১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার

সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনে আগ্রহী নয় ইসি : মির্জা ফখরুল

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৮, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ

ঢাকা: নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার বিষয়ে আগ্রহী নয় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ফখরুল বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং আমরা যে দাবিগুলো করেছি তফসিল ঘোষণার আগে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করার, যেটি আগে থেকেই রেওয়াজ ছিল, এই কমিশন সেটি করেনি। আমরা এতে হতাশ হয়েছি।’

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জরুরি বৈঠক শেষে জোটের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশনের উচিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল ঘোষণা করা। আর আমরা যে দাবিগুলো করেছি, সেগুলো অত্যন্ত জরুরি।’

‘নির্বাচনের তফসিল এক মাস পিছিয়ে দিতে বলেছি, কারণ যখন ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে, তখন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড়দিন। এ সময় তারা উৎসব পালন করবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমাদের দাবি না মেনে নির্বাচনের যে নতুন তারিখ দিয়েছে, তার একদিন পর ইংরেজি নববর্ষ। ওই সময় বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আশা করছি তাঁরা কেউ থাকবেন না। তাঁরা নববর্ষ উদযাপনে নিজ দেশে থাকবেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তাই আমরা আমাদের এই দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করতে আগামীকাল দুপুর ১২টায় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনে যাব।’

এর আগে বৈঠক থেকে বের হওয়ার পর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব যা বলার বলবেন। আলাদা করে বলতে চাই না। তবু আপনারা যেহেতু জানতে চেয়েছেন, এতটুকু বলি, দেশ সম্পূর্ণ অনিয়মে চলছে। আমরা সেটা নিয়মে আনতে চাই।’

কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ঠিকভাবে চলছে না। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন সাত দিন পিছিয়েছে, সেটা অন্যায়। এটা তো সরকারের আহ্বান, বদরুদ্দোজা চৌধুরীর আহ্বান ছিল। আমরা তো এক মাস চেয়েছি। দেশের মানুষ এক মাস পেছানোর কথা বলেছে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই নেতা বলেন, ‘প্রত্যেকটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হয়। কিন্তু এই নির্বাচন কমিশন সেটা করেনি। সে জন্য আমার সন্দেহ হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভালোভাবে নির্বাচন করতে পারবেন কি না। এই সন্দেহ এখনো মানুষের মধ্যে আছে। অনেকের ধারণা, সরকার ভোট নিয়ে যাবে। আমার ধারণা, সরকার ভোটে টিকতেই পারবে না।’

চলমান রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতে আজ দুপুর ১২টায় ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে বৈঠক শুরু হয়। চলে দেড়টা পর্যন্ত।

ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা মোহসীন মন্টু, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।