১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, সোমবার

চবি ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিলেও সংঘর্ষ, আহত ৬

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১১, ২০১৮, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

চবি প্রতিনিধি : ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার রায়ের আনন্দ মিছিলকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যাল চবি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে উভয় পক্ষের ৬ নেতাকর্মী।

বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে ঘটনার শুরু হয়। পরে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে বিকেল চারটার দিকে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে।

সংঘর্ষে জড়ানো দুই গ্রুপ বিজয় ও সিএফসি আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার রায়কে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে অবস্হান কর্মসূচি ও বিজয়মিছিল করে বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা। বেলা দেড়টার দিকে বিজয় গ্রুপের সিনিয়র নেতাকর্মীরা প্রক্টর অফিসে আলোচনার সময় বাইরে অবস্থানরত তাদের জুনিয়র নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় সিএফসি অনুসারী নেতাকর্মীরা। মূলত সেখান থেকে ঘটনার সূত্রপাত।

এসময় বিজয় গ্রুপের ৩ নেতাকর্মী আহত হন। তারা হলেন অর্থনীতি বিভাগের ২০১৬-২০১৭ সেশনের মোহাইমিনুল হোসাইন, লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের সাদ্দাম হোসাইন এবং ইসলামিক স্টাডিস বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের নাছিম চৌধুরী।

পরে বেলা চারটার দিকে বিজয়ের নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে সতর্কমূলক অবস্থান গ্রহণ করলে সিএফসি অনুসারী এক নেতা সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে বিজয়ের কর্মীদের উসকানিমূলক কথা বলে এবং পিস্তল দেখায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিজয়ের নেতাকর্মীরা সিএফসি গ্রুপের উপর চড়াও হয়। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলে হামলা করে এবং তাদের ধাওয়া দেয়। এসময় সিএফসির নেতাকর্মীরা আমানত হলের চাদ থেকে পাল্টা ইটপাটকেল ছোড়ে।

এ ঘটনায় সিএফসির ৩ জন আহত হন। তারা হলেন আইন বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের সাদাফ কবির, ইসলামিক শিক্ষা বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শরীফ উদ্দীন এবং আবু নাহিয়ান রাফি।

পরে দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং দুদিক থেকে ইট ছোড়া হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ও প্রক্টরের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিজয় গ্রুপের সিনিয়র নেতা ফজলে রাব্বি সুজন বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের ছেলেরা সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে অবস্থান নেয়। পরে নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল নিয়ে প্রক্টর অফিসের সামনে যায়। তারা প্রক্টরের সাথে আলোচনা অবস্থায় সিএফসির নেতাকর্মীরা তাদের উপর হামলা চালায়। তারা হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আহত করে। পরে ছাত্রলীগের সুনাম রক্ষার্থে আমরা ঝামেলা এড়িয়ে শাহ আমানত হলের সামনে না গিয়ে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে দিয়ে সোহরাওয়ার্দী হলে অবস্থান নিই। এসময় তাদের এক কর্মী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য মোটরবাইকে এসে আমাদের ছেলেদের উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে এবং ছেলেদের পিস্তল দেখায়। এতে ছেলেরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের উপর চড়াও হয়।

সিএফসি গ্রুপকে বিএনপির এজেন্ডা মন্তব্য করে সুজন বলেন, আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী মুজিব আদর্শের কর্মী হতে পারে না। তারা যদি সত্যিকারের ছাত্রলীগকর্মী হত তাহলে আজকের এমন আনন্দের দিনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করত না।

সিএফসি গ্রুপের নেতা ও ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জামান নূর বলেন, তারা আমাদের ছেলেদের উপর হামলা চালিয়েছে। আজকের এই দিনে আমাদের ছেলেদের উপর হামলা আমরা কোনোভাবে মেনে নেব না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বিশৃঙ্খলায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একুশে/আইএস/এটি