১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার

কবিতা ঝরে গেলো, গোফ রয়ে গেলো!

প্রকাশিতঃ বুধবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৮, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ

আজাদ তালুকদার : পুলিশ শুধু একটি শব্দ নয়, বিশেষ পেশাজীবীও। এরপরও পুলিশকে নিয়ে সমালোচনা বা তির্যক কথার শেষ নেই। বলা হয় ‘মাছের রাজা ইলিশ, জামাই’র রাজা পুলিশ’। কিংবা ‘বাঘে ছুঁলে আঠার ঘা, পুলিশ ছুঁলে ছত্রিশ’! কেন এমন সব আপ্তবাক্য আজকের লেখায় তার উত্তর আমরা খুঁজতে চাই না।

আজ একজন ব্যতিক্রম পুলিশের গল্প বলবো। সেই পুলিশের শিল্পসত্তা নিয়ে কথা বলবো। পুলিশ সংক্রান্ত সকল নেতিবাচক বিশেষণ ছাপিয়ে একজন পুলিশের শিল্পসত্তা যখন পরিস্ফুট হয়ে ওঠে, পুলিশ যখন সৃজনশীল মানুষ হিসেবে আবির্ভূত হয় তখন নেতিবাচক কথা বেমানান।

হ্যাঁ, তেমনই একজন পুলিশ সদস্য, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহাবুবর রহমান, পারিবারিক নাম রিপন। তাঁর কর্ম ও চিন্তার দিকে আলোকপাত করলে যে কারো চোখে বাসা বাঁধবে মুগ্ধতা, ভালোলাগার মোহন আলো। একজন মাহাবুবর রহমান নিজের সবটুকু সৃজনশীলতা, প্রজ্ঞা-মেধা, কর্মযজ্ঞ নিয়ে নিরন্তর কাজ করছেন পুলিশ বিভাগে।

খ্যাতিমান লেখক-প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী বলেছিলেন, ‘বাঙালি ছেলেদের কবিতা আর গোফ একসঙ্গে শুরু হয়। একটা থাকে, আরেকটা ঝরে পড়ে।’ গোফ উঠার সময়টাতে সব বাঙালি ছেলে কাব্যচর্চার চেষ্টা করেন- এই কথা পুরোপুরি সত্য না হলেও চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার মাহাবুবর রহমানের বেলায় সত্য। কিশোর বয়সে গোফ উঠার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কাব্যচর্চা শুরু। তবে সেই চর্চা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। প্রমথ চৌধুরীর কথামতো কবিতা যেন ঝরে গেলো। রয়ে গেলো গোফ।

একুশে পত্রিকার সঙ্গে এভাবেই কিশোর বয়সের কাব্যচর্চা নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন সিএমপি কমিশনার মাহাবুবর রহমান। কবিতায় কেন ঝরে পড়া-সে কথাও বলেছেন তিনি।

সমরেশ মজুমদার আর হূমায়ুন আহমেদের বই পড়ে বড় হয়েছেন। ছাত্রজীবনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজনীতিও করেছেন কিছুদিন। সমাজে ‘লোকসংখ্যা’ অনেক। কিন্তু ‘মানুষের’ সংখ্যা খুবই কম। এই দৃশ্যে ক্ষুব্ধ, সংক্ষুব্ধ মাহাবুবর রহমান ‘মানুষ’ হওয়ার স্বপ্নকেই সঙ্গী করেছেন আশৈশব। কেবল মানুষ নয়, মানবিক মানুষ, নান্দনিক মানুষ।

নান্দনিক এ মানুষটির জন্ম জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার চর পাকেরদহ গ্রামে। ১৯৮৪ সালে জামালপুরের মাদারগঞ্জ সরকারি হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজে ভর্তি হন। তখন তাঁর লেখকসত্ত্বা ডানা মেলে। কবিতা-গানের পাশাপাশি যুক্ত হন লেখালেখি, পত্রিকা সম্পাদনায়। জামালপুর থেকে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন সাহিত্যপত্রিকা ‘কলি’। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের ‘সমীকরণ’ মেলাতে গিয়ে কাব্যচর্চায় পড়ে ভাটা। সেই সঙ্গে চাপা পড়ে গুনগুনিয়ে গানের চর্চা। একসময় রবীন্দ্রসংগীত গাওয়ার চেষ্টা করতেন। এখন অবশ্য সেই চেষ্টা অব্যাহত না থাকলেও মাঝে মাঝে সুরের মূর্ছনায় নিজেকে সমর্পণ করতে ভোলেন না।

