১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার

চবি প্রক্টরের পদত্যাগ চায় ছাত্রদল

প্রকাশিতঃ শনিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৮, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: এক ছাত্রদল নেতাকে নির্যাতনের জন্য ছাত্রলীগকে সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করেছে সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি খোরশেদ আলম ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে চবি প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে তারা বলেন, গত ৬ ডিসেম্বর দুপুর ২টার দিকে চবি লোকপ্রশাসন বিভাগের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক তালিমুল সায়েমকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে অমানুষিক নির্যাতন করে চবি ছাত্রলীগ। শুধু তাই নয়, তাকে অপহরণ করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গিয়ে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে আবারো ব্যাপক মারধর করা হয়।

‘পরবর্তীতে আক্রান্ত ছাত্রকে উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে প্রক্টর মহোদয়কে জোর অনুরোধ করি। কিন্তু দলবাজ প্রক্টর দুর্ভাগ্যজনকভাবে ছাত্রলীগ নামের সন্ত্রাসীদের পক্ষাবলম্বন করে সায়েমকে প্রক্টর অফিসে নির্যাতনের সুযোগ করে দেন। তাকে চিকিৎসা না দিয়ে হাটহাজারীর মীরের হাট এলাকার একটি গায়েবী বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।’

বিবৃতিতে বলা হয়, সায়েমের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ অবস্থায় তাকে চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে ঘটনার দিন বিকেল থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত থানায় আটকে রাখা হয়। এরপর বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরবর্তীতে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয় তাকে।

অবিলম্বে চিহ্নিত ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, দায়িত্বে অবহেলা, পক্ষপাতিত্ব অবলম্বন ও প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরীর পদত্যাগ কিংবা অপসারণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয় বিবৃতিতে।

অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, পরীক্ষার হল থেকে বের করে কাউকে মারধরের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওই শিক্ষার্থীকে সমাজবিজ্ঞান অনুষদ এলাকায় কিছু ছাত্র মারধর করেছে খবর পেয়ে আমরা পুলিশকে খবর দিই। এর মধ্যেই তাকে ওই ছাত্ররা প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির কোনো সদস্য অফিসে ছিল না। পরে তারা তাকে কলা অনুষদ ঝুপড়ির পাশের এলাকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর সিদ্দীক আহমেদ চৌধুরী আমাকে অনুরোধ করে বলেন, পুলিশকে যেন বলি তাকে ছেড়ে দিতে। আমি পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনুরোধ করি, যদি তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকে তাহলে তাকে ছেড়ে দিতে।