধূমপায়ীদেরও নিরুৎসাহিত করতে হবে। চলতি বছরে এ-খাতে দুই কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মেয়রের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে আগ্রাবাদস্থ সিঙ্গাপুর-ব্যাঙ্কক মার্কেটটি ১১-তলায় উন্নীত করা হবে। এখানে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ তলা থেকে ৫ তলা পর্যন্ত সেন্ট্রাল এসি, ৫ম তলায় ফুডকোর্ট, সিনেপ্লেক্স, কিডস্ জোন, ১ম থেকে ৫ম তলা পর্যন্ত উন্নত মানের টাইল্স স্থাপন, ৪টি লিফ্ট, ২টি ক্যাপসুল লিফ্টসহ ৬টি উন্নত মানের লিফ্ট, স্ট্যান্ড বাই জেনারেটর স্থাপন, ১ম তলা থেকে ৫ম তলা আধুনিক মানসম্মত ইন্টেরিয়র ও এক্সটরিয়র, সিসি টিভি, ফায়ার ফাইটিং, পিএ সিস্টেম, ফ্রি ওয়াইফাই জোন এবং মার্কেট এরিয়ায় এস্কেলেটর পুনঃস্থাপন কাজ করা হবে।

এছাড়া বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির অর্থায়নে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি ৬ তেকে ১১ তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করে আধুনিক সুযোগসুবিধা সম্বলিত আইটি ভিলেজে রূপান্তরিত করা হবে। এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক গত ১৮ জুলাই তারিখে স্বাক্ষরিত হয়।

জাইকার অর্থায়নে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে পোর্ট কানেকটিং রোড এবং আগ্রাবাদ এক্সেস রোডকে ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান। বন্দরের দৈনিক ৭/৮ হাজার অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান এবং প্রাইম মুভার প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করে। কিন্তু এত বিপুল পরিমাণ গাড়ি চলার মত আয়তন বা ধারণক্ষমতা এ সড়কের নেই। উভয় পাশে পরিকল্পিত ফুটপাথ ও আরসিসি. ড্রেনসহ ছয় লেনে উন্নীত হলে সড়কে সৃষ্ট যানজট সমস্যা নিরসন হবে এবং পথচারীগণ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবে। প্রকল্প বাস্তবায়নকালীন সময়ে নগরবাসীর সাময়িক অসুবিধার জন্য যদিও মেয়র দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশ সরকার, থাইল্যান্ডের রাজপরিবার ও সাইপাতনা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় নগরীর পাহাড়সমূহের ক্ষয়রোধকল্পে বিন্না ঘাস পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে টাইগারপাস বাটালি হিল মিঠা পাহাড়ের পাদদেশে ভেটিভার গ্রাস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার ‘বিন্না ঘাস’ প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়। থাইল্যান্ডের রাজকন্যা মহাচাক্রী সিরিনধরন বিন্না ঘাস রোপণ ও বিন্না ঘাস প্রদর্শনী অবলোকন করেন। এ পাইলট প্রকল্পের সফলতা সাপেক্ষে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে এবং চট্টগ্রাম এলাকায় ভূমি ধস রোধে ভূমিকা রাখবে।

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বিগত ৩ বছরে নগরীর প্রতিটি সড়কের পাশে পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প সিডিএ-কে অনুমোদন দিয়েছেন। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর মাধ্যমে তা সম্পন্ন হবে। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও চসিক সরকারের প্রকল্প সহায়তায় জলাবদ্ধতা নিরসণে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে চট্টগ্রামের পরিবেশ বদলে যাবে।

তবে মেয়র নাছির নির্বাচনী ইস্তেহারে প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়ন তদারকিতে সমন্বয় কমিটি গঠনের কথা এবং সিটি করপোরেশনের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে উপদেষ্টা কমিটি গঠনের কথা বলেলেও সেই কাজটি করেননি গত তিন বছরে। এছাড়া পুরা নগরেকে ওয়াইফাই জোনের আওয়াতায় আনাসহ আরো অনেক প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তাবায়ন করতে পারেননি।

একুশে/এডি