১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫, রবিবার

জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ রবিবার, নভেম্বর ৪, ২০১৮, ২:৩৬ অপরাহ্ণ

ফাইল ছবি

ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দ্বন্দ্ব-সংঘাত ভুলে দেশকে শান্তির পথে এগিয়ে নিতে হবে। জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম কিংবা দেশ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদ্রাসার আলেম ওলামাদের আয়োজনে শোকরানা মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা সন্ত্রাসী জঙ্গিবাদী তাদের কোনো দেশ নেই। তারা মুসলিম হতে পারে না। দেশের শান্তি নষ্টকারীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। বাংলাদেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের ঠায় হবে না। ধর্ম নিয়ে যারা অপপ্রচার করবে তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্মের অপব্যখ্যাকারী ও অপপ্রচারকারীদের বিচার করা হবে। বাংলাদেশ হবে সব ধর্মের সম্প্রীতির-শান্তির রাষ্ট্র। ইসলাম শান্তির ধর্ম, এই ধর্মকে এগিয়ে নিতে যারা কাজ করছেন তাদের সার্বিক উন্নয়নে সরকার সবধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। সারা দেশে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। যেখানে প্রায় ৮০ হাজার আলেম কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, মুসলমানদের বিরুদ্ধে দেয়া অপবাদ ও বদনাম মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন সেনা সরকার কওমি মাদ্রাসার অনুমোদন তুলে নিয়েছিলো। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতার আসার পর থেকে কওমি মাদ্রাসার উন্নয়ন ও ইসলামের খেদমতে কাজ করছে। অন্য কেউ ক্ষমতায় এসে যেন কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীছের সনদের মাস্টার্সের মর্যাদা কেড়ে নিতে না পারে সেজন্যই আইন করা হয়েছে।

এর আগে, কওমী মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তরের স্বীকৃতি দিয়ে আইন পাস করায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুকরানা স্মারক তুলে দেন হেফাজতে ইসলামের আমির ও সগঠনটির চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে শোকরানা স্বারক তুলে দেন আল্লামা শফী। এছাড়া আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন উলামারা।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদ্রাসার আলেমদের এই শোকরানা মাহফিলে অংশ নিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত খেকে আসা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আলেম ওলামারা।

মাহফিলে বেশি কিছু দাবিও তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- কাদিয়ানিদের সরকারিভাবে অমুসলিম ঘোষণা, ইসলামবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করা এবং আলেম, ইমাম ও ছাত্র-শিক্ষকদের বিরুদ্ধে হয়রানির মামলা প্রত্যাহার করা। বিশেষ করে হেফাজতের ৫ মে শাপলা চত্বরে সমাবেশকে কেন্দ্র করে হওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাইআতুল উলয়ার একাধিক নেতা।

একুশে/আরসি/এটি