১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, সোমবার

কোরিয়ান শিক্ষার্থীরা জানলেন-পড়লেন বঙ্গবন্ধুকে

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১১, ২০১৮, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ

দক্ষিণ কোরিয়া : কোরিয়ান শিক্ষার্থীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জানলেন, পড়লেন এবং লিখলেন রচনা। তাদের এই জানা এবং পড়ালেখার সুযোগটি করে দিয়েছে বাংলাদেশ কোরিয়ান দূতাবাস।

এজন্য কোরিয়া দূতাবাস আয়োজন করেছে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার। এই আয়োজনে সহযোগিতা করেছে কোরিয়ান সেকেন্ডারি স্কুল ইংলিশ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (কোসেকা)।

বুধবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে সিউলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস হলরুমে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সিউলের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ২৮ শিক্ষার্থী, কোসেটার প্রেসিডেন্ট যু ছেওল, শিক্ষক পার্ক হাইয়ুন জো অংশগ্রহণ করে।

দীর্ঘ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানের একমাসে আগে শিক্ষার্থীদের মাঝে দূতাবাসের পক্ষ থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও কর্মকাণ্ড বিষয়ক বিভিন্ন বই, প্রবন্ধ ও অনলাইন লিঙ্ক সরবরাহ করা হয়। শিক্ষার্থীরা যাতে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করে এবং দূতাবাসের এই আয়োজনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারে।

দূতাবাসের প্রথশ সচিব (শ্রম) এর সঞ্চালনায়, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সূচনা বক্তব্যে দূতাবাসের বাণিজ্য বিষয়ক কাউন্সেলর অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্দেশ্য তুলে ধরে আয়োজনে কোসেটার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম শুভেচ্ছা বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই মহান নেতার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বাংলাদেশ গঠনে তাঁর অবদান সম্পর্কে অবহিত হবার পর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধু এবং তার বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশকে জানতে আরো বেশি অনুপ্রাণিত হবে। যা বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় ও মজবুত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের পর জাতির পিতার জীবনী ও কর্মকাণ্ডের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর দূতাবাসের প্রথম সচিব ও দূতাবাস প্রধান ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ বিষয়ক একটি তথ্যবহুল উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতিসহ বঙ্গবন্ধুর জন্ম হতে শুরু করে তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও অবদান তুলে ধরেন। যা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে।

কোসেটার প্রেসিডেন্ট যু ছেওল বাংলাদেশ দূতাবাসকে এধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজনে দূতাবাসের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। শিক্ষার্থীরা ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ সম্পর্কিত স্বরচিত ১৩টি রচনা জমা দেন দূতাবাসের কাছে।

অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্র এবং ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক উপস্থাপনার আলোকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন ও বিজয়ীদের মাঝে পুরূস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানশেষে উপস্থিত সবাইকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারে আপ্যায়ন করা হয়।

একুশে/ওএফএইচ/এটি