১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, মঙ্গলবার

সংলাপে সরকারের একগুঁয়েমী মনোভাব গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনে অশনি সংকেত : রিজভী

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, নভেম্বর ২, ২০১৮, ৩:২৬ অপরাহ্ণ

ঢাকা : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সরকারি জোটের সংলাপে সরকারের একগুঁয়েমী মনোভাব গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বড় ধরণের অশনি সংকেত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সংলাপে মানুষের মনে যে আশাবাদ জেগে উঠেছিল, সংলাপ শেষে সেই আশার মুকুল ঝরে যেতে শুরু করেছে; বলেন তিনি।

শুক্রবার (২ নভেম্বর) নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দীয় কার্যালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের নীতির কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সংলাপের জিগির তুলে সরকার একদিকে জনগণকে দেখাচ্ছে তারা কত আন্তরিক, অন্যদিকে সমানতালে নিষ্ঠুরতা ও পাশবিকতা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, জনগণের মুন্ডুপাতই আওয়ামী লীগের গ্রহণযোগ্য নীতি। আওয়ামী লীগ সহিষ্ণুতার শিক্ষা কখনোই গ্রহণ করেনি। সংলাপ শেষে ৭ দফা দাবির প্রতি সাড়া না দেয়ায় আওয়ামী অনঢ়তায় সুষ্ঠু নির্বাচনের অগ্রগতি তিমিরাচ্ছন্ন হলো।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাশুণ্য নির্বাচন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, জাতীয় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাশুণ্য করে সরকার একতরফা নির্বাচনের নিখুঁত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্র হাতে থাকলে সবকিছুই করা যায়।

আইনের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন সীমাহীন দুরে নক্ষত্রমন্ডলীতে অবস্থান করছে। বিচার বিভাগ, আইন আদালত সবাই নতজানু রাষ্ট্রীয় বন্দুকধারীদের কাছে। ক্ষমতাসীনদের মামলাগুলো ঝরে যায় আর বিরোধীদেরগুলো পুষে রাখা যায়। ঐ সময়ে দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে একই ধরণের মামলায় জড়ানো হয়েছিল। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর শেখ হাসিনার মামলা প্রত্যাহার হয়ে গেল আর বেগম জিয়ার মামলা এখনও চলমান।

রিজভী বলেন, সরকারের নির্দেশ ছাড়া কারোরই টু শব্দ করার জো নেই। ১/১১ এর সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলাগুলো গায়েব হলো কী করে? ওয়েষ্টমন্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম ফারুকের করা চাঁদাবাজির মামলাসহ ১৫টি মামলা উধাও হলো কী করে? দেশব্যাপী সাড়ে সাত হাজার আওয়ামী নেতাকর্মীদের নামে খুনের মামলাসহ অন্যান্য মামলা ভোজবাজির মতো হাওয়াই মিলিয়ে গেলো কী করে?

রিজভী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংলাপের ভাষণে রাজনৈতিক মামলায় কারা আছেন তাদের তালিকা চেয়েছেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন। তাঁর দশ বছরের শাসনামলে বিরোধী দলের কাদের নামে মামলা দিয়ে বারবার কারাগারে ঢোকানো হচ্ছে সেটি কী প্রধানমন্ত্রীর অজানা?

রিজভী অভিযোগ করেন, গতকাল সংলাপ শেষ হওয়ার পরই আমরা দেখলাম-টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালেহ মোহাম্মদ ইথেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসলে পুলিশী শক্তির ব্যবহার ছাড়া আওয়ামী জোট সরকারের আর কোন ভিত্তি নেই।

সরকার জিয়া পরিবার ধ্বংসের নকশানুযায়ী কাজ করছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই গণবিচ্ছিন্ন পরনির্ভরশীল আওয়ামী সরকার জিয়া পরিবারকে ধ্বংসের যে মানচিত্র করেছে সেই অঙ্কিত নকশানুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনার ক্রোধের শিকার বেগম জিয়া এবং তাঁর সন্তান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। তাই কেড়ে নেয়া হয়েছে তাঁর বাড়ী।

কারাগারের বাইরে থাকাকালীন সময়েও একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়েছে সরকার। উত্তেজিত বাতিকগ্রস্তের মতো উদ্ভট উল্লাসে সরকার একের পর এক জুলুমের তরবারী নামিয়ে আনে জিয়া পরিবারের ওপর।

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বেগম জিয়াকে বাদ দিয়ে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করা মানে তাঁর ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার নীতি বাস্তবায়ন করা। দেশকে গণতন্ত্রমূখী করতে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচন করা হবে মৃত্যুকুপে ঝাঁপ দেয়া।

সরকার অনমনীয় মনোভাব দেখাতে থাকলে সাত দফা দাবি ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথেই আদায় করা হবে।

একুশে/প্রেসবিজ্ঞপ্তি/এসসি