১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার

নির্বাচন পেছানোর দাবিতে বুধবার ইসিতে যাচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৮, ৪:১২ অপরাহ্ণ

ঢাকা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম দফার তফসিলে ২৩ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ ঠিক করে নির্বাচন কমিশন। এরপর ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচন ১ মাস পেছানোর দাবি জানালে নির্বাচন কমিশন ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ ঘোষণা করে। তবুও নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল ঐক্যফ্রন্ট।

ফের নির্বাচনের তারিখ পেছানোর দাবি জানাতে নির্বাচন কমিশনে যাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতারা।

মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে জোটের বৈঠক শেষে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের আগামীকাল দুপুর ১২টার দিকে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে যাওয়ার কথা জানান। ড. কামাল হোসেন সহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ সেখানে থাকবেন; বলেন ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আগ্রহী নয়। আমরা যে দাবি করেছি নির্বাচন এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার জন্য এটা অত্যন্ত জরুরি। আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশন আমাদের নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

তবে নির্বাচন আরও পেছানোর দাবি নাকচ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভোটের তারিখ ৩০ ডিসেম্বরের পরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

সিইসির বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সেজন্য তো যাচ্ছি। উনি (সিইসি) স্পষ্ট করে বললেই তো হবে না। আমরা আমাদের দাবি-দাওয়াগুলো অবশ্যই বলব। সিইসি তো সব একাই বলে যাচ্ছেন।

নির্বাচন এক মাস পেছানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “নির্বাচন এক মাস পেছাতে আমরা দাবি করেছি এজন্য যে, তফসিল যে সময় ঘোষণা করা হয়েছে সে সময়টিতে বড়দিনের ছুটি থাকে। ওই সময়টি আমাদের খ্রিস্টান সম্প্রদায় একটা উৎসবের আমাজে থাকেন, তাদের ধর্মীয় বড়দিন।”

এছাড়া নববর্ষ আসছে, সেটা একটা বড় অনুষ্ঠান। একই সঙ্গে আমরা যে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আশা করছি, একটা সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন দেখার জন্য তাদের সেই সুযোগও থাকছে না যদি ওই সময়ে ভোট হয়।

পুনঃতফসিলে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ রাখায় ঐক্যফ্রন্ট ‘হতাশ’ হয়েছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, “আমরা মনে করছি, কমিশন একটা সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন করবার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী নয়।

নির্বাচন কমিশনে কোন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে তা ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা কামাল হোসেন আগামী ১৬ নভেম্বর সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পরে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্তাদের সঙ্গেও সম্পাদকদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন।

নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপি কীভাবে আসন ভাগাভাগি করবে, সে সিদ্ধান্ত ‘আরও পরে’ নেওয়া হবে জানান ফখরুল।

এদিকে সরকারের আহ্বানে নির্বাচন কমিশন ভোটের তারিখ ৭ দিন পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখ ৭ দিন পেছানো অন্যায় হয়েছে। এটা সরকারের আহ্বানে তারা করেছে।’

কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘দেশ সম্পূর্ণ অনিয়মে চলছে। আমরা সেটা নিয়মে আনতে চাই। নির্বাচন কমিশন ঠিকমতো চলছে না। তারা যে নির্বাচন ৭ দিন পিছিয়েছে, সেটা অন্যায়। এটা তো সরকারের আহ্বান। বদরুদ্দোজা চৌধুরীর আহ্বান। আমরা তো এক মাস চেয়েছি। দেশের মানুষ এক মাস পেছানোর কথা বলেছে।’

প্রত্যেকটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল ঘোষণা করা হতো বলে উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘কিন্তু এই নির্বাচন কমিশন সেটা করেনি। সেজন্য আমার সন্দেহ হয়- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভালোভাবে নির্বাচন করতে পারবেন কিনা। এই সন্দেহ এখনও মানুষের মধ্যে আছে।’

কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, অনেকের ধারণা, সরকার ভোট নিয়ে যাবে। আমার ধারণা, সরকার ভোটে টিকতেই পারবে না।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের এড়িয়ে ‘ভোট চুরির’ নির্বাচন করতেই নির্বাচন কমিশন ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ দিয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে তার মতিঝিলের চেম্বারে জোটের এই বৈঠকে মির্জার ফখরুল ছাড়াও জেএসডির আবদুল মালেক রতন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মুনটু, মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরুল্লাহ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

একুশে/এসসি