১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫, রবিবার

‘প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি ইসি’র আনুকূল্য পেয়েছে’

প্রকাশিতঃ শনিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৮, ১:৩১ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : মনোনয়নপ্রত্র বাতিল হওয়ার পর আপিলে প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আনুকূল্য পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

শনিবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে নগরীর দেওয়ানজি পুকুর পাড়স্থ নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি নানা ইস্যুতে মিথ্যাচার করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ টানা সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিদিনের মতো মিথ্যাচার করেছেন। তার মিথ্যাচারের মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনকে বিতর্কিত করা, সরকারের ভূমিকাকে বিতর্কিত করা, নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করা।

তিনি বলেন, এক দিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের বাতিল মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার জন্য ইসিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, অন্যদিকে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ইসি সরকারের ফরমায়েস বাস্তবায়ন করছে বলে অভিযোগ করেছেন। মহাসচিব এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দুই রকমের বক্তব্যের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব প্রকাশ পেয়েছে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এযাবতকালের কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দল ৩০০ আসলে ৮০০ প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি। বিএনপি নজিরবিহীন ভাবে ৮০০ প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনে তাদের অনেকের প্রার্থীতা বাতিল হওয়া সত্তেও তাদের ৫৫৬ জনের প্রার্থীতা টিকেছে।

তিনি বলেন, ইসিতে আপিলে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত বিএনপি’র প্রায় ১০০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র ফেরত পেয়েছে। বিএনপি’র কয়েকজন প্রার্থী হলফনামায় সাক্ষরই করেননি। এর পরও তারা প্রার্থীতা ফেরত পেয়েছেন। এই জন্যই মির্জা ফখরুল ইসিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। স্বাক্ষর না থাকা সত্বেও গোলাম মাওলা রণিকে প্রার্থীতা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এটা নজিরবিহীন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবেই কাজ করছে, ক্ষেত্র বিশেষে নির্বাচন কমিশনের আনুকুল্য পাচ্ছে বিএনপি। আজকেও আপিল চলছে। আজকেও অনেকে প্রার্থীতা  ফেরত পাবেন। এর ফলে বর্তমানে তাদের প্রার্থী সংখ্যা সাড়ে ৬শ’ ছাড়িয়ে গেছে। এখন অনেকেই বলছেন বিএনপি’র নয়াপল্টন অফিস এবং গুলশানের বেগম জিয়ার কার্যালয় এখন মনোনয়ন বাণিজ্যের হাট বসেছে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, লন্ডনে তারেক রহমানের সাথে পাকিস্তানের আইএসআই’র বৈঠকের খবর বেড়িয়েছে কয়েককটি সংবাদ মাধ্যমে।

তিনি বলেন, টাইমস অব আসামের বরাত দিয়ে বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমও খবরটি পরিবেশন করেছে। লন্ডনে তারেক রহমান নিয়মিতভাবে পাকিস্তানের সামারিক বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র সাথে তারেক রহমান নিয়মিত বৈঠক করেন। সম্প্রতি বৈঠক করেছেন যেখানে জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকও উপস্থিত ছিলেন।

হাছান বলেন, সংবাদ মাধ্যমে বেরিয়েছে বৈঠকের মুল বিষয় ছিলো বাংলাদেশে কিভাবে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা যায়। তারেক রহমান শুধু যে আইএসআই’র সাথে বৈঠক করছেন তা নয়, তিনি ইতিপূর্বে দাউদ ইব্রাহিমের সাথেও বৈঠক করেছেন সেই খবরও সংবাদ মাধ্যমে বেড়িয়েছে। বিদেশে বসে তারা ষড়যন্ত্র করছে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্য করার তাদের একটা উদ্দেশ্য আছে। তাছাড়া নির্বাচনের মাধ্যমে যাতে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা যায় সেই লক্ষ্য নিয়ে তারেক রহমান কাজ করছে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষনা দিয়েছে কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। কেন্দ্র পাহারা দেয়ার ঘোষনার মাধ্যমে তাদের কেন্দ্র দখল করার দুরবিসন্ধি প্রকাশ পেয়েছে প্রকৃত পক্ষে। বিএনপিকে মিথ্যাচার না করে নির্বাচনে মনোনিবেশ করার আহবান জানান ড. হাছান মাহমুদ।

একুশে/এসসি