১৭ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, শুক্রবার

মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত!

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৩, ২০১৮, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম: মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোরবানির পশুর চামড়া আড়তদার কিংবা পাইকাররা নায্যমূল্যে কিনছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

নগরের বিবিরহাট থেকে আতুরার ডিপো এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাঁচা চামড়া নিয়ে পাইকারদের অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা গেছে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের।

সাধারণত ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই অনেকেই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে চামড়া কিনে নেন, এ ছাড়া মাদ্রাসার জন্য অনেকেই চামড়া সংগ্রহ করেন- যাদেরকে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী হিসেবে ধরা হয়।

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের যেহেতু কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের সুযোগ থাকে না, তাই তারা যতটা দ্রুত সম্ভব তা আড়তদারদের হাতে তুলে দিতে চান। কিন্তু আড়তদাররা এখনই সব চামড়া কিনছেন না বলে অভিযোগ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

তবে আড়তদারদের ভাষ্য, গতবারের তুলনায় এবার দাম কম নির্ধারণ করায় পশুর চামড়া কেনায় তাড়াহুড়ো করছেন না। তাদের আশা, এতে কম দামে চামড়া সংগ্রহ করা যাবে।

এদিকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আড়তদাররা কাঁচা চামড়া সংগ্রহের পর লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করেন। পরে তাদের কাছ থেকে সেই চামড়া সংগ্রহ করেন ট্যানারি মালিকরা। কিন্তু আড়তদাররা সংগ্রহ না করায় নগরের বিবিরহাট থেকে আতুরার ডিপো এলাকায় সড়কে পড়ে থাকছে কাঁচা চামড়া। এতে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

নগর পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা একুশে পত্রিকাকে বলেন, বুধবার রাতে চামড়া প্রতি তিনশ’ থেকে পাঁচশ’ টাকায় কিনেছেন আড়তদাররা। অস্বাভাবিক কম দামে অনেকেই বিক্রি করতে চাননি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেই চামড়া এক-দুইশ’ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে না। কারণ কেউ কিনতে রাজী হচ্ছেন না।

তিনি বলেন, সড়কে চামড়া পড়ে থাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সাথে যোগাযোগ করা হয়। তখন তারা পুলিশকে জানান, আড়তদারদের কোন চামড়া রাস্তায় পড়ে নেই; যা আছে সব মৌসৃমি ব্যবসায়ীদের। সিটি করপোরেশন থেকে বলা হচ্ছে, কাঁচা চামড়ার জন্য সড়কের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, চলাফেরা কষ্টের হয়ে পড়েছে মানুষের। কিন্তু এখন পুলিশ কী করবে? মৌসুমি ব্যবসায়ীদের লাটিচার্জ করে তুলে দিতাম? এটা কী সম্ভব? কঠিন সমস্যায় পড়েছি আমরা।

এবছর ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। এছাড়া খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৮-২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতবছর প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং খাসির চামড়া ২০-২২ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫-১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

১০টি চামড়া নিয়ে আতুরার ডিপো এলাকায় আড়তদারদের কাছে যাওয়া সেলিম উদ্দিন বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার চামড়ার দাম কম। ৮০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকায় একেকটি গরুর চামড়া কিনেছি। কিন্তু আজকে পাইকাররা পাঁচশ টাকাও বলছে না।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী এবছর চামড়ার দাম গতবছরের তুলনায় কম। তবুও বাড়তি দামে কাঁচা চামড়া কিনতে হয়েছে। আড়াই লাখ চামড়া আড়তে সংগ্রহ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের ২২টি ট্যানারি ছিল। এরমধ্যে ২০টি বন্ধ হয়ে গেছে। চামড়া শিল্প এখন পুরোটাই ঢাকা কেন্দ্রিক হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছে এখনো অনেক চামড়া পড়ে আছে। সংগ্রহ করা চামড়া ট্যানারিতে বিক্রির পর বাকি চামড়াগুলো আড়তদাররা নিশ্চয় সংগ্রহ করবে।

ছবি- আকমাল হোসেন।