শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

শিক্ষামন্ত্রী বললেন অনুষ্ঠান ছোট করতে ভিসি করলেন বড়, মানেননি সিনিয়র-জুনিয়র

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, জুন ২, ২০২০, ১১:২৬ অপরাহ্ণ

একুশে প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ল্যাব উদ্বোধন অনুষ্ঠানের হযবরল অবস্থায় অসন্তোষ ও উষ্মা প্রকাশ করেছেন অনুষ্ঠানের উদ্বোধক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। অনুষ্ঠানটিতে মানা হয়নি কোনো ডেকোরাম কিংবা সিনিয়র-জুনিয়র প্রথা। প্রায় দুই ঘণ্টার অনুষ্ঠানটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল অগোছালোয় ভরা। এক পর্যায়ে মাঝপথে হস্তক্ষেপ করেও শৃঙ্খলা ফেরাতে পারেননি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) জীববিজ্ঞান অনুষদে স্থাপিত করোনাভাইরাস পরীক্ষার ল্যাব উদ্বোধন করা হয় সোমবার (১ জুন) দুপুরে। দুপুর আড়াইটার দিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এই ল্যাব উদ্বোধনের জন্য ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হন।

একই সাথে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যরিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল,  চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াশেকা আয়েশা খান এমপি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন,  শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) মো. আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ এবং চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. মোস্তফা খালেদ আহমেদ।

সোমবার আড়াইটার দিকে শুরু হওয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা দেন উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার। স্বাগত বক্তৃতাতেই তিনি পার করেন ১০ মিনিটের বেশি সময়। সঞ্চালকের ভূমিকা, পরিচয়পর্ব ইত্যাদিতে পার হয়ে যায় আরো ১০ মিনিট। এক পর্যায়ে ঢাকা থেকে সংযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী ভিসির দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। পর পর তিনবার ‘মাননীয় উপাচার্য’ সম্বোধন করার পর ভিসি বুঝতে পারেন শিক্ষামন্ত্রী তার দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

শিক্ষামন্ত্রী এসময় উপাচার্যকে বলেন, এতো লম্বা বক্তৃতা কিংবা ফিরিস্তির দরকার নেই। একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য দীর্ঘসময় ধরে এতগুলো দায়িত্বশীল মানুষকে অ্যানগেজড করাও উচিত নয়। সাথে সাথে তাকে সমর্থন দেন সিটি করপোরেশন থেকে সংযুক্ত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। শিক্ষামন্ত্রীকে সালাম জানিয়ে তিনি বলেন, আপা ভালো বলেছেন। শুধু শুধু এত লম্বা করার কী দরকার!

এরপর ভিসি শিক্ষামন্ত্রীকে আশ্বস্ত করলেন, বললেন, দ্রুত অনুষ্ঠান শেষ করবেন। এরপরই সঞ্চালক বক্তৃতার জন্য শিক্ষা উপমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেন। উপমন্ত্রী ২ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যে বক্তৃতা শেষ করেন। এরপর ভিসি ফের শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মাননীয় মন্ত্রী আপনার অনুমতি নিয়ে ওয়াশেকা আয়েশা খান এমপিকে কিছু বলার সুযোগ দিতে চাই।

ওইপ্রান্ত থেকে দীপু মনি বলে ওঠেন, ওয়াশেকা বলুক, কিন্তু মোশাররফ ভাই (ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন) কই? বরং উনিই বলুক, আমাদের মুরুব্বি…। চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছিরকেও এসময় স্মরণ করেন দীপু মনি। বলেন, আমাদের নাছির ভাই আছেন, চট্টগ্রামের মেয়র।

এরপর ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে সংযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন সঞ্চালক। এরপর বক্তৃতা দিতে দেওয়া হয় ওয়াশেকা্ এমপিকে। সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন ওয়াশেকা। পরপর সম্বোধনসহ দুই মিনিটেই বক্তৃতা শেষ করেন মেযর নাছির।

মজার বিষয় হচ্ছে, উপমন্ত্রী, মেয়র, এমপি বক্তৃতা দেওয়ার পর বক্তৃতার জন্য বিভাগীয় কমিশনার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল্লাহ আল হাসান চৌ্ধুরীকে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পর এ পর্যায়ে বক্তৃতা দিতে উঠে বিব্রতবোধ করতে দেখা যায়  চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ বি আজাদ এবং অতিরিক্ত সচিবকে। মিনিট দুইয়ের বক্তৃতায় তারা দুজনই স্বীকার করেন, গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের বক্তৃতার পর আসলে আর কোনো বক্তৃতার সুযোগ বা বলার কিছু নেই।

খোদ শিক্ষামন্ত্রী বলার পরও সিনিয়র-জুনিয়র প্রথা না মানা, সংক্ষিপ্ত করার পরিবর্তে বরং অনুষ্ঠান বিলম্বিত করাসহ সার্বিক এক হযবরল অবস্থা মেযরের সংযুক্তির কল্যাণে কাছ থেকে দেখা এবং শোনা একজন বলে ওঠেন, শিক্ষামন্ত্রী কী বললেন, আর ভিসি কী শুনলেন? মাননীয় উপাচার্য ইচ্ছে করেই অস্বাভাবিকতা তৈরি করেন, নাকি অস্বাভাবিকতাই তার স্বাভাবিকতা!