মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭

এই গল্প সমাজের মানুষ নামের নরপশুদের!

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২০, ১০:১১ পূর্বাহ্ণ


মো. জাবেদ হোসেন : ৮ জুন সোমবার রাত ১০টার কাছাকাছি সময়। মোটরসাইকেল নিয়ে আনোয়ারা উপজেলা থেকে অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারের বাবার জানাজা শেষে বাড়ি ফিরছি। হঠাৎ বড় ভাইয়ের ফোন। জানালেন তার শ্বশুর খুবই অসুস্থ, দ্রুত হাসপাতাল নিয়ে যেতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব তার শ্বশুর বাড়িতে যেতে হবে।

দেরি না করে আমি দ্রুত তার শ্বশুর বাড়ি পৌছালাম এবং রোগীকে নিয়ে সিএনজি অটোরিকশা করে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হলাম। প্রথমেই নিজের কর্মস্থল মেডিকেল সেহেতু প্রথমে সেখানে নিয়ে গেলাম। ডাক্তার দেখে জানালো উনার High Dependency Unit (HDU) দরকার। কিন্তু সেখানে নানা জটিলতায় ইউনিটটা বন্ধ অনেক দিন। পরামর্শ দিলেন দ্রুত অন্য কোনো হাসপাতালে নিয়ে যেতে।

তারপর গেলাম পার্কভিউ হাসপাতালে। তারা জানালো প্রথমে এক্সরে করতে হবে, না হয় রোগী ধরেও দেখবে না। রাজি হলাম। রিপোর্ট আসার পর ডাক্তার জানালেন নিউমোনিয়া সমস্যা হচ্ছে খুব বেশি। ভর্তি করাতে রাজি না। বললেন একটা অক্সিজেন সংযুক্ত বেড আছে কিছুক্ষণ রেখে অবস্থা দেখতে পারি কিন্তু ভর্তি করাতে পারবে না। কিছুক্ষণ পর জানালেন এখানে আর রাখা সম্ভব নয় অন্য কোনো হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। নিয়ে গেলাম চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে তারা সাফ জানিয়ে দিলেন ভর্তি করানো সম্ভব নয়। এরপর নিয়ে গেলাম রয়েল হাস্পাতালে, তাদেরও একই সুর-সম্ভব না।

শেষমেষ নিয়ে গেলাম চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল। তখন রাত তিনটা। রোগীদের দীর্ঘ লাইন। কিছু করার নেই, অপেক্ষা করছি। সিরিয়াল আসার পর তারাও জানালেন তার এইচডিইউ প্রয়োজন, কিন্তু বেড সল্পতার কারণে রাখা সম্ভব না। বললেন ব্যক্তিগতভাবে যদি অক্সিজেন সাপোর্ট দেয়া যায় তাহলে কিছু অবস্থার উন্নতি হতে পারে।

এবার অক্সিজেন সিলিন্ডার খোঁজার পালা, তখন রাত চারটা। কোনো দোকান খোলা নেই। এবার আসলাম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেইটে পাওয়া গেল সিলিন্ডার। ছোট একটা সিলিন্ডারের দাম চাইল ২৪ হাজার টাকা কিন্তু তা দিলে চলবে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। অন্য দোকানে গেলাম, সেটা আরেকটু বড়- দাম ৪০ হাজার টাকা। সাফ জানিয়ে দিলেন এক টাকাও কম হবে না। অনেক অনুরোধ করার পর দাম কমালেন এক হাজার টাকা অর্থাৎ ৩৯ হাজার টাকা দিতে হবে।

হাতে এত টাকা নেই। রাত গভীর হওয়াতে ব্যাংকে এটিএম বুথও বন্ধ। নিরুপায় হয়ে আবার বাড়িতে এসে টাকা পরিশোধ করে রোগীকে সিলিন্ডার লাগিয়ে বাড়ি আনলাম। বর্তমানে রোগীর অবস্থা তেমন ভালো না।

শুধু কি অক্সিজেন সাপোর্টে চিকিৎসা হয়? অসুস্থ মানুষগুলোর বর্তমান অবস্থা কী তা নিজের চোখে দেখলাম। হয়ত বিনাচিকিৎসায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় আমি, আপনি থাকছি।