বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ৩১ আষাঢ় ১৪২৭

অসুস্থ সংগীতসাধক, ওস্তাদ মহিউদ্দিনকেই কেন আহ্বান জানাতে হবে?

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২০, ১১:০৬ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : সংগীতসাধক, সুরপণ্ডিত ও ওস্তাদ সৈয়দ মহিউদ্দিনকে দেখতে গেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন কমিশনার, কারাপরিদর্শক অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের মা মনি ক্লিনিকে অসুস্থ এই গুণী শিল্পীকে দেখতে যান তিনি। এসময় একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার উপস্থিত ছিলেন। তাদের গ্রহণ করেন আঞ্চলিক গানের প্রয়াত সম্রাট শ্যামসুন্দর বৈষ্ণবপুত্র শিল্পী প্রেমসুন্দর। সৈয়দ মহিউদ্দিনের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর শয্যাপাশে বেশকিছু সময় কাটান তারা।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক গানের কথা ও কিংবদন্তি সুরশ্রষ্টা সৈয়দ মহিউদ্দিন বছর তিনেক আগে দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ-এর দেওয়া সম্মাননাস্মারক গ্রহণ শেষে নগরের ডিসি হিল থেকে ফেরার সময় নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। তার বাম হাত ও বাম পা বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। দীর্ঘদিন রোগভোগের পর তিনি সুস্থ হয়ে ফের সুরসাধনা ও সৃষ্টিশৈলীতে মনোনিবেশ করেন।

গত তিন মাস আগ সেই বাম পা ও হাতে আবারো সমস্যা দেখা দেয়। একপর্যায়ে অচলাবস্থা তৈরি হলে হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যায়। শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন শিল্পী মহিউদ্দিন। সেই থেকে নগরের মা-মনি ক্লিনিকে ভর্তি হন চিরকুমার এই শিল্পী।

এদিকে, লাগাতার শয্যাশায়ী থাকার ফলে বেডশোর রোগ সৃষ্টি হয়ে পিটে ক্ষত দেখা দেয়। সাম্প্রতিক যূথবদ্ধ চেষ্টা ও সম্মিলিত আন্তরিকতায় বেডশোর সমস্যাটি কিছুটা সারলেও বাম পা এবং হাত এখনো অচল শিল্পী মহিউদ্দিনের। এজন্য দরকার তার উন্নত চিকিৎসা। আর সেই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ, সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

চট্টগ্রামের গর্ব এই শিল্পীকে বাঁচাতে ইতোমধ্যে ‘শিল্পী সৈয়দ মহিউদ্দীন চিকিৎসা সহায়তা তহবিল’ গঠন করা হয়েছে। এই গুণী শিল্পীকে বাঁচাতে নিম্নলিখিত ব্যাংক/বিকাশ নম্বরে যে কেউ অংশ নিয়ে সাহায্য/সহযোগিতা পাঠাতে পারেন। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা : সৈয়দ মহিউদ্দীন সঞ্চয়ী হিসাব নং- ১৭২৭০১০০০১৬৬৯ রূপালী ব্যাংক, পাঁচলাইশ শাখা, চট্টগ্রাম। বিকাশ পারসোনাল- ০১৮১৬৪৪৭৪৪৩ (প্রেম সুন্দর বৈষ্ণব)।

‘অ জ্যাডা ফইরার বাপ”, মেজ্জান দিয়ে মেজ্জান দিয়্যে ইতারত” আসকার ডি’র পুব পারত আঁ র ভাংগা চুরা ঘর, মন হাচারা মাঝি তোর সাম্পানত, পিরিত মানে ফুডুর ফাডুর, পাতা বালি, সাম্মান মাঝি সাম্মান বার, গিরাইল্ল্যা কচুর লতিসহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের জনক তিনি। সৈয়দ মহিউদ্দিনকে জীবনমুখী আঞ্চলিক গানের স্রষ্টা বলা হয়। আধুনিক গানের ডামাডোলে যখন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান আকর্ষণ হারাতে বসেছিল তখনই হাতেগোনা যে কজন গীতিকার-সুরকার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানকে আবারও প্রাণ দিয়েছেন সৈয়দ মহিউদ্দিন তাদের মধ্যে একজন।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি শেফালী ঘোষ ও শ্যামসুন্দর বৈষ্ণবের সংগীত গুরু সৈয়দ মহিউদ্দিন। তাঁর কথা ও সুরে শেফালী-শ্যামের বহু গান আজো দাগ কাটে শ্রোতাদের হৃদয়ে, হয়েছে কালজয়ী। শেফালী-শ্যাম যুগের পর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানকে আজও দর্শক-শ্রোতাদের মনে ঠাঁই করিয়ে দেয়ার পেছনে অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে সৈয়দ মহিউদ্দিনের।

বৃহস্পতিবার গুণী এই শিল্পীকে দেখতে গিয়ে সরকার ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে তার চিকিৎসায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান নারীনেত্রী অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু। তিনি বলেন, সৈয়দ মহিউদ্দিনের মতো শিল্পীর জীবনরক্ষা কিংবা সুচিকিৎসার জন্য অনুরোধ-আহ্বান জানাতে হবে কেন? সৈয়দ মহিউদ্দিন একদিনের সৃষ্টি হননি। তিনি রাষ্ট্রের সম্পদ। রাষ্ট্রকেই স্বউদ্যোগে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব এবং