১৫ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার

নেত্রকোনায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশিতঃ বুধবার, নভেম্বর ৭, ২০১৮, ১০:১৫ অপরাহ্ণ

বাসস : জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২ হাজার ৬৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নেত্রকোনায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে।

আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে চলতি অর্থবছরের ১৪তম একনেক বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে। সম্পূর্ণ সরকারী অর্থায়নে এই প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, নেত্রকোনা। বিশ্ববিদ্যালয়টি জেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে সিংহের বাংলা ইউনিয়নে প্রায় ৫০০ একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত হবে।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ সব কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পটিও অনুমোদিত হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩০৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

তিনি বলেন, জয়িতা ফাউন্ডশনের সক্ষমতা বিনির্মাণ নামের প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ২৮ হাজারের অধিক নারীকে সম্পৃক্ত করে নারী উদ্যোক্তাদের বহুবিধ ব্যবসা উদ্যোগের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে জয়িতা ফাউন্ডেশন।

এছাড়া শহীদ কামরুজ্জামান টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট, মান্দা নামের প্রকল্পটি সংশোধন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এক্ষেত্রে মূল ব্যয় ৭৪ কোটি ৬২ লাখ থেকে ৮২ কোটি ১৪ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হচ্ছে ১৫৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। মেয়াদও বাড়ছে এক বছর ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। দ্বিতীয়বারের মতো সংশোধন করা হচ্ছে ভোলা টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট প্রকল্পটি। প্রথম সংশোধিত ব্যয় ৭২ কোটি ৯২ লাখ থেকে ৩২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বাড়িয়ে এখন মোট ব্যয় ধরা হচ্ছে ১০৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। মেয়াদ বাড়ছে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত এক বছর।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, গত রোববার অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে ৩৯টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ওইদিন ৪০টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হলেও একটি অনুমোদন দেয়া হয়নি। সেটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বলা হয়েছে। এর মধ্য দিয়েই বোঝা যায় প্রকল্পগুলো কতটা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি জানান, আজকের একনেকে অনুমোদন হওয়া অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে: চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ এবং অপসারণ ব্যবস্থাপনা, বহাদ্দারহাট বাড়ইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন, চা বাগান কর্মীদের জন্য নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ (ষষ্ঠ পর্ব), বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ভবন নির্মাণ, ১১টি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্থাপন, মাদারীপুরে সরকারি অফিসগুলোর জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ, নির্বাচিত ৯টি সরকারি কলেজের উন্নয়ন, গোপালগঞ্জের শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয় ও ঢাকা সূত্রাপুরের শেরেবাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, চট্টগ্রাম-খুলনা-রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে একটি করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন, র‌্যাব ফোর্সের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, সোনাগাজী ৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, বীজ প্রত্যয়ন কার্যক্রম জোরদারকরণ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ বিশেষ ধরনের পন্টুন নির্মাণ ও স্থাপন, বৃহত্তর রাজশাহী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ), বৃহত্তর নোয়াখালী (নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলা) পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরী উন্নয়ন, বাঙ্গালী-করতোয়া-ফুলজোর-হুরাসাগর নদী সিস্টেম ড্রেজিং/ পুনঃখনন ও তীর সংরক্ষণ এবং ইমারজেন্সি মাল্টি-সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপনস প্রকল্প।

বৈঠকে উপস্থাপিত ২৮টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্পের মোট ব্যয় হবে ৩০ হাজার ২৩৪ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে জিওবি ২৪ হাজার ৮৫৪ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল ৫৩৯ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা এবং বৈদেশিক প্রকল্প সাহায্য থাকবে ৪ হাজার ৫০৬ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা।