বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ৩১ আষাঢ় ১৪২৭

ফিল্ড হাসপাতাল ছাড়লেন, কাঁদলেন কাঁদালেন বাশার!

প্রকাশিতঃ সোমবার, জুন ১৫, ২০২০, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : করোনা-শনাক্ত হওয়ার পর গত ২ জুন ফিল্ড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কর্নেলহাট এলাকার বাসিন্দা আবুল বাশার (৭৫)। জ্বর, কাশি, গলাব্যথার মতো তীব্র সমস্যাগুলো সপ্তাহান্তেই দূর হয়ে যায় হাসপাতালের নিরবচ্ছিন্ন সেবায়।

রোববার (১৪ জুন) চূড়ান্ত নমুনা পরীক্ষায় তার করেনা-নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। এখন পূর্ণাঙ্গ সুস্থ তিনি। স্বাভাবিকভাবেই চলে যেতে হবে। এটাই নিয়ম। কিন্তু এই নিয়ম মানবেন না বাশার। তাঁর একটাই কথা-এই হাসপাতাল ছেড়ে যাবেন না তিনি। থাকবেন আরো ক’টা দিন।

কী আশ্চর্য! এমনই গো ধরে থাকা সুস্থসবল মানুষটা নিয়ে রীতিমতো বেকায়দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গতকাল থেকে তাকে বোঝানো হলো যে, তিনি চাইলেও এখানে আর থাকতে পারবেন না, কারণ এটা মামার বাড়ি নয়। হাসপাতাল। সুস্থসবল হয়ে ওঠা একজন মানুষ হাসপাতাল থাকা মানে ফের অসুস্থ হওয়া। রোববার থেকে নার্সরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন বিভিন্নভাবে। সোমবার সকাল থেকে বোঝাতে থাকেন খোদ সিইও বিদ্যুত বড়ুয়া।

একপর্যায়ে হাসপাতাল ছাড়তে রাজি হলেন আবুল বাশার। তবে বললেন, তিনি যাবেন বটে! তাঁর দেহটা যাবে, থেকে যাবে মন! হ্যাঁ, তার এই ব্যাকুল মন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চমৎকার ব্যবস্থাপনা, নিরবচ্ছিন্ন সেবা সর্বোপরি নার্সদের ‘মনভোলানো সেবা’র ফল।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে বেদায়বেলায় তাই বৃদ্ধ আবুল বাশারের মায়াময় কণ্ঠে ঘুরেফিরে কেবল নার্সবন্দনা আর হাসপাতালের জন্য একগুচ্ছ প্রশংসা।

তিনি বললেন, নার্সরা সেবা দেন, সেটাই তাদের কাজ। কিন্তু এমন সেবা পৃথিবীর কোনো নার্স দিতে পারে সেটা তাঁর জানা ছিল না। নার্সদের জন্য এই হাসপাতালে বারে বারে তিনি ফিরবেন, মায়াজালে বন্দী হবেন। প্রয়োজনে নার্সদের সহযোদ্ধা হয়েই এই হাপাতালে সেবকের নতুন জীবন শুরু করবেন আবুল বাশার।

তাঁর মতে, চিকিৎসাসেবা কী, সেবা কাকে বলে সেই সংজ্ঞা পাল্টে দিয়েছে চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল। এখানে এসে তিনি সেবার নতুন ডাইমেনশন দেখেছেন, অর্জন করেছেন অনন্য এক অভিজ্ঞতা।

হাসপাতাল সিইও ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া বলেন, সেবাই আমাদের শক্তি, আমাদের পুঁজি। এখানকার সমস্ত রোগীই সেই সেবা পেয়ে থাকেন। আবুল বাশার সাহেব পুরোনো শিক্ষিত, সজ্জন, স্মার্ট মানুষ। ৭৫ বছর বয়সেও তিনি টগবগে তরুণের মতো। চমৎকার এক মন তার। নিমিশেই আমাদের সহকর্মী ডাক্তার, নার্স, স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে মিশে গিয়ে বাড়তি মমতা তিনি কেড়ে নিতে পারতেন। সেই যোগ্যতা তাঁর ছিল। সে কারণেই তিনি হাসপাতালের সবাইকে নিজের পরিবারের সদস্য মনে করেছিলেন। তিনি স্বীকার করেছেন আমাদের নার্সরা যে সেবা তাকে দিয়েছেন বাড়িতেও তেমন সেবা পাননি।

কেবল আবুল বাশার নন, আমাদের প্রতিটি সেবা, সেবার গল্পগুলো হয়ে উঠুক এমনই অনবদ্য, ভুবনভোলানো কাব্য। বলেন ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া।