পুলিশ বিভাগের আলোকিত এ মানুষটি পুলিশ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বড় হননি। মূলত সিভিল সার্ভেন্ট হবেন, ভালো চাকরি করবেন এই পণ-মন নিয়ে তাঁর বেড়ে উঠা, আত্মপ্রস্তুতি। তাই ১৯৯৫ সালে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেয়ার আগে ‘চয়েস’ নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। শেষমুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নিলেন ‘পুলিশ’ই হবেন। মানুষের সেবা করবেন। স্বজন-শুভার্থীদের পাশে দাঁড়াবেন। অবশ্য হঠাৎ পুলিশ হওয়ার পেছনে প্রথম যুক্তিটা ছিলো মাহাবুবর রহমানের চেহারা সৌষ্ঠব, শারীরিক কাঠামো। এরপরও কথা আছে। দেখতে সুঠাম হলেই যে পুলিশের চাকরিতে সফল হবেন তা নয়। পুলিশ বাহিনীতে চাকরির জন্য সবচেয়ে দরকার ‘সাহস’ আর ‘সততা’। ভাবনার দুয়ারে কড়া নাড়লেন। ভাবতে ভাবতে মাহাবুব পেয়ে গেলেন আত্মজিজ্ঞাসার জবাব- ‘হ্যাঁ, পুলিশের জন্য আমিই ফিট!’

ব্যস, পুলিশ হওয়ার জন্য এবার মাহাবুবের নিরন্তর চেষ্টা। সেই চেষ্টায় সফলতা এলো। ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন ভালোভাবেই। এএসপি হিসেবে পুলিশের প্রথম চাকরি কিশোরগঞ্জ জেলায়। এরপর নরসিংদী হয়ে আবার কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, খুলনায় ঘুরে ঘুরে কাটল তাঁর এএসপি জীবন।

এরপর এলো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনের হাতছানি। ২০০২ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত কাটালেন কসোভোতে। ফিরেই সিনিয়র এএসপি হিসেবে যোগ দেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে বদলে গেলো কর্মস্থল। যোগ দিলেন খুলনা আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়নে। সেখানে কিছুদিন থাকার পর পোস্টিং র‌্যাব-৪ এর মিরপুর কার্যালয়ে। এখান থেকে এসপি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে যোগ দেন খাগড়াছড়ির মহালছড়ি আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়নে। এখানে ১০ মাস থাকার পর ফের ডাক পড়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে। কর্মস্থল এবার আইভরিকোস্ট।

২০০৫ থেকে ২০০৬ গৌরবের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব শেষে দেশে ফেরার পর নতুন পোস্টিং- খুলনা হাইওয়ে পুলিশের এসপি। সেখানে কিছুদিন থাকার পর আবারও আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়নের এসপি, বগুড়ায়। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বদলি হয়ে যান ডিএমপির তেজগাঁও জোনের উপ কমিশনার হিসেবে।

২০০৯ সালে বর্তমান সরকারের শুরুর দিকে এসপি হিসেবে বরিশালে দায়িত্ব পালনের পর পুনরায় বদলি হন ডিএমপির উত্তর জোনের ডিসি-ডিবি হিসেবে। দুবছর পর কুমিল্লায় চলে যান এসপির দায়িত্ব নিয়ে। এসময় পদোন্নতি পান অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে। যোগ দেন চট্টগ্রাম রেঞ্জে। এখানে ৩ বছর থাকার পর কর্মস্থল পরিবর্তন।

এবার ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি। এ সময় অর্জন করেন রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)। এরপর ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে যোগ দিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার পদে। সেখানে একবছর থাকার পর চলতি বছরের ২৭ মে মাহাবুবর রহমান যোগ দেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামের পুলিশ প্রধান হিসেবে। এখানে যোগদানের আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ল’ অ্যান্ড জাস্টিস-এর আমন্ত্রণে বোস্টনে সেখানকার পুলিশের ৭ দিন ব্যাপী একটি সেমিনারে অংশ নেন তিনি।

চট্টগ্রামে যোগদানের শুরুতেই গতানুগতিক যে কাজ তার পাশাপাশি জনগণের মাঝে পুলিশী-ভীতি দূর করতে আলোচিত কিছু উদ্যোগ নেন তিনি। আগে সাধারণ মানুষ থানার আশপাশে যেতে যেখানে ইতস্ততবোধ করতো সেই মানুষগুলোই এখন নির্ভয়ে, নিঃসঙ্কোচে থানায় যান, পুলিশের সাহায্য চাইছেন। ঢোকার পর থানায় থানায় পুলিশের চকলেট-অভ্যর্থনা পেয়ে চমকে ওঠেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মসজিদ, মন্দির, ধর্মীয় উপসনালয়ে জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচার-প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি জঙ্গিবাদের ভয়াবহ দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে চালু করেছেন নানা কর্মসূচি। পুলিশ ও জনগণের মাঝে দূরত্ব কমাতে আরও সক্রিয় করেছেন কমিউনিটি পুলিশিংকে।

কোনো এক দার্শনিকের মতে, তুমি কতটা রুচিশীল কিংবা স্মার্ট সেটা নির্ভর করে নারী-শিশুর প্রতি তোমার ‘আচরণ’ কেমন। যদি তাই ধরে নিই, তবে পুলিশ কমিশনার মাহাবুবর রহমানকে আপাদমস্তক স্মার্ট এবং উন্নত রুচিবোধের মানুষ বলতে হবে। শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ এবং নারীবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠায় এই নগরে তাঁর গৃহীত নানা কর্মসূচি, কর্মশালাই বলে দেয় নারী-শিশুর প্রতি তাঁর উন্নত দৃষ্টিভঙ্গি।

পাঠক, আমরা জানি বড় পুলিশ এবং ছোট পুলিশের মাঝে একটা অদৃশ্য দূরত্ব থাকে। একজন মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্য কমিশনারের মতো কর্মকর্তার কাছে সহজে পৌঁছাতে পারেন না। এ উপলব্ধি থেকে পুলিশপ্রধান নিজেই ছুটে যান সেইসব পুলিশের কাছে। এ জন্য কয়েকটি উপলক্ষ তৈরি করেছেন। সব পুলিশ একসঙ্গে, এক টেবিলে বসে খান সপ্তাহে কিংবা মাসে। যেখানে থাকে পোলাউ, মুরগীর রোস্ট, চট্টগ্রামের মেজবানি মাংস আর ডাল। কমিশনারের পৃষ্ঠপোষকতায় পর্যায়ক্রমে নগর পুলিশের ১০টি জোনে এই আয়োজন ঘূর্ণায়মান।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার বলেন, এ ধরনের আয়োজনে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মাঝে হৃদ্যতা, সেতুবন্ধন তৈরি হয়। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে কর্মক্ষেত্রে। আপনাকে যখন কেউ ১০ বার দেখবেন তখন আপনার ভালো দিকটাই নেবেন। আর যখন দেখবেন না নেগেটিভ দিকটাই আগে নেবেন।’

স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের চাকরিতে সময় মেপে কাজ হয় না। আছে দৌড়ঝাঁপ, ছুটোছুটি। কাজ করতে করতে কখনো দিন পেরিয়ে রাত হয়, রাত পেরিয়ে ভোর। কর্মক্ষেত্রে কাজের এমন চাপ কখনো-সখনো একগুয়েমি সৃষ্টি করে। অব্যাহত কাজে মানবদেহের চিরায়ত শরীরতাত্ত্বিক কাঠামোতে ক্লান্তি ভর করে। নষ্ট করে মনঃসংযোগ। তাই প্রয়োজন রিক্রিয়েশন বা বিনোদন।

এসব ভেবে দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে সুরপ্রেমী পুলিশ কমিশনারের ইচ্ছা ও আগ্রহে প্রতি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। পুলিশের একেকটি জোন একেক সপ্তাহে এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজক, যেখানে গান পরিবেশন করেন পছন্দের শিল্পীরা। বলাবাহুল্য, শুক্রবারের এই অনুষ্ঠানটি সব পর্যায়ের পুলিশ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য অন্যতম বিনোদনের আধার।

অধীনস্থ পুলিশের মাঝে শুদ্ধাচার তৈরিতেও কাজ করছেন সিএমপি’র পুলিশ প্রধান। যোগ দিয়েই তিনি বলেছিলেন, আমার ইউনিটে ভালো পুলিশ, মন্দ পুলিশ বাছাই হবে। মন্দ পুলিশের জন্য তিরস্কার আর ভালো পুলিশের জন্য থাকবে পুরস্কার।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার জানান, সব ডিপার্টমেন্টে ভালো-মন্দ থাকে। ভূমি অফিসে চাকরি করে একভাই যদি গাড়ি-বাড়ি করে, পুলিশের সার্জেন্ট ভাইও চাইবে সেই পথে হাঁটতে। কাজেই রাতারাতি সবকিছুর আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবুও আমরা চাইছি সবকিছু যেন সহনীয় পর্যায়ে থাকে।

পুলিশকর্মী মানেই সমাজের অন্যায়, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া। অপরাধীকে শাস্তির ব্যবস্থা করা। পুলিশকে নিতে হয় চ্যালেঞ্জ, নিতে হয় ত্বরিৎ সিদ্ধান্ত। ফলে পুলিশ বিভাগে যুক্ত হয়ে অনেকেই মেধা ও সৌন্দর্যের মেলবন্ধন করতে পারেন না। ৬০ লক্ষ নগরবাসীর নিরাপত্তার বিশাল দায়িত্ব কাঁধে নিয়েও এক্ষেত্রে মাহাবুবর রহমানের ব্যত্যয় ঘটেনি।

সবকিছু সামাল দেন সুন্দর আর মেধার সমন্বয়ে। অফিসে, ঘরে, ব্যক্তিজীবন সবক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আর সুন্দরের অপূর্ব সমন্বয় তাঁর। কর্মজীবনে তিনি দায়িত্বশীল, চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা। সংসারে দক্ষ গৃহকর্তা, দায়িত্বশীল স্বামী, আদর্শ বাবা। স্ত্রী, চারসন্তান নিয়ে তাঁর সুখী গৃহকোণ। বাবা বেঁচে নেই। এখনো মা আছেন বটবৃক্ষের ছায়া হয়ে। চার ভাইবোনের সবাই স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। আপন আলোয় উদ্ভাসিত। স্ত্রী মির্জা মাহবুবার সঙ্গে গাটছড়া ’৯৮ সালে।

প্রেম করেই বিয়ে? ‘না, না সেটেলড্ ম্যারেজ।’- স্মিত হেসে একুশে পত্রিকার প্রশ্নটির জবাব দেন মাহবুবর রহমান। চার সন্তানের মধ্যে মাহিয়ান ইশরাক এবার এইচএসসি পাশ করেছেন। সুমাইয়া মেহজাবিন সেভেন, মাহাথির ইশরাক থ্রি এবং সবার ছোট মায়াসির ইশরাক ১ম শ্রেণীর ছাত্র।

একেবারে ছকে বাঁধা জীবন এ পুলিশ কর্মকর্তার। সকালে ঘুম থেকে উঠেন তিনি। উঠেই নামাজ, গোসল, নাশতা। এরপর পত্রিকার পাতায় চোখ বুলিয়ে ১০ টার মধ্যে প্রবেশ করেন অফিসে। প্রায় প্রতিদিনই ইন্সপেকশন, মিটিং, ওয়ার্কশপ, সেমিনার। যতক্ষণ অফিসে অবস্থান করেন, চেষ্টা থাকে অফিসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে। বিশেষ প্রয়োজন না হলে অফিস-সময়ে স্বজন-শুভার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় না। অফিস শেষে সহকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ লাইন মাঠে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। এরপর খেলতে যান। খেলা যেদিন থাকে না সেদিন শরীরচর্চা। এরপর বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ৮টা।

সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানের তাগাদা না থাকলে রাতে আর বের হন না। সন্তানদের সঙ্গে আড্ডা দেন, অপঠিত পত্রিকায় চোখ বোলান। ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগ ও ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ নিয়ে এখনো বিপুল আগ্রহ তাঁর। এ নিয়ে বাসায় গড়ে তুলেছেন সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা। মৌলিক বই পড়ার সময় এখন আর তেমন পান না। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী লেখা না পড়ে পারতপক্ষে ঘুমাতে যান না। রাত ১২টার পর ঘুমানোর আগে একনজর দেখে নেন টিভির উল্লেখযোগ্য সংবাদ। এভাবেই ‘পুলিশ’ মাহাবুবর রহমান হয়ে উঠেছেন ‘মানুষ’ মাহাবুবর রহমান।

একুশে/এটি

ছবি : আকমাল হোসেন