১৫ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি: সেই টিআই কাশেমকে স্ট্যান্ড রিলিজ

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৮, ২০১৮, ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ফেইসবুকে আপত্তিকর পোস্ট শেয়ারের ঘটনায় সমালোচিত চট্টগ্রম নগর পুলিশের ট্রাফিক বন্দর বিভাগের পরিদর্শক (টিআই-প্রশাসন) আবুল কাশেম চৌধুরীকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ (তাৎক্ষণিক বদলি) করা হয়েছে।

গত ৫ নভেম্বর পুলিশ হেডকোয়াটার্সের এডিশনাল আইজি (এএন্ডও) মো. মোখলেসুর রহমান এ সংক্রান্ত আদেশে স্বাক্ষর করেন।

ওই আদেশে টিআই আবুল কাশেম চৌধুরীকে রংপুর রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।

ট্রাফিক পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ১৯ আগস্ট নগরের গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ড যুবলীগের সহ দপ্তর সম্পাদক শেখ আহম্মদ চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আল ইমরান খানের আদালতে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলায় একমাত্র আসামি ট্রাফিক পরিদর্শক আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০৫(ঘ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। সেদিন অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন আদালত।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছিল, গত ৪ আগস্ট একুশে পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত ‘প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ঘৃণ্য ফেসবুক স্ট্যাটাসের পরও বহাল টিআই কাশেম’ শীর্ষক সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়। উক্ত সংবাদটি বিস্তারিত পড়তে গিয়ে দেখতে পাই ২০১২ সালের ৫ জুলাই জনৈক হাবিব বিন ইসলাম তার নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেন ‘হাসিনা পুত্রবধূ ইয়াহুদী, বোনের পুত্রবধূ খ্রিস্টান, আসল দাদা-দাদী ছিল হিন্দু, মেয়ের শ্বশুরগোষ্ঠী রাজাকার, দলের সেক্রেটারী জেনারেলের বউ খ্রিস্টান, ধর্মনিরপেক্ষতায় অপূর্ব সমন্বয়।’ এরপর আমি টিআই আবুল কাশেম চৌধুরীর আইডিতে ঢুকে তার শেয়ারকৃত স্ট্যাটাসটি দেখতে পেয়ে অত্যন্ত মর্মাহত হই।

এজাহারে আরও বলা হয়, স্ট্যাটাসটি মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ঘৃণা সৃষ্টিকর এবং জাতির জন্য চরম অবমাননাকর। এতে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে আসামির অপচেষ্টা ছিল। আসামি প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হয়েও দেশের একজন প্রজ্ঞাবান, বিচক্ষণ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চরম মানহানিকর উক্তি শেয়ার করে বিভিন্ন লোক ও সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার উসকানি ও শত্রুতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছেন।

‘যা কেবল প্রধানমন্ত্রী কিংবা তার পরিবারের জন্য নয়, আওয়ামী পরিবারের সদস্যদের জন্যও চরম মানহানিকর। এর ফলে বাদী মারাত্মক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং আওয়ামী সংগঠনের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় ও নেতা-কর্মীদের মানহানি হয়।’

এরপর গত ২৫ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী শেখ আহম্মদ আদালতে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন

অভিযোগ উঠেছে, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় এক সংসদ সদস্য মধ্যস্ততার ভূমিকা পালন করেন।