১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার

‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ সমাজকল্যাণ পদক নীতিমালা মন্ত্রীসভায় অনুমোদন

প্রকাশিতঃ সোমবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৮, ৫:৫০ অপরাহ্ণ

একুশে ডেস্ক : শেখ হাসিনা মাদার অব হিউম্যানিটি-সমাজকল্যাণ পদক নীতিমালা-২০১৮’ এর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৯ নভেম্বর) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এই নীতিমালার অনুমোদন দেওয়া হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

প্রান্তিক, অনগ্রসর, সুবিধাবঞ্চিত এবং প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নে অবদানের জন্য পাঁচজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ সমাজকল্যাণ পদক দেওয়া হবে।

মিয়ানমারের রাখাইনে নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় গত বছর যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘চ্যানেল ফোর’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ অভিধায় ভূষিত করে। সেই নামেই এ জাতীয় পদক চালু করছে সরকার।

মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছর ২ জানুয়ারি জাতীয় সমাজসেবা দিবসে সমাজ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচটি ক্ষেত্রে পাঁচজন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে এই পদক দেওয়া হবে। পদক হিসেবে তারা প্রত্যেকে ১৮ ক্যারেট মানের ২৫ গ্রাম ওজনের স্বর্ণপদক পাবেন। এছাড়া, ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে দুই লাখ টাকা, মাদার অব হিউম্যানিটি পদকের রেপ্লিকা ও সম্মাননা পদক পাবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “মাদার অব হিউম্যানিটি বলতে প্রধানমন্ত্রীকে বোঝানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উনাকে যে মাদার অব হিউম্যানিটির স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, সেটার প্রতিফলন হিসেবে…।”

এই পুরস্কারের নীতিমালা অন্যান্য জাতীয় পুরস্কারের মতই জানিয়ে শফিউল বলেন, পাঁচজন ব্যক্তি ও সংস্থাকে প্রতি বছরের ২ জানুয়ারি সমাজকল্যাণ দিবসে এই পদক দেওয়া হবে। পদক বাছাইয়ের জন্য দুটি পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হবে একটা জেলা ও আরেকটি জাতীয় পর্যায়ে। জেলা পর্যায়ের কমিটির প্রধান হবেন ডিসি এবং জাতীয় পর্যায়ের কমিটির ক্ষেত্রে প্রধান হবেন সিনিয়র মন্ত্রী।

২০১৮ সালে এই পদক দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে শফিউল বলেন, “মন্ত্রণালয়ের সেই প্রস্তুতি আছে কি না জানি না। তবে পদক দেওয়ার কার্যক্রম প্রতি বছর জুলাই মাস থেকে শুরু করা হবে।

যে পাঁচটি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এই পদকে মনোনীত করা হবে সেগুলো হলো-

১. বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের কল্যাণে যারা অবদান রাখবেন।

২. প্রান্তিক ও অনগ্রসর গোষ্ঠীর কল্যাণে যারা অবদান রাখবেন।

৩. প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে যারা অবদান রাখবেন।

৪. সুবিধাবঞ্চিত শিশু, কয়েদি জনগোষ্ঠীর কল্যাণের জন্য যে সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কাজ করবেন।

৫. মেধা ও মননের ফলে সমাজে শান্তি ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন যারা, সেক্ষেত্রে তারা এই পদকের জন্য মনোনীত হবেন।

এই জাতীয় পুরস্কার স্বাধীনতা পদক, একুশে পদকের সমমানের হবে বলেও জানান তিনি।

একুশে/ডেস্ক/এসসি