১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, মঙ্গলবার

‘কক্সবাজারে বদির পরিবর্তে স্ত্রী, টাঙ্গাইলে রানার পরিবর্তে বাবা’

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, নভেম্বর ২০, ২০১৮, ৪:৪১ অপরাহ্ণ

ঢাকা : আওয়ামী লীগের দুই আলোচিত সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি ও আমানুর রহমান খান রানা এবার দলীয় মনোনয়ন থেকে বাদ পড়ছেন। সমালোচনা এড়াতে এবার তাদেরকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। জরিপে বদি ও রানা এগিয়ে থাকলেও নানা কারণে তারা সমালোচিত। তবে মনোনয়ন তাদের ঘরেই থাকছে।

মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) সচিবালয়ে ভারতের হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

কক্সবাজার-৪ আসনে (টেকনাফ-উখিয়া) বদির জায়গায় তার স্ত্রী শাহীনা আক্তার চৌধুরী এবং টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে রানার জায়গায় তার বাবা আতাউর রহমান খানকে এবার নৌকার দায়িত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

বদির কন্ট্রোভার্সির কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঘরে কি সবাই অপরাধী? আপনি অপরাধী হলে কি পরিবারের সব খারাপ লোক? বদি সম্পর্কে যে কন্ট্রোভার্সি আছে, তার কোনো প্রমাণ আছে? তবু কন্ট্রোভার্সি থাকায় অলটারনেটিভ বেছে নিয়েছি

ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের আরো বলেন, কোন মন্ত্রী খারাপ আমাকে বলুন। কীভাবে মেজার করব? বেইজটা কী যে ওমুক খারাপ লোক? তারপরও যাদের নিয়ে বিতর্ক আছে, দুটি সিটের কথা বলতে পারি, একটি হচ্ছে উখিয়া-টেখনাফ, বিতর্কের কারণে বদিকে বাদ দিলেও তার ঘরেই কেন মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। যদিও আমরা এখনও ঘোষণা করিনি।

বদির পাশাপাশি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের এমপি রানাকেও বাদ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে কাদের বলেন, “একটি মার্ডারের অভিযোগে রানা জেলে আছে, সার্ভে রিপোর্টে রানা ও বদি অনেক ব্যবধানে এগিয়ে আছে।… রানার বাবা জেলা আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট আতাউর রহমান খান মনোনয়ন পাচ্ছেন।

২০০৮ সালে প্রথমবারের মত আওয়ামী লীগ টিকেটে এমপি হন বদি। এরপর ইয়াবা পাচারের হোতা হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় তার নাম এলেও তাতে ২০১৪ সালে তার দ্বিতীয় দফা মনোনয়ন আটকায়নি।

দুর্নীতির এক মামলায় ২০১৬ সালে ক্ষমতাসীন দলের এই এমপিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয় ঢাকার একটি আদালত। ওই মামলা বর্তমানে হাই কোর্টে বিচারাধীন।

অন্যদিকে টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা আমানুর রহমান খান রানা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি। ওই মামলায় বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে প্রভাবশালী খান পরিবারের সদস্য রানা ২০১২ সালের উপনির্বাচনে ঘাটাইল আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। এ কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

কিন্তু এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর দল তাকে আবারও কাছে টেনে নেয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবার এমপি হন তিনি।

এই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অন্তত তিন ডজন মামলা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি হত্যা মামলা।

তারেক রহমানের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তাদের হাতে তো আর মিসাইল নাই। তবে তারেক রহমানের সবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এছাড়াও আমাদের হাতে অন্য অপশন তো আছে।

শ্রিংলার সঙ্গে কী বিষয়ে আলাপ হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় বাংলাদেশের যে উন্নয়ন কাজ চলছে তা নিয়েই বেশিরভাগ আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে কাদের বলেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য হবে ভারত এমনটিই প্রত্যাশা করে।

একুশে/এসসি