১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ৪ পৌষ ১৪২৫, মঙ্গলবার

‘বাঙালি বঙ্গবন্ধুকে মনে রেখেছে, চট্টগ্রামবাসীও মহিউদ্দিনকে মনে রাখবে’

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ডিসেম্বর ৭, ২০১৮, ৫:৫০ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী মানুষের জন্য ভালোবেসে কাজ করেছেন আজীবন। চট্টগ্রামের স্বার্থের প্রশ্নে কখনও আপস করেননি বীর চট্টলার এই সিংহ পুরুষ।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, তিনবারের সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ১৯৬ পৃষ্ঠার স্মারকগ্রন্থটি প্রকাশ করে। এতে চট্টগ্রামের ৫৬ জন সাংবাদিকের লেখা সংকলিত হয়েছে। গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছেন সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. অনুপম সেন।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু হলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রকাশিত ‘সাংবাদিকবান্ধব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী স্মারকগ্রন্থ’র প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ারের সভাপতিত্বে এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিন্টু চৌধুরীর সঞ্চলনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. অনুপম সেন।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রামের এমন আন্দোলন-সংগ্রাম ছিল না যেখানে তিনি ছুটে যান নি। যেখানেই সংকট সেখানেই তিনি ছুটে গেছেন। মৃত্যুর পর মানুষ স্মৃতির অন্তরালে চলে যান। কিন্তু কেউ কেউ তার কাজের মধ্য দিয়ে থেকে যান মানুষের মনিকোঠায়। বাঙালি যেমন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মনে রেখেছে, তেমনি চট্টগ্রামবাসী তাদের প্রিয় মহিউদ্দিনকে আজীবন মনে রাখবে।

ড. অনুপম সেন বলেন, মহিউদ্দিন মানুষের জন্য ভালোবেসে কাজ করেছেন। তরুণদের জানতে হবে মহিউদ্দিন চৌধুরী কী কী করে গেছেন। তিনি কারো কাছে মাথা নোয়াননি বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা ছাড়া। ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রতিবাদ করেছিলেন। তাকে দেশত্যাগ করতে হয়েছিল। পরবর্তীতে আবার ফিরে আসেন। যারা প্রতিবাদ করেছিলেন সেই গুটিকয়েক ব্যক্তির মধ্যে মহিউদ্দিন চৌধুরী একজন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের স্বার্থের প্রশ্নে কখনও আপস করেননি তিনি (মহিউদ্দিন)। তিনি মানুষের কল্যাণের জন্যই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং আমৃত্যু এর সাথে ছিলেন। তিনি অন্য রাজনীতিবিদদের থেকে ব্যতিক্রম।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, আমার বাবা সবসময়ই বিশ্বাস করতেন কলম সৈনিকরা যদি মুক্ত-স্বাধীন থাকেন এবং সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারলে সমাজ-রাষ্ট্রের ভালো হবে। বাবার অপার ভালোবাসা ছিল কলম সৈনিকদের প্রতি। অনেক সময় অভিমান করে বলতাম- আপনার বিরুদ্ধে লেখে, আপনি তাদের ভালোবাসেন কেন? তিনি বলতেন, সাংবাদিকরা স্বাধীন তারা প্রশংসা যেমন করবে, সমালোচনাও করবে।

তিনি বলেন, আমার বাবা ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। তিনি শ্রমজীবী মানুষের জন্য আজীবন কাজ করেছেন। তার এ জীবনকে মূল্যায়ন করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী ও চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা লীগের সভানেত্রী বেগম হাসিনা মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোয়াজ্জেমুল হক, মহানগর যুবলীগের আহবায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু।

একুশে/এসসি