১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার

আদালত কর্মচারী ও তার বৃদ্ধা মাকে নির্যাতন, দুই পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১, ২০১৮, ১:০১ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে আদালত কর্মচারী ও তার বৃদ্ধা মাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও ‘ক্রসফায়ারের’ হুমকির অভিযোগে বোয়ালখালী থানার দুই পুলিশ সদস্য ও তাদের এক সোর্সের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ ইসমাইল হোসেনের আদালতে মামলাটি করেন ভুক্তভোগী ছকিনা বেগম (৭০)।

অভিযুক্তরা হলেন বোয়ালখালী থানার এসআই মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫), এএসআই মনির আহাম্মদ (৪২) ও পুলিশের কথিত সোর্স মো. রাসেল (৩২)।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দুদক আইনের ৫(১)/(২) এবং দণ্ডবিধির ১৬৬, ৩২৬, ৩০৭ ও ৩৬৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, মামলাটি গ্রহণ করে আদালত দুটি আদেশ দিয়েছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে এফআইআর রেকর্ড করার জন্য দুদকের পরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দণ্ডবিধির অন্য ধারাগুলোতে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রামের মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর বেলা ১২৩টার দিকে বোয়ালখালীর ঘোষখীল আব্দুল মুনাফের বাড়িতে যান দুই পুলিশ সদস্য ও এক সোর্স। এ সময় ছকিনা বেগমের ছেলে নুরুল আমিকে খুঁজতে থাকেন তারা। তখন আমিনের মা বলেন, সে শহরে চাকুরিতে। তখন বাদীনিকে একটা কাগজে টিপসই দিতে বলেন তারা। কারণ জানতে চাইলে অকথ্য ভাষায় গালাগালির পাশাপাশি মাথার চুল ধরে মুখে থাপ্পর মারতে থাকেন এসআই দেলোয়ার হোসেন।

তখন এগিয়ে আসেন ছকিনা বেগমের ছেলে পটিয়া আদালতের নৈশপ্রহরী নুরুল হাছান। তখন মা-ছেলে দুইজনকেই মারতে থাকেন পুলিশ সদস্যরা। এতে বৃদ্ধা নারীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছিঁড়ে যায় এবং কাপড়ও খুলে যায়। একপর্যায়ে হাছানকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় তারা। নেওয়ার আগে স্থানীয় লোকজনকে পুলিশ বলে, ওয়ারেন্ট থাকায় হাছানকে নিয়ে যাচ্ছে।

এতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এরপর সেদিন রাত ৮টায় থানা হাজতের পাশের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে মেঝেতে ফেলে হাছানকে বুট জুতা দিয়ে গলায় লাথি মারতে থাকে এএসআই মনির আহাম্মদ। পরে লোহার রড দিয়েও পৈশাচিক কায়দায় মারতে থাকেন এসআই দেলোয়ারসহ। এক লক্ষ টাকা না দিলে অস্ত্র ও মাদক মামলায় ফাঁসানো ও ক্রসফায়ারের হুমকিও দেয় তারা। সেদিন রাত ২টায় পুলিশকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সাদা কাগজে সাক্ষর করে মুক্তি পান হাছান।

প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে বোয়ালখালী থানায় ওসি হিসেবে সাইরুল ইসলামের যোগদানের পর সেখানে বদলি হয়ে যান এএসআই মনির আহাম্মদ। এর আগে ২০১৫ সালে চান্দগাঁও থানায় ওসি সাইরুলের দায়িত্ব পালনকালে সেখানেও এএসআই মনির কর্মরত ছিলেন; তখন তাদের বিরুদ্ধে টাকা হাতাতে ‘আটক-বাণিজ্যে’ যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

২০১৫ সালের ৫ নভেম্বর চান্দগাঁও থানার ওসি সাইরুল ইসলামসহ আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন সাত ব্যক্তি। তাদের বিরুদ্ধে ফাঁদে ফেলে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়, মাদক দিয়ে মামলায় জড়ানো, টাকার বিনিময়ে অব্যাহতি দেয়া, দুর্ব্যবহার, ধরে নিয়ে গুলি করাসহ বেশকিছু অভিযোগ করা হয়। তৎকালীন সিএমপি কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডলের নির্দেশে এসব অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি চান্দগাঁও থানা থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়া হয় এএসআই মনিরসহ অভিযুক্ত সাত পুলিশ কর্মকর্তাকে। একই বছরের ৩ ডিসেম্বর চান্দগাঁও থানা থেকে ওসি সাইরুল ইসলামকে নগর গোয়েন্দা পুলিশে বদলি করা হয়।