১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার

বিদ্রোহী প্রার্থীদের চিঠি দিলেন শেখ হাসিনা

প্রকাশিতঃ শনিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৮, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ

ঢাকা : নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীদের উদ্দেশে চিঠি দিয়েছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।

শনিবার (৮ ডিসেম্বর) থেকে এই চিঠি ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। দলটির দফতর থেকে শনিবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়।

চিঠিতে শেখ হাসিনা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দল মনোনীত প্রার্থীদের জিতিয়ে আনতে কাজ করার অনুরোধ জানান। এখনও যেসব দলীয় নেতা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি, তাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের প্রাণপ্রিয় সংগঠন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রাপ্তির প্রত্যাশায় সংগঠনের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডে আবেদন করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই জনপদের একটি ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন। এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বে দিয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগঠন আওয়ামী লীগ। দলটির সব সাংগঠনিক কার্যক্রমের মতো যেকোনো নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বাছাই প্রক্রিয়াও পরিচালিত হতো একটি সুনির্দিষ্ট গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করে। দলের সংসদীয় বোর্ডের সদস্যগণের সুচিন্তিত অভিমত, তৃণমূল নেতাদের পরামর্শ এবং আমাদের সংগঠন কর্তৃক পরিচালিত একাধিক নিবিড় জরিপ কার্যক্রম এর সুপারিশের ভিত্তিতে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা লিখেছেন, আপনি জানেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে চার হাজারেরও বেশি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাদের প্রায় সবারই অবদান রয়েছে। ত্যাগ, দক্ষতা, যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার বিচারে প্রায় প্রত্যেকটি আসনেই ছিল একাধিক যোগ্য প্রার্থী। একাধিক আবেদনকারীর মধ্যে থেকে একজনকে প্রার্থী হিসেবে নির্ধারণ করার কাজটি ছিল অত্যন্ত কঠিন। আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড অত্যন্ত সর্তকতার সঙ্গে প্রতিটি আবেদনপত্রের তথ্য ও মাঠ পর্যায়ে জরিপের ফল পর্যালোচনা করে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আপনার সব সাংগঠনিক দক্ষতা শক্তি-সামর্থ্য আওয়ামী লীগের বিজয় সুনিশ্চিত করবে। এক দশকের উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সংগঠনের একজন আদর্শবান, ত্যাগী ও বিশ্বস্ত নেতা হিসেবে সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত অংশ নিতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া ও সংসদীয় বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্রোহীদের মনোনয়ন দিতে না পারায় দুঃখপ্রকাশ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগকে একটি শক্তিশালী ও কল্যাণমুখী রাজনৈতিক দলে পরিণত করার জন্য আপনার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। দলের সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও দেশের কল্যাণে ভূমিকার জন্য আপনাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের প্রিয় মাতৃভুমি ও প্রাণপ্রিয় সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতি আপনাদের ভালোবাসা-আনুগত্য বিশ্বস্ততা আগামীতেও থাকবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনের গুরুত্ব উল্লেখ করে চিঠিতে আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াতের হিংস্র থাবা থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করে বাংলাদেশের টেকসই গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে আমরা সমমনা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আপনার কাছে বিশেষ অনুরোধ, ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে আপনার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে মহাজোটকে বিজয়ী করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নেবেন। আপনার ত্যাগ, শ্রম ও আন্তরিকতা সবকিছু আমাদের বিবেচনায় আছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের প্রাণ প্রিয় সংগঠন আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করে আবারও জনগণের সেবা করার সুযোগ পাবে। সেই বিজয়ের অংশীদার হবেন আপনিও। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আওয়ামী লীগ যদি ঐক্যবদ্ধ থসকে, তাহলে নৌকাকে পরাজিত করার সাংগঠনিক শক্তি কারও নেই।