১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার

ঐক্যফ্রন্টের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে’র দাবি মেনে নেয়া হয়েছেঃ ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, নভেম্বর ২, ২০১৮, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

ঢাকাঃ সাড়ে তিন ঘণ্টার সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাতদফা দাবির মধ্যে সভা-সমাবেশ করার ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের দাবিটি মেনে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী ধৈর্য সহকারে শুনেছেন। প্রধানমন্ত্রী পরিস্কার বলেছেন সংবিধান অনুযায়ী মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবার আছে। তাই যে কোনো রাজনৈতিক দল সভা-সমাবেশ করতে পারবে। এতে কোনো আপত্তি নেই। তবে রাস্তা বন্ধ করে নয়, কোনো মাঠে সভা-সমাবেশ করতে বলেন তিনি। ঢাকায় সমাবেশের বিষয়ে সোহরাওয়ার্দ্দী উদ্যানে ভাড়া নেয়ার কথাও বলেন।

সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সাতদফা দাবির আরেকটি ছিল নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ। এ দাবিটিও মেনে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে সরকারের কোনো আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খালেদার মামলা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেষ হবে। এতে সরকারের কোনো হাত নেই। তাছাড়া তাঁর মামলা আমাদের সরকারের আমলে হয়নি।

আলোচনা ফলপ্রসূ দাবি করে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা খোলামেলা হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের সকল নেতার কথা প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ সহকারে শুনেছেন এবং মত প্রকাশ করেছেন। আজকের এই সাড়ে তিন ঘণ্টার সংলাপের পর যদি ওনারা বলেন আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি তাহলে আমাদের কী করার আছে।

এর আগে সোয়া ৫ টায় ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসা থেকে রওনা হয়ে ৬টা ৪০ মিনিটে গণভবনে পৌঁছান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। এসময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের স্বাগত জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলে ছিলেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে সক্রিয় জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমীন, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক দুই সংসদ সদস্য এসএম আকরাম ও সুলতান মো. মনসুর আহমেদ, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, তানিয়া রব, আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী ও মোস্তফা মহসিন মন্টু, মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক এবং শফিক উল্লাহ।

অন্যদিকে সংলাপে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রয়েছেন ২৩ প্রতিনিধি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের জোট শরিক দলগুলোর নেতারাও আছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, মো. আবদুর রাজ্জাক, কাজী জাফর উল্যাহ, আবদুল মতিন খসরু, রমেশ চন্দ্র সেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও জাসদের একাংশের সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল।

গত রোববার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে সাত দফা দাবি এবং ১১টি লক্ষ্য সংবলিত চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। মঙ্গলবার সকালে সে চিঠির জবাব আসে ড. কামালের বাসায়।

এরপর বিকল্পধারার পক্ষ থেকেও সংলাপে বসার আহ্বান জানানো হয়। আগামীকাল ২ নভেম্বর গণভবনে বিকল্পধারার সঙ্গেও সংলাপে বসবে ১৪ দল। একই ধারাবাহিকতায় অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও সংলাপের কথা রয়েছে।

একুশে/এসসি/আরএইচ