১৮ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার

‘বঙ্গবন্ধুর আনুকূল্য নেননি, নিয়েছিলেন মমতা-জড়ানো কম্বল’

প্রকাশিতঃ সোমবার, জুলাই ৩০, ২০১৮, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন কমিশনার, নারীনেত্রী অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু বলেছেন, ‘মৃত্যু’ পৃথিবীর অনিবার্য সত্য। এই অনিবার্য সত্যের মাঝেই কিছু মানুষ জন্মগ্রহণ করেন মৃত্যুকে জয় করবার জন্য। আহমদ ছফা তেমনই একজন, যিনি মৃত্যুকে জয় করেছেন। তিনি মৃত্যুঞ্জয়ী। পৃথিবী নামক গ্রহ যতদিন থাকবে ততদিন আহমদ ছফা থাকবেন।

শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভা অডিটরিয়ামে শুদ্ধ বানানচর্চা (শুবাচ) আয়োজিত বাংলা সাহিত্যের কীর্তিমান পুরুষ আহমদ ছফার ১৮ তম প্রয়াণ দিবসের আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই কথা বলেন।

শুদ্ধ বানানচর্চার সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক-লেখক নুরুল আলমের সঞ্চালনায় এবং সংগঠনের সভাপতি, লেখক-ছড়াকার শাহজাহান আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চন্দনাইশ পৌরসভার মেয়র মাহবুবুল আলম খোকা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক একরাম হোসেন, লেখক-গবেষক এম ওসমান গণি, পিপিএস পরিচালক নুরুল হক চৌধুরী, হুলাইন ছালেহ নূর কলেজের অধ্যাপক তৈয়বুর রহমান, গবেষক সোহেল মো. ফখরুদ্দিন, স. ম জিয়াউর রহমান, বেলাল হোসেন মিঠু, অধ্যক্ষ ইউনুছ কুতুবী।

বক্তব্য রাখেন রতন দাশগুপ্ত, সিরাজুল ইসলাম, একেএম ইউসুফ, তানভীর সিদ্দিকী, জসিম উদ্দিন, আহমদুর রহমান, বাদশা মিয়া, জাকের হোসেন, মহিউদ্দিন ইছা, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

অ্যাডভোকেট রানু বলেন, আহমদ ছফা রাষ্ট্রের শাণিত বিবেক। কারণ তিনি মানুষ হয়ে উঠেছিলেন। আমরা সবাই জন্মগ্রহণ করি প্রাণী হয়ে, কিন্তু মানুষ হয়ে উঠি না। প্রাণী হয়েই কবরে যাই। আহমদ ছফা সাহিত্যিকদের সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীদের বুদ্ধিজীবী। আহমদ ছফার পায়ের পাতা, আছে সকলখানে পাতা।

আহমদ ছফাকে বাংলা সাহিত্যের ধ্রুবতারা উল্লেখ করে রানু বলেন, ধ্রুবতারারা শুধু দিকনির্দেশনাই দেয়। তাদের কখনো মৃত্যু হতে পারে না। আমি বলবো আহমদ ছফার একই অঙ্গে অনেক রূপ। রঙধনুর সাতরঙ হলে তাঁর হাজারো রঙ।

রেহানা বেগম রানু বলেন, আহমদ ছফা কেবল চন্দনাইশের সন্তান নন, তিনি পুরো বাংলাদেশের সন্তান। জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। অনবদ্য, অমর সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে তিনি আমাদের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকবেন। জীবদ্দশায় তিনি কারো আনুকূল্য দয়া-দাক্ষিণ্য গ্রহণ করেননি। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব তিনি সানন্দে ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন আমাকে ধারণ করার ক্ষমতা আপনার সরকার কিংবা প্রশাসনের নেই। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর দেয়া কম্বল ঠিকই তিনি মৃত্যু পর্যন্ত জড়িয়ে ছিলেন। কোনো কাপড় তিনি বেশিদিন পরতেন না। অথচ শীত চলে যাওয়ার পর লন্ড্রি থেকে সেই কম্বল ওয়াশ করে এনে তালাবদ্ধ করে রাখতেন। এখানেই আহমদ ছফা ব্যতিক্রম। বঙ্গবন্ধুর আনুকূল্য তিনি নেননি, কিন্তু তাঁর মমতা জড়ানো কম্বল ঠিকই নিয়েছেন এবং তা সযত্নে সংরক্ষণ করেছেন মৃত্যু অবধি।

একুশে/এসআর/এটি

প্রিন্ট করুন