১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ৪ পৌষ ১৪২৫, মঙ্গলবার

শিক্ষা নীতিমালায় ধর্মীয় শিক্ষাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা রকম অপপ্রচার কেউ বিশ্বাস করবেন না

প্রকাশিতঃ রবিবার, নভেম্বর ৪, ২০১৮, ৫:১৫ অপরাহ্ণ

ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষা নীতিমালায় আমরা ধর্মীয় শিক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়েছি। শিক্ষা তখনই পূর্ণাঙ্গ হয় যখন ধর্মীয় শিক্ষাও তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়; বলেন প্রধানমন্ত্রী।

রবিবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল শোকরানা মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া, বাংলাদেশ বোর্ডের প্রধান আল্লামা শাহ আহমদ শফি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের জন্য যেন কাজ করতে পারেন সেজন্য সবার কাছে দোয়া চান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় মুসলমানদের শিক্ষাগ্রহণের একমাত্র উপায় ছিল এই কওমি মাদ্রাসা। যারা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছিলেন তারা মুসলমানদের শিক্ষা দেওয়ার জন্যই কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এজন্য তাদের আমরা সবসময় সম্মান প্রদর্শন করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বীনি শিক্ষা যারা গ্রহণ করছেন তাদের অবহেলিত থাকতে দেওয়া হবে না। যারা এতিমদের শিক্ষা দেয় তাদের স্বীকৃতি দেবো না, এটা তো হতে পারে না। সেজন্যই আপনাদের প্রস্তাব অনুযায়ী আমরা কওমি শিক্ষার দাওরায়ে হাদিস সনদকে মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি দিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ থেকে যখন এই স্বীকৃতিটার জন্য বলা হলো দাওরায়ে হাদিস যেন মাস্টার্স ডিগ্রির সমমর্যাদা পায়, আমরা সেটা করে দিলাম পার্লামেন্টে আইন পাস করে। কারণ, আইন পাস না করে দিলে সেটার আর কোনও বাধ্যবাধ্যকতা থাকে না। লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করে, অথচ তাদের সেই ডিগ্রির যদি স্বীকৃতি না থাকে তাহলে তারা কোথায় যাবে, কী করে তারা চলবে?

শেখ হাসিনা আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এদেশের মানুষ যাতে সুন্দরভাবে শিক্ষা পায়, সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে সে চেষ্টা আমি করে যাচ্ছি। আমরা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা ইসলামিক ফাউন্ডেশন গড়ে দিয়েছিলেন। তিনি এ দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার জায়গা নির্ধারণ, ওআইসির সদস্যপদ, হাজিদের নিরাপদে পাঠাতে জাহাজ ক্রয় করেছিলেন।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা এতিমদের আশ্রয় দিচ্ছেন। খাদ্য দিচ্ছেন। শিক্ষা দিচ্ছেন। এর থেকে বড় কাজ আর কী হতে পারে! কাজেই আপনাদের স্বীকৃতি দেবো না এটা তো হতে পারে না। সবচেয়ে বড় কাজ আপনারা করছেন।

তিনি বলেন, প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বায়তুল মোকাররমে নারীদের বসার জায়গা করে দিয়েছিলাম, কিন্তু পরের সরকার এসে তা বন্ধ করে দেয়। তবে পরে আমরা আবার সরকারে এসে সেই কাজ করে দিয়েছি। এছাড়াও আরবি-ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এভাবে দ্বীনের শিক্ষা যাতে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা হয় তার ব্যবস্থা আমরা করেছি।

প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিদের সংসর্গ যাতে না লাগে সেজন্য কওমি ছাত্রদের উদ্দেশে পরামর্শ দিয়ে বলেন, আমরা আল্লাহ ও নবী (স:)-এর শিক্ষা নিয়ে পথ চলবো। আমি সবসময় আল্লাহকে বিশ্বাস করি। একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ছাড়া আর কারও কাছে আমি মাথানত করি না।

প্রধানমন্ত্রী দুঃখ করে বলেন, আজ বিশ্বে মুসলমানদের মধ্যে হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি। অথচ অস্ত্র বেচে যারা তারা লাভবান হয়, আর রক্ত যায় মুসলমানদের।

এ সময় আল্লামা শফি ও আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনার সবাই মিলে এমনভাবে কাজ করুন, যাতে যারা দাওরায়ে হাদিস থেকে মাস্টার্সের সমমানের ডিগ্রি পেলেন তারা যেন দেশের জন্য কাজ করতে পারেন। এই দেশকে যেন আমরা উন্নত করতে পারি। বাংলাদেশের একটা মানুষও যেন গরিব না থাকে। ক্ষুধায় যেন কষ্ট না পায়।

তিনি বলেন, ইমাম মোয়াজ্জিনদের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট করে দিয়েছি। এই কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে তারা যেকোনও সহযোগিতা নিতে পারে, মসজিদভিত্তিক শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছি, এতে ৮০ হাজার আলেম-ওলামা এর মাধ্যমে বিশেষ ভাতা পেয়ে থাকেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও মাদ্রাসা করে দিচ্ছি। সৌদি আরবের সহযোগিতায় এসব মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ হবে।

তিনি বলেন, প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বায়তুল মোকাররমে নারীদের বসার জায়গা করে দিয়েছিলাম, কিন্তু পরের সরকার এসে তা বন্ধ করে দেয়। তবে পরে আমরা আবার সরকারে এসে সেই কাজ করে দিয়েছি। এছাড়াও আরবি-ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এভাবে দ্বীনের শিক্ষা যাতে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা হয় তার ব্যবস্থা আমরা করেছি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে কোনও জঙ্গিবাদের স্থান হবে না, সন্ত্রাসবাদের স্থান হবে না। মাদকের স্থান হবে না, দুর্নীতির স্থান হবে না। কেউ যদি বলে মুসলমানদের সন্ত্রাসী তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আমি আপত্তি জানাই। কারণ, সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের কোনও দেশ নাই, ধর্ম নাই, তাদের কোনও সমাজ নাই। যারা সত্যিকারে ইসলামে বিশ্বাসী তারা কখন জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হতে পারে না।

শেখ হাসিনা বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা রকম অপপ্রচার হয়, এমন অপপ্রচারে কেউ বিশ্বাস করবেন না। এসব অপপ্রচার বন্ধ করার জন্য ইতোমধ্যে আমরা সাইবার ক্রাইম আইন (ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন) তৈরি করেছি। কেউ যদি এরকম মিথ্যাচার করে, সাথে সাথে তাদের এই আইন দ্বারা বিচার করা হবে। গ্রেফতার করা হবে। আমাদের ধর্ম ইসলাম ধর্ম। আমাদের নবী (সা.) সম্পর্কে কেউ কোনও কথা বললে ডিজিটাল আইন দ্বারা তার বিচার হবে।

একুশে/এসসি