১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, মঙ্গলবার

দুই কারণে নির্বাচনের তারিখ পেছানোর সুযোগ নেই : সিইসি

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৮, ১:৪৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দুই কারণে নির্বাচনের তারিখ পেছানোর সুযোগ নেই জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশন (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। সব দলের দাবির প্রেক্ষিতে এক সপ্তাহ নির্বাচন পেছানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বড়দিনসহ বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে ২৩ তারিখ নির্বাচনের বিষয়টি পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কে এম নুরুল হুদা বলেন, অনেক কিছু ভেবেচিন্তে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২৯ জানুয়ারির মধ্যে অবশ্যই নতুন সংসদ গঠন করতে হবে। নির্বাচনের পর ফলাফল আসবে। ‘তিনশ’ আসনের গেজেট প্রকাশ করার জন্য সময় লাগে। এছাড়া টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা শুরু হবে জানুয়ারির ১১ তারিখে। এটি আমাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ সময় সারাদেশ থেকে আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আনতে হয়। যাতে কোনো সহিংসতা না ঘটে।

নুরুল হুদা বলেন, সরকার এবং সংসদ রেখে এবারই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০১৪ সালে নির্বাচন হলেও সেখানে সব দল অংশগ্রহণ করেনি। যার কারণে এবারের নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের সফলতা ও ব্যর্থতার ওপর বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্ভর করছে। এর আগের নির্বাচন হয়েছে কখনও সেনা অধীনে, কখনো রাষ্ট্রপতি শাসনে কিংবা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। দলীয় সরকারের অধীনে থেকে যে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব, এবারের নির্বাচন সেই ইতিহাস প্রমাণ করবে। নির্বাচনে সব দল অংশ নিয়েছে, তাতে আমরা খুশি । কিন্তু ভোটের তারিখ আর পেছানোর সুযোগ নেই।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নুরুল হুদা বলেন, আপনারা দেশি-বিদেশি সকল স্তরের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এ বছর নির্বাচনের পরিবেশ হবে ভিন্ন। আমাদের দেশে কখনও হয়েছে রাষ্ট্রপতিশাসিত নির্বাচন, কখনও সেনাবাহিনী, কখনও কেয়ারটেকারের (কেয়ারটেকার সরকার) অধীনে। কিন্তু অন্যান্য নির্বাচন থেকে এই নির্বাচন সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ সংসদ থেকে, সরকার থেকে এই নির্বাচন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে এমন একটি নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্বাচনে সব দল অংশ নেয়নি। আমরা এজন্য আনন্দিত যে, এই নির্বাচনে সব দল অংশ নিতে যাচ্ছে। সে কারণে আপনাদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে সিইসি বলেন, এখন থেকে নির্বাচনের সকল দায়িত্ব রিটার্নিং কর্মকর্তাদের।নির্বাচন হতে হবে সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। ভোট একটি উৎসব। ভোটের দিন ভোটাররা আনন্দমুখর পরিবেশে ভোট দিতে যাবে। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথ পালন করবেন। ভোটের বুথ ছাড়া বাকি সবস্থানে পর্যবেক্ষকসহ সবাই যেতে পারবেন এবং তা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। যে নির্বাচন জনগণ গ্রহণ করবেন, যে নির্বাচন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে- সেটিই হবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।’

‘এই অবস্থা আপনাদের (রিটার্নিং কর্মকর্তা) সৃষ্টি করতে হবে। এখন থেকে নির্বাচনের সকল দায়িত্ব আপনাদের। কীভাবে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ করবেন, ভোটকক্ষ তৈরি করবেন সব দায়িত্ব আপনাদের। আপনারা সবাই যদি আন্তরিকভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেন, তাহলে সামগ্রিকভাবে আমাদের ওপর জনগণের সন্দেহ হবে না।’

প্রার্থী এবং রাজনীতিবিদরা সম্মানিত ব্যক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেকেই এমপি ছিলেন, অনেকে যারা এমপি ছিলেন না তারা এলাকায় সম্মনিত ব্যক্তি। তাদের সঙ্গে যদি সুসম্পর্ক রাখেন, তাহলে কেউই নির্বাচনে সমস্যা সৃষ্টি করবেন না। তাদেরকে কখনও প্রতিপক্ষ হিসেবে নেবেন না। তাদের সহযোগিতা করলে তারাও আপনাদের সহযোগী, বন্ধু হিসেবে কাজ করবে। বিরোধিতা করবে না।’

সংসদ নির্বাচনের পুনঃতফসিল অনুযায়ী ভোটের দিন ৩০ ডিসেম্বর, রোববার। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর।

নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। এতে কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম ও কবিতা খানম বক্তব্য রাখেন।

একুশে/আরসি/এসসি