১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫, রবিবার

বিএনপির নীতি নির্ধারণী ফোরামকে ৩ আল্টিমেটাম দিলেন কামরুল হাসান নাসিম

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, নভেম্বর ২৩, ২০১৮, ৫:১৬ অপরাহ্ণ

ঢাকা : বিএনপি পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা কামরুল হাসান নাসিম দলের নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটিকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন। এছাড়া তিনটি আল্টিমেটামও দেন তিনি।

তিনি বলেছেন, দলের অবৈধ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন জনাব তারেক রহমানের স্বৈরতান্ত্রিক আদেশ পালন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তেমন সিদ্ধান্ত নেয়ার দৃষ্টান্তে ২৪ ঘন্টার মধ্যে যেতে হবে। সেটি না করা হলে দল গড়া সম্ভাবপর হবে না দল ভেঙ্গে যাবে।

২. জামায়াত ছাড়ার ঘোষণা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিতে হবে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে যদি জামায়াতের কোন প্রার্থীকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে সমর্থন করা হয় তবে উক্ত আসন গুলোতে শহীদ জিয়ার আদর্শে থাকা বিএনপির প্রার্থীও থাকবে কিংবা দেয়া হবে।

৩. বিদেশি শক্তির এজেন্ট নোবেল জয়ী ইউনুস ও কামাল হোসেন গংদের সাথে কথিত ঐক্য প্রক্রিয়ার পথচলা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করতে হবে। জন সমর্থনহীন ও ভোটহীন লোক গুলোকে যদি ধানের শীষ হাতে ধরিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ করে দেয়া হয় তবে ঐ সমস্ত আসন গুলোতেও বিএনপির প্রার্থী দেয়া হবে।

এছাড়াও দেশের ভালো-মন্দের শাসন ব্যবস্থায় ৩শ’ আসনেই বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নির্বাচন করবার প্রস্তুতি থাকতে হবে। দলের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে রোববার হতে স্বতন্ত্র ভাবে নির্বাচন করার আয়োজনেও থাকতে হবে। তারাই হবেন শহীদ জিয়ার সৈনিক।

শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর লা ভিঞ্চি হোটেলে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে কামরুল হাসান নাসিম বিএনপি পুনর্গঠন ও একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে অর্থবহ বক্তব্য প্রদান করেন।

কামরুল হাসান নাসিম বলেন, বিএনপির পাঁচটি অসুখ সারাতে দলের পক্ষ থেকে একজন ওষুধওয়ালা হিসেবে টানা ৪ বছর ধরে যে আদর্শিক লড়াই করে আসছি তার ফল হল আমি একটি অসুখও সারাতে পারি নাই। দল জাতীয়তাবাদি থেকে সেই জামায়াতেবাদী হয়েই আছে। নাশকতা একটু কম করা হলেও ভোটের দিনে তারেক- জামায়াত বাহিনী নাশকতা করবেন বলে বিশ্বত্ব সুত্র নিশ্চিত করেছ।

জনস্বার্থ সংরক্ষনের রাজনীতির অনুপস্থিত। মুখে শুধু ভোটের কথা, কারন অকার্যকর জনপ্রিয়তা আমাদের মূল পুঁজি। দল পরিচালনা করছে দুর্নীতিবাজ ও হত্যাকারী মা-পুত্র।

বিদেশি রাজনৈতিক অপশক্তি ও তাদের এজেন্ট দিয়ে নির্ভরশীল থাকার মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে যে বিএনপির ৫টি সেই অসুখ রয়েই গেছে। তবে আমি আশাবাদী। দল পুনর্গঠন করতে সফল হব। আরো ৩/৪ বছর লাগবে।

নাসিম বলেন, আগে পুনর্গঠন এরপর নির্বাচন করতে পারলে ভাল হত। সবাই তো কামরুল হাসান নাসিম হতে পারবে না। সংসদে যেতে চায়। বাস্তবতা হল, আত্মশুদ্ধি করে আওয়ামী লীগের সাথে লড়াই করতে পারলে ভালো। আমরা দেশ পরিচালনা করার পর্যায়ে নেই। হোম ওয়ার্ক নেই।

কামাল-তারেকেরা দেশের ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশ বাঁচবে না। কাজেই জাতীয়তাবাদী হয়েই আমাদেরকে একদিন ক্ষমতায় যেতে হবে। তবুও মন্দের ভাল সব কিছুকে সমর্থন করে আমাদেরকে নির্বাচনেও যেতে হবে। জিয়ার আদর্শে থেকে সংসদে যেতেও হবে।

নাসিম পুনর্গঠন ইস্যুতে বলেন, বেগম জিয়া কিংবা তারেক রহমানকে রেখেই দল পুনর্গঠন করব। উচ্চ আদালত দলের নয়া পল্টন কার্যালয়ের সামনে বসবে। তারা ( তারেক বাহিনী) রক্তপাত চায়— কিন্তু আমরা অহিংস হয়েই নির্বাচন কমিশন ও গেল ২০ বছরের কাউন্সিলরদের নিয়ে এক লক্ষ জনতার উপস্থিতিতে সে আদালত বসবে। সেটার তারিখ সময় ক্ষন দিয়ে হয় না। দলীয় বিপ্লব করা হবে।

বিপ্লব ঝড়ের মত করে আসে। চার বছর ধরে বলছি যে, এই ধরনের উদ্যোগ সারা বিশ্বের কোথাও দেখা যায় নাই। দলের মধ্যে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এই লড়াইকে যারা বাঁকা চোখে দেখেন তাঁদেরকে আল্লাহ্‌ হেদায়েত দান করুক।

এক পর্যায়ে দেশের কৃতী এই আবৃত্তিকার দলীয় বিপ্লবকে উৎসর্গ করা একটি কবিতা আবৃত্তি করে মূল বক্তব্যের উপজীব্য তুলে ধরেন তিনি।

একুশে/প্রেসবিজ্ঞপ্তি/আরসি/এসসি