১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার

সিডিএ’র অনুষ্ঠানে নেই সিডিএ চেয়ারম্যন!

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১, ২০১৮, ৭:০০ অপরাহ্ণ

রাকীব হামিদ : ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার ৫৬ জেলার ৩২১টি উন্নয়নপ্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে চট্টগ্রামে সিডিএ’র দুটি প্রকল্পের উদ্বোধন ও একটি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর এসব প্রকল্প উদ্বোধন উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তাতে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। পক্ষান্তরে সিডিএ তাদের তিনটি প্রকল্পের জন্য নগরীর হল-২৪ এ আয়োজন করে পৃথক অনুষ্ঠানের। যেখানে প্রায় এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

অবাক করা বিষয়,নিজের সংস্থার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না খোদ সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।তিনি উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হল ২৪ এ অবস্থান করে দেখে যায়, এক হাজার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন হলটিতে বড়জোর ২শ’ জনের উপস্থিতি ছিল। সামনের দিকে ৪-৫ সারি বাদে পেছনের প্রায় চেয়ার ছিল খালি।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম নগর আ.লীগের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সুনীল সরকার, দক্ষিণ জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম নগর মহিলা লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন, নগর আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, উত্তর জেলা মহিলা লীগের সভাপতি দিলোয়ারা ইউসুফ, দক্ষিণ জেলা মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক লুবনা হারুন, সিডিএ’র বোর্ড মেম্বার ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব ছাড়া উল্লেখযোগ্য আর কারো উপস্থিতি চোখে পড়েনি। তবে মোহরা এবং বাকলিয়া এলাকার মানুষের উপস্থিতি ছিল স্বত:স্ফূর্ত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপস্থিত একজন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ভেবেছিলাম ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আমরা সম্পৃক্ত হবো। প্রধানমন্ত্রীর দেখা পাবো। সেই কারণে সকাল সকাল এখানে এসে হাজির হই। এসেই দেখি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংযোগ দূরের কথা বিটিভিতে প্রচারিত প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানটিও ভালোভাবে দেখতে পারিনি হল ২৪ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ত্রুটির কারণে।

জানা গেছে, বসে থাকা ছাড়া তেমন কোনো আয়োজন না থাকায় ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত খোশগল্প করেই কাটিয়েছেন বেশিরভাগ অভাগ্যত। এসময় তাদের মাঝে ওয়েল ফুডের কেক, মিষ্টি, স্যান্ডউইচ, চমুচা, পানি সম্বলিত প্যাকেট সরবরাহ করা হয়।

প্যাকেট হাতে পেয়ে ক্ষুব্ধ একজনকে বলতে শোনা যায়, দাওয়াত দিয়ে সালাম সাহেব নিজেই নেই। আমরা কি তার (ছালাম) ওয়েল ফুডের কেক খেতে এসেছি? তিনি জেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপস্থিত থাকলে এখানে এই আয়োজনের কী দরকার ছিল।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম একুশে পত্রিকাকে জানান,’পাঁচ মিনিটের জন্য ডিসি অফিসে গিয়েছিলয়াম।উনাকে একটু দেখা দিয়ে আসলাম আর কী। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কানেক্টিভিটির সুবিধা থাকলেও, হল২৪ কনভেনশান সেন্টারে কানেক্টিভিটির সুবিধা ছিল না। যদি থাকতো তাহলে আমি ডিসিকে এখানে নিয়ে আসতাম।’

হল২৪-এ আগতদের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আনা যেত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,’আমার নেতাকর্মীদের সেখানে (জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে) নিয়ে গেল প্রচারণা কে করত? সামনে নির্বাচন, একমাস বাকি মাত্র।প্রচার প্রচারণা ও নেতাকর্মীদের জন্যেই তাই আলাদা আয়োজন করেছিলাম।’

এদিকে হল ২৪ এর ম্যানেজার হালিম একুশে পত্রিকাকে জানান, সিডিএ’র পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানটির জন্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে হলটি ভাড়া করা হয়েছে। এত টাকা ব্যয়ে অনুষ্ঠানটি কেন, কী উদ্দেশ্যে করা হলো তার উত্তর ছিল না উপস্থিত অনেকের কাছে।

একুশে/আরএইচ/এটি