১৮ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার

‘ক্ষুদ্র খামারীরা লোকসান গুনতে বাধ্য হচ্ছেন’

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮, ১০:০৩ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম: পোল্ট্রি শিল্পের সাথে যুক্ত ক্ষুদ্র খামারীরা লোকসান গুনতে বাধ্য হচ্ছেন বলে উঠে এসেছে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায়।

মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম কর্তৃক আয়োজিত পোল্ট্রি সেক্টরে সুশাসন বিষয়ক মাল্টি স্টেকহোল্ডারদের কর্মশালায় বক্তারা এ কথা বলেন। ইউকে এইড ও বৃটিশ কাউন্সিলের সহায়তায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ক্ষুদ্র খামারীরা পোল্ট্রি ফিডের অতিরিক্ত মূল্য, বাচ্চার দাম বেশী, ক্ষুদ্র শিল্পের সুবিধা না পেয়ে বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিলের বোঝা বহন, পরিবেশের ছাড়পত্র নিতে নানা ভোগান্তি, সিটি কর্পোরেশন লাইসেন্স ফি বেশী, ব্যাংক ঋণ সুবিধা না পেয়ে ক্ষুদ্র খামারীরা লোকসান গুনতে বাধ্য হচ্ছে।

‘পোল্ট্রি শিল্পের সাথে ৬০ লক্ষ লোক জড়িত থাকলেও তারা ক্ষুদ্র শিল্পের মর্যাদা না পাওয়ায় সরকারী অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। খুচরা পোল্ট্রি বিক্রেতারা যত্রতত্র পর্যাপ্ত পানি ছাড়া জবাই করে পোল্ট্রি মাংস বিক্রি করার কারনে নিরাপদ পোল্ট্রি মাংস সরবরাহ অনেক জায়গায় বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন বলেন, কৃষি, মৎস্য, পশু সম্পদ সেক্টরে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কারনে সকলের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। মানুষ এখন আর না খেয়ে মরছে না। কিন্তু সকলের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এখনও সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, দেশের ১৭ কোটি মানুষের প্রানীজ আমিষের যোগান পোল্ট্রি সেক্টর দিয়ে থাকে। সে কারনে পোল্ট্রি খাদ্য নিরাপদ উৎপাদন, বিপনন যেমনি দরকার, তেমনি পোল্ট্রির মাংসও নিরাপদ করার জন্য সরকারি-বেসরকারী এবং ভোক্তাদের পক্ষ থেকে ব্যাপক সচেতনতা প্রয়োজন। কারন ভোক্তা পর্যায়ে যখন পোল্ট্রি বিক্রি করা হয় তখন তারা সঠিক ভাবে জবাই, সংরক্ষন ও পর্যাপ্ত পানি দিয়ে পরিস্কার করে না।

‘বিষয়গুলি যথাযথ অনুসরণ করা না হলে পোল্ট্রির মাংস নিরাপদ হবে না। আর এ সুযোগে কিছু অসাধু লোকজন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করে পুরো পোল্ট্রি শিল্পকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। আবার বৃহৎ কর্পোরেট গ্রুপ গুলি পোল্ট্রি খাতে সিন্ডিকেট তৈরি করে সাধারন ভোক্তাদের জিম্মি করতে পারে।’

সকলের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বিশেষ করে পোল্ট্রি মাংস নিশ্চিত করতে সরকারী মান তদারকি প্রতিষ্ঠান জেলা প্রশাসন, প্রাণী সম্পদ অফিস, বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ক্যাবের ঐক্যবদ্ধ সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক।

ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে ও ক্যাব’র বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার সাবেরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম পুর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার সেন, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডাঃ আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাশহুদুল কবির, জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রিয়াজুল হক জসিম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাসানুজ্জমান ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সংযুক্তা দাশ গুপ্ত।

কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোঃ নাসির উদ্দীন, বিএসটিআই’র সহকারি পরিচালক মোস্তাক আহমদ, চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশল মোঃ নুরুল আমিন, কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানীর উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আমিনুর রহমান, বৃহত্তর চট্টগ্রাম পোল্ট্রি খামারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, নাহার এগ্রোর মহাব্যবস্থাপক মনোজ চৌহান, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, সদস্য জানে আলম, জান্নাতুল ফেরদৌস, ফারজানা আখতার, ফতেয়াবাদ চিকস’র মুসলেম উদ্দীন। মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন থানা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সেতু ভুষণ দাশ ও ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বৃটিশ কাউন্সিলের ‘প্রকাশ’ প্রকল্পের সমন্বয়কারি শ্যামল চাকমা।

কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারী কর্মকর্তা, খামারী, ওষুধ, পোল্ট্রি ফিড মিল, বিক্রেতা, লাইভ বার্ড বিক্রেতা, সাংবাদিক ও ক্যাব প্রতিনিধিরা অংশগ্রহন করেন।

প্রিন্ট করুন