১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫, রবিবার

আদালতকর্মীকে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা

প্রকাশিতঃ সোমবার, নভেম্বর ৫, ২০১৮, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম-বাঁশখালী সড়কে সাঙ্গু নদীর উপর তৈলারদ্বীপ সেতুর টোলপ্লাজায় একজন বিচারকের বাসার আসবাবপত্রবাহী গাড়ি আটকে চাঁদা দাবি, টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ও আদালত কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় টোল আদায়কারী অফিসের ছয় কর্মচারী ও অজ্ঞাত আরো ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শিপলু কুমার দে’র আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী বান্দরবানের লামার বিচারিক হাকিম আদালতের স্টেনো টাইপিস্ট মো. মেজবাহ উদ্দিন।

মামলায় আসামি হিসেবে আবুল কাশেম ও আবুল হাশেম এবং হেলাল উদ্দিন, ইমরান, রাব্বি ও রোকনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে আরও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

বাদির আইনজীবী মোকাররম হোসেন বলেন, অভিযুক্তরা টোল অফিসের কর্মচারী। তাদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৩২৩, ৩৮৫, ৩০৭, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট থানাকে এই ঘটনায় এফআইআর মামলা রেকর্ডের নির্দেশ দিয়েছেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বান্দরবানের লামার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলী আক্কাস সম্প্রতি সুনামগঞ্জে বদলি হয়েছে। রোববার (৪ নভেম্বর) তিনি একটি ট্রাক ভাড়া করে লামা’র বাসার মালামাল পাঠিয়ে দিচ্ছিলেন চট্টগ্রাম নগরীর বাসায়।

ট্রাক নিয়ে চকরিয়া-পেকুয়া হয়ে বাঁশখালী দিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর দিকে যাচ্ছিলেন লামার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কর্মচারীকে (স্টোনো টাইপিস্ট) মো. মেজবাহ উদ্দিন (৩১)। ট্রাকটি বাঁশখালী থেকে আনোয়ারার প্রবেশমুখে তৈলারদ্বীপ সেতুতে পৌঁছলে কয়েকজন গাড়িটি থামিয়ে প্রথমে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।

মেজবাহ উদ্দিন টাকা দিতে অস্বীকার করলে তার মাথায় আসামি আবুল কাশেম পিস্তল ও আবুল হাশেম পেটে ছোরা ঠেকিয়ে তার কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা দেড়শ টাকার একটি রশিদ দেন। পরিচয় পাবার পর আসামিরা আদালত ও পুলিশ সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করে। সেতু পার হয়ে কিছুদিন গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে আসামিদের নাম সংগ্রহ করেন বাদী।

এরপর বিষয়টি বিচারক আলী আক্কাসকে জানান মেজবাহ উদ্দিন। তখন বিচারকের পরামর্শে তিনি প্রথমে আনোয়ারা থানায় মামলা করতে যান। কিন্তু থানা মামলা না নেওয়ায় আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন বাদী।