১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার

‘রাতের অন্ধকারে আমার মনোনয়নপত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছে’

প্রকাশিতঃ রবিবার, ডিসেম্বর ২, ২০১৮, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

রাকীব হামিদ : ১৯৭০ সালে স্কুলছাত্র আন্দোলন দিয়ে রাজনীতির শুরু। এরপর নেতৃত্ব দিয়েছেন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা ছাত্রলীগের কমিটিতে। নেতৃত্বের গুণে পর্যায়ক্রমে মহসিন কলেজ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকও হয়েছেন। এরপরের ইতিহাস কেবলই এগিয়ে যাওয়ার। ১৯৮৬ সালে জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি হওয়ার পর যুক্ত হয়েছিলেন শ্রমিক রাজনীতির সাথে। দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রামমুখর রাজনীতির পথ পাড়ি দিয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তিনি।

বলছিলাম ৪৮ বছরে আগে রাজনীতির হাতেখড়ি নেয়া, কর্মী থেকে নেতা হওয়া খোরশেদ আলম সুজনের কথা। সংগ্রামী এই রাজনীতিকের পথ চলার পুরোটো সময় জুড়ে বড় প্রাপ্তি কেবল ‘জনগণের ভালোবাসা’। ঠাঁই পেয়েছেন মানুষের অন্তরে। রাজনৈতিক জীবনে জনগণ তাকে ‘দুর্বৃত্ত, অর্থপিশাচ, গণবিরোধী’ বলছে না। এটিই তার বিশাল অর্জন বলে মনে করেন তিনি।

শনিবার (০১ ডিসেম্বর) একুশে পত্রিকার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন নগর আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা। যার রাজনীতির বড় একটি অংশই কেটেছে সাবেক সিটি মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সান্নিধ্যে।

৪৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনে দলীয় আনুগত্য মেনেই রাজনীতি করেছেন খোরশেদ আলম সুজন। অধিকার আদায়ে কারাবরণও করেছেন বহুবার। তবুও থেমে যাননি। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে সোচ্চার ছিলেন রাজপথে। টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবরে প্রথম স্মৃতিফলকটি তারই দেয়া। তাই তো জাতির জনকের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকে এখনো রাজনীতির মাঠে সক্রিয় তিনি।

বর্ণাঢ্য রাজনীতির সফল পরিসমাপ্তির জন্য খোরশেদ আলম সুজন চেয়েছিলেন চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন থেকে জাতীয় নির্বাচন করবেন। মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে জোর গুঞ্জনও ছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত মনোনয়ন বাগিয়ে নেন আওয়ামী রাজনীতিতে গত তিন বছর ধরে কোণঠাসা হয়ে থাকা এম এ লতিফ।

ফলে তৃতীয়বারের মতো জাতীয় নির্বাচন করার ইচ্ছে পূরণ হলো না সুজনের। তৃণমূলের সাথে যোগসূত্র থাকার পরও হলেন মনোনয়নবঞ্চিত। তবে নিজেকে মনোনয়নবঞ্চিত বলতে নারাজ তিনি।

মনোনয়ন নিয়ে জঘন্য নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছেন জানিয়ে নগর আওয়ামী লীগের অন্যতম এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি চপেটাঘাত করা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে আমার মনোনয়নপত্র লুকিয়ে অন্যকে চিঠি দেয়া হয়েছে। ২৬ নভেম্বর কেন্দ্রের ফোন পেয়েই ঢাকায় যাই। নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলেও নোংরা ঘূর্ণিপাকে সে চিঠি আমার হস্তগত হয়নি। এর আগে ২০০৮ সালেও আমাকে নেত্রী মনোনয়ন দিয়েছিলেন। পরে যদিও তার নির্দেশেই সরে আসি।’

তবে মনোনয়ন নিয়ে নোংরা রাজনীতির নেপথ্যের কাহিনী এখনই প্রকাশ করতে চাইছেন না তিনি। ‘সময়’হলেই জনগণকে জানাবেন সেই কথা।

জনতার মাঝে খোরশেদ আলম সুজন

এতো কিছুরও পরেও নৌকা প্রতীকের বিজয় ছিনিয়ে আনতে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন খোরশেদ আলম সুজন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় ইস্যুটাই প্রধান। ব্যক্তি প্রধান নয়। অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনে নৌকা মার্কার পক্ষে থাকব। নৌকা প্রতীকের সকল প্রার্থীর প্রত্যেক এলাকায় কাজ করবো। আমার সকল নেতাকর্মীকেও অনুরোধ করেছি, মনোনয়নকে কেন্দ্র করে যে নোংরা রাজনীতি হয়েছে তা ভুলে গিয়ে নৌকার বিজয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে।’

এদিকে মনোনয়নপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন সকল প্রার্থীকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন-এটি নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো ঐক্য কিনা-এ বিষয়ে সুজন বলেন, ‘সময় বলে দিবে নির্বাচন কেন্দ্রিক ঐক্য কিনা। তবে আওয়ামী লীগে ঐক্য আছে। নতুন করে কোনো ঐক্য সৃষ্টি হয়নি। বরং মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর সব গ্রুপকে আমিই এক করেছি। ঐক্য আগে থেকেই আছে এবং নেতাকর্মীরা আদর্শের দিক থেকে সবাই ঐক্যবদ্ধ। ‘

তৃণমূলে সরব থেকে, জনগণের জন্য কাজ করলেও দল তাকে কতটুকু মূল্যায়ন করেছে-এমন প্রশ্নের জবাবে সুজন বলেন, ‘মূল্যায়নের জন্য রাজনীতি করি না। নীতি-আদর্শবোধ ও দেশপ্রেম থেকে রাজনীতি করি। আমাকে মনোনয়ন থেকে দূরে রাখতে পারবে, কিন্তু নীতিআদর্শ থেকে দূরে রাখতে পারবে না। যারা আদর্শকে ভালোবাসে, আদর্শের প্রশ্নে তারা কখনো মাথা নত করে না।’

‘দেশকে ভালোবাসি, দলকে ভালোবাসি, নীতি আদর্শকে ভালোবাসি। মনোনয়ন না পেলেও আমি তো খালেদা জিয়া বা জামায়াতের পক্ষে অবস্থান নিতে পারি না। সবাইকে তাই নীতি-আদর্শকে সব কিছুর উর্ধ্বে  স্থান দিয়ে কাজ করার অনুরোধ করব’- যোগ করেন তিনি।

একুশে/আরএইচ/এটি