১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, মঙ্গলবার

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়, চূড়ান্ত তালিকায় চট্টগ্রামে এগিয়ে যারা

প্রকাশিতঃ সোমবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৮, ৮:১৩ অপরাহ্ণ

ঢাকা : আগামি ২২ নভেম্বর কিংবা তারও আগে ঘোষিত হতে পারে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ৩শ’ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা। অধিকাংশ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত। তবে কয়েকটি আসনে এখনো প্রার্থীতা চূড়ান্ত হয়নি। চলছে শেষমুহূর্তের সমীকরণ।

এর মধ্যে চট্টগ্রামের ১৪ আসনে মহাজোটের প্রার্থী তালিকা একপ্রকার চূড়ান্ত হলেও দুটি আসনে চলছে শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ, চুলচেরা বিশ্লেষণ। আওয়ামী লীগ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র একুশে পত্রিকাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র মতে, ১৩ থেকে ১৪ বর্তমান এমপি এবার চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন। বাদ পড়ছেন কেন্দ্রীয় আ.লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতাও। তবে চট্টগ্রাম থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তেমন নেই।

দলীয় একাধিক সূত্র মতে, চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রার্থীতা অনেকটা চূড়ান্ত। একইভাবে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে এগিয়ে আছেন মহাজোটের অংশীদার তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারি।
চট্টগ্রাম-৩(সন্দ্বীপ) আসনে এগিয়ে আছেন বর্তমান সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতা। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড, আংশিক শহর) আসনে বর্তমান সাংসদ দিদারুল আলম এগিয়ে থাকলেও এই আসনে শেষ মুহূর্তের বিশ্লেষণ চলছে।

সূত্র মতে, প্রয়াত আবুল কাসেম মাস্টারের সন্তান এস এম আল মামুন উপজেলা চেয়ারম্যান থাকায় কারণে হিসাবের বাইরে আছেন। তবে তার চাচা প্যাসিফিক জিন্সের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন এবং তার সন্তান সৈয়দ তানভির মনোনয়ন দৌড়ে হঠাৎ করে হাইকমান্ডের আলোচনার শীর্ষে চলে আসে। অবশ্য সে আলোচনায় পরে ভাটা পড়ে। ফলে সব মিলিয়ে এ আসনে দিদারুল আলম আছেন এগিয়ে।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে এবারও মহাজোটের প্রার্থী থাকছেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। একইভাবে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) সংসদীয় আসনে বহাল থাকছেন এই আসনের তিন তিনবারের এমপি, রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া-বোয়ালখালী আংশিক) আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবারও দলটির মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ এমপি। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-পাঁচলাইশ-চান্দগাঁও) সংসদীয় আসনে মহাজোটের প্রার্থী মইনউদ্দিন খান বাদল এমপি। শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে নির্বাচনের জন্য তিনি কতটা ফিট সেই বিবেচনায় তার মনোনয়ন কিছুটা সংশয়ে থাকলেও শেষপর্যন্ত বাদলই এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী থাকছেন।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া-চকবাজার) আসনে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। আ.লীগ সরকার গঠন করতে পারলে বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন বাবলুকে টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রী করার আশ্বাসে তরুণ নেতা নওফেলকে দিয়ে নির্বাচন করাতে চায় দলীয় হাইকমান্ড। কিন্তু বাবলু চাইছেন তিনিই নির্বাচন করবেন। এ নিয়ে গো ধরা বাবলু, নাকি নওফেল নির্বাচন করবেন তা নিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের বোঝাপড়া। এমনটা জানিয়েছে দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-খুলশী) আসনে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান এমপি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আফছারুল আমিন। তবে সেখানে কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন একসময়ের আওয়ামী লীগার এবং পরবর্তীতে বিএনপির সমর্থনে চট্টগ্রামের মেয়র নির্বাচিত হওয়া এম মনজুর আলম। তিনি দলীয় হাইকমান্ডকে বোঝাতে চেষ্টা করছেন তাকে মনোনয়ন দিলে আসনটি তিনি দলকে উপহার দিতে পারবেন। তবে হাইকমান্ড বিষয়টি খুব বেশি আমলে নিচ্ছে না। একই পরিবার থেকে দুইজনকে মনোনয়ন দিতেও রাজি নয় আ.লীগ। তাছাড়া রাজনীতিতে ডা. আফছারুল আমীনের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, সততার বিষয়টিও মাথা থেকে ফেলছে না। সবমিলিয়ে এ আসনটি নিয়ে এখনো গোলকধাধায় আছে দলের নীতিনির্ধারণী মহল।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান এমপি এম এ লতিফ। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) সংসদীয় আসনে এগিয়ে আছেন বর্তমান এমপি শামসুল হক চৌধুরী। গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে শামসুল হক চৌধুরী এখন অনেকটা নির্ভার। সোমবার ওমরা হজ পালনের জন্য তিনি সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ আছেন চূড়ান্ত তালিকায়। একইভাবে চট্টগ্রাম ১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে আ.লীগের প্রার্থী হচ্ছেন বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। কদিন আগে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সিগন্যাল পেয়ে তিনি এলাকায় গিয়ে অবস্থান করছেন। যাচ্ছেন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে আ.লীগের চূড়ান্ত তালিকায় আছেন বর্তমান এমপি আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী। নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, এ ইস্যুতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা নদভীকে ইঙ্গিত করে একটি মিটিংয়ে বলেছেন ১১ জনের ফুটবল খেলায় স্ট্রাইকিং দুর্বল হলে হায়ার করতে হয়। এ আসনে জেতার জন্য আমাকে হায়ার করার করে খেলানো ছাড়া বিকল্প নেই। এই বার্তা পেয়ে এমপি নদভী এখন অনেকটা নির্ভার।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনেও অপরিবর্তিত থাকছে দলের প্রার্থী। অনেক সমীকরণ শেষে বর্তমান এমপি মোস্তাফিজুর রহমানকেই প্রার্থী রাখতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকমান্ড।

একুশে/এসসি/এটি