১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার

সাকিব-তামিমের ফেরাটা বড় সুবিধা : মাশরাফি

প্রকাশিতঃ শনিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৮, ৯:৫২ অপরাহ্ণ


বাসস : আগামীকাল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করছে বাংলাদেশের। আত্মবিশ্বাসের সাথে সিরিজ শুরু করছে বাংলাদেশ। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সাফল্যের সাথে দলে ফিরেছেন দুই সেরা তারকা সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। তাদের দলে ফেরাটা বাংলাদেশের জন্য বড় সুবিধা বলে মনে টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। প্রথম ওয়ানডের আগে আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেন মাশরাফি।

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সাকিব-তামিম দলে থাকা আমাদের জন্য বিরাট অ্যাডভান্টেজ। প্রস্তুতি ম্যাচে তামিম দারুণ খেলেছে, এটা তামিমের জন্য স্বস্তি, আমাদের জন্যও স্বস্তি। আমি একই সঙ্গে বলব যে ইনজুরি থেকে আসা এবং এসে পারফর্ম করা কিন্তু সময়ের ব্যাপার। তামিমের আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছে বলে প্রত্যাশা করতে পারেন না যে, পরের ম্যাচে নেমেও এক্সট্রা অর্ডিনারি ইনিংস খেলবে সে। আবার এর থেকে বেটার খেলতে পারে, খারাপও হতে পারে। চোট থেকে ফিরলে কিন্তু বেশ কিছু দিন লাগে মানিয়ে নিতে। দুইমাস থেকে আড়াই মাস পর্যন্ত বাইরে ছিল। সাকিব দুইটা টেস্ট ম্যাচ খেলে কিছুটা মানিয়ে নিয়েছে। তামিমের হয়ত কিছুটা সময় লাগতে পারে। কিন্তু ওরা দুইজন থাকা আমাদের দল তথা প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য স্বস্তিদায়ক ব্যাপার।’

চলতি বছর দু’টি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয় করে টাইগাররা। তবে বছরের শুরুতে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও এশিয়া কাপে ব্যর্থ হয় তারা। তারপরও বছরের শেষটা ভালোভাবে করতে চান মাশরাফি, ‘এই বছরে আমাদের পারসেন্টেজ অনেক ভালো, ¯্রফে দুইটা ফাইনাল বাদ দিলে। অবশ্যই এখানে একটা ফাইনাল জিততে পারলে ভালো হত, বিশেষভাবে এশিয়া কাপ ফাইনাল। এছাড়া আমার কাছে মনে হয় এই বছর রেটিং খুব ভালো আছে। ভালোভাবে শেষ করতে পারলে অবশ্যই খুব ভালো হবে। বিশেষ করে সামনের বছর শুরু থেকে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। শেষটা ভালো করলে এই বছরটা খুব ভালো যাবে।’

বছরের শেষটা ভালো করতে হলে ক্রিকেটের তিন বিভাগেই ভালো পারফরমেন্স চার মাশরাফি, ‘সব ডিপারটমেন্ট ভালো করলে আমাদের চান্স থাকে। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে, এ উইকেট কেমন আচরণ করবে সেটার ওপরে অনেক কিছু নির্ভর করবে। যদি ব্যাটিংয়ে হেল্প করে তাহলে বোলারদের চ্যালেঞ্জ থাকবে। আসলে উইকেট বিচার করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু মিরপুরে দু’টি ম্যাচ খেলা, উইকেট কেমন ব্যবহার করবে সেই ইনিশিয়াল জাজমেন্টটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

দল নির্বাচন নিয়ে চিন্তায় রয়েছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। কারণ দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে বাংলাদেশের টপ-অর্ডার। দলে আছেন চার ওপেনার। এরা হলেনÑ তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার ও লিটন দাস। তাই দলের জন্য যা ভালো হবে তাই করা হবে বলে জানান মাশরাফি, ‘আমাদের ১৬ জনের যে স্কোয়াড আছে, আপনি যদি ওইভাবে দেখেন যে নরমালি হোমে সাধারণত ১৪ জন রাখা হয়। বা মেক্সিমাম ১৫ জন রাখা হয়। সেখানে ১৬ জন রাখার কারণ যাতে তাদের কনফিডেন্স ডাউন না হয়, মনিটরিং করা। এই জায়গায় এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে কজন রিসেন্টলি ভাল খেলেছে বা খেলছে তাদেরকে রাখা। আর আপনি যেটা বললেন ভাল (মধুর) সমস্যা হলো সবাই ফর্মে আছে টপ অর্ডারে। যেটা আমরা অনেক দিন থেকে চাচ্ছিলাম। একটা সিদ্ধান্তে যেতেই হবে। ভাল হলে মনে হবে এটাই ঠিক আছে। খারাপ হলে মনে হবে যে রান করেও বাদ গেছে হয়ত ওকেই খেলালে ভাল হত। কথাবার্তা অনেক চলবে। এখনো অনেকের চিন্তা-ভাবনা আছে। কোচ, নির্বাচকদের সঙ্গে আলাপ করে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

বিশ্বকাপের আগে দেশের মাটিতে সর্বশেষ সিরিজে ভালো পারফরমেন্স করার ইঙ্গিতও দিলেন মাশরাফি। তাই উইকেটের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে বলে জানান তিনি। তবে ইংল্যান্ডের উইকেটের সাথে এখানকার উইকেটের কোন মিল নেই বলে জানান ম্যাশ, ‘আমার কাছে মনে হয় আমরা যা চাই এখানকার উইকেট সেটা দিতে পারবে না। এটা আমার ব্যক্তিগত মত। এই মাটিতে এটা অসম্ভব। ইংল্যান্ড কিংবা নিউজিল্যান্ড উইকেটের সঙ্গে মেলানো সম্ভব নয়। হয়তো চট্টগ্রাম কিংবা সিলেটে সিমিলারিটি পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু মিরপুরে এটা সম্ভব নয়। আমাদের কিভাবে জেতা যায় ওইদিকেই ফোকাস থাকা জরুরি। আমার কাছে মনে হয় বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিউজিল্যান্ড থেকেই বেটার নেওয়া যাবে। উইকেটে, কন্ডিশন, আউটফিল্ড সবকিছু মোটামুটি সিমিলার কন্ডিশন থাকবে। এখান থেকে যেটা ইতিবাচক হতে পারে, জিতে নিউজিল্যন্ডে আত্মবিশ্বাস নিয়ে যাওয়া। না হলেও যে ওখানে গিয়ে হেরে যাবো এটাও নাও।’

সিরিজের প্রথম ম্যাচটি দিবা-রাত্রির। তাই শিশির বড় ফ্যাক্টর বড় ইস্যু হতে পারে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বলেন, ‘আমাদের দুইজন স্পিনার আছে যারা ব্যাটিং করতে পারে। এটা অনেক বড় সুবিধা। এক্ষেত্রে সরাসরি কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। এই সময় আমরা গত বছর বিপিএল খেলেছি। রাতের ম্যাচে ডিউ মিরপুরের খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি। তবে কোন কোন ম্যাচে করেছে। আমাদের যেটা হয় কোনদিন হেভি ডিউ হয়, আবার কোনদিন কম হয়। আমরা ব্যাটিং করলাম, হেভি ডিউ হলে কঠিন হয়ে যাবে। আবার কম ডিউ হলে ম্যানেজেবল করা যাবে। আমি মনে করি আগে ব্যাটিং করাটাই ভাল হবে। আজকের ডিউটা কেমন থাকে, ফিল্ডিংয়ের সময় কিছুটা জাজ করতে পারবো। কালকে কি অবস্থা হবে তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। সিদ্ধান্ত আসলে ইতিবাচক হওয়াটাই বেটার।’

আগামীকাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২শতম ওয়ানডে খেলতে নামছেন মাশরাফি। বাংলাদেশের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি। এ ব্যাপারে ম্যাশ বলেন, ‘ধন্যবাদ মনে করানোর জন্য। আমার আসলে খেয়াল ছিল না। আমি আগেও বলেছি, এইগুলো আমাকে স্পর্শ করে না। এগুলো আমার কাছে এত গুরুত্বপূর্ণও না। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কালকের ম্যাচটা জেতা। এইদিক থেকে ভালো লাগছে যে, বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে ফরম্যাটে অন্তত ২০০তম ম্যাচ হচ্ছে। এটা অবশ্যই ভালো লাগবে একটা সময়। যখন মানুষ বলবে, তুমি বাংলাদেশের হয়ে ২০০টা ম্যাচ খেলেছো। এটা অবশ্যই একটা অর্জন। ওই জায়গা থেকে অবশ্যই ভালো লাগবে। কিন্তু কালকের ম্যাচের উপরে আর কিছুর গুরুত্ব একেবারেই নাই। এটা চিন্তা করে খেলার সুযোগ নেই। কালকের ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদেরকে জিততে হবে এটাই মূল বিষয়।’