১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫, রবিবার

গৃহকর্মীকে খুনের অভিযোগ, চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১, ২০১৮, ১০:২৭ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে এক গৃহকর্মীকে খুনের অভিযোগে হোমিও চিকিৎসক দম্পতি ও তাদের মেয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিচারিক হাকিম শিপলু কুমার দে এর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নিহতের বাবা রমজান আলী (৪৫)।

অভিযুক্তরা হলেন- মো. মোস্তফা মজুমদার (৫০), তার স্ত্রী ফেরদৌস মজুমদার (৪৫) ও তাদের মেয়ে স্মৃতি মজুমদার (২৮)। তারা ফটিকছড়ি থানার বিবিরহাটের কোর্টের পাড় এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন তারা।

অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রী দুজনই হোমিও চিকিৎসক বলে জানান বাদীর আইনজীবী প্রথিত বড়ুয়া জনি।

তিনি বলেন, মামলাটি গ্রহণ করে ফটিকছড়ি থানার ওসিকে তদন্ত করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার বাদী রমজান আলী চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার মানিকপুর গ্রামের একজন বাসিন্দা। তিনি পেশায় ভ্যান চালক। তার মেয়ে কুসুম আক্তার নগরীর জিইসি মোড়ের অভিযুক্তদের বাসায় মাসিক দেড় হাজার টাকায় গৃহকর্মী হিসেবে গত সাত মাস ধরে কাজ করে আসছিল।

হঠাৎ গত ২৪ অক্টোবর রাত ৩টার দিকে অভিযুক্তরা বাদীকে ফোন করে জানান, কুসুম গুরুতর অসুস্থ। এর দুই ঘন্টা পর অভিযুক্তরা বাদীর ফটিকছড়ির গ্রামের বাড়ির উঠানে গিয়ে বাদীকে ডাকাডাকি করেন। বাদী ঘুম থেকে উঠে দরজা খুললে আসামিদেরকে দেখতে পান। তারা বাদীকে বলেন, তার মেয়ে বেঁচে নেই, তারা লাশ নিয়ে এসেছেন। এরপর তারা কুসুম আক্তারের লাশ উঠানে রেখে সুকৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে আসেন।

পরে কুসুম আক্তারের লাশ গোসল করানোর সময় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান এবং ঝলসে যাওয়া দাগের চিহ্ন দেখা যায়। গোসল করানোর সময় লাশে শরীর থেকে পঁচা দুর্গন্ধ বের হয়। পঁচা গন্ধের কারণে গ্রামের লোকজন বাধ্য হয়ে লাশ দ্রুত কবর দিয়ে দেয়।

এতে আরো উল্লেখ করা হয়, এরপর বাদী অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা কুসুম আক্তারের মৃত্যু সম্পর্কে একেক সময় একেক রকমের কথা বলতে থাকেন। এতে বাদীর সন্দেহ হওয়ায় ফটিকছড়ি থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।