১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, সোমবার

‘তিন পার্বত্য জেলায় পুনর্বাসিত হচ্ছে ৮১ হাজার’

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮, ৮:২৮ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম: ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) বলেছেন, পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ৮১ হাজার ৭৭৭টি উদ্বাস্তু পরিবার শীঘ্রই সরকারি অর্থায়নে পুনর্বাসনের আওতায় আসছে।

২৫সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং মঙ্গলবার নগরীর সার্কিট হাউজে আয়োজিত টাস্কফোর্সের ৯ম সভায় সভাপতির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

উদ্বাস্তু পরিবারগুলোর তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে সরকার গঠিত টাস্কফোর্স। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এছাড়া পুনর্বাসনের জন্য ভারত থেকে প্রত্যাগত যারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে গিয়ে পুনঃরায় এদেশে ফিরে এসেছে এমন ২১ হাজার ৯শ’ শরণার্থী পরিবারের তালিকাও অনুমোদন দিয়েছে টাস্কফোর্স। এছাড়াও উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের ঋণ মওকুফ, ফৌজদারী মামলা প্রত্যাহার, প্রত্যাগত শরণার্থীদের চাকরিতে জ্যেষ্ঠতা প্রদান, রেশন দেওয়া এবং টাস্কফোর্স সদস্যদের সম্মানি ভাতার বিষয়েও বিবেচনায় রেখেছে সরকার।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে দিতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। এখানে পাহাড়ি বা বাঙালি কোন ভেদাভেদ নেই। সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। তিন পার্বত্য জেলার উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের পুনর্বাসনে সরকার গঠিত টাস্কফোর্স আরও কার্যকর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় উদ্বাস্তু ও শরণার্থী পরিবারের তালিকা থেকে কোনো পরিবারের নাম বাদ পড়লে তাদের দ্বিতীয় তালিকায় যোগ করা হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় পরিচালক (স্থানীয় সরকার) দীপক চক্রবর্তী, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মানিক লাল বণিক, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম, বান্দরবান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ, শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের প্রধান নির্বাহী কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা, খাগড়াছড়ি রিজিয়নের জিএসও-২ আই মেজর মো. রফিকুল ইসলাম, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি অংগুই প্রু চৌধুরী ও পিসিজেএসএস’র প্রতিনিধি গুণেন্দ্র বিকাশ চাকমা।

মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিষয়ে বিগত ৮ম টাস্কফোর্স সভার সিদ্ধান্তসহ বাস্তবায়ন সম্পর্কে আলোকপাত করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. নুরুল আলম নিজামি।

বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেন, টাস্কফোর্স সদস্যদের সভা প্রতি সম্মানি ভাতা আমরা দেবো। তবে মাসিক সম্মানি ভাতার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। অনুমতি পেলে সেটিও ব্যবস্থা করা হবে।

ঋণ মওকুফের বিষয়ে টাস্কফোর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা সভায় জানান, উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের ঋণ মওকুফ করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পক্ষ থেকে ঋণদাতা সোনালি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক এবং বিআরডিবির ব্যাবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি অগ্রগতির পর্যায়ে রয়েছে।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুরুল আলম নিজামী বলেন, প্রত্যাগত শরণার্থীরা সরকারি চাকরিতে জ্যেষ্ঠতা সুবিধা ভোগ করছেন। এ পর্যায়ের ২৬২ কর্মকর্তাদের মধ্যে ২৫৫ জন কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠতা সুবিধা ভোগ করছেন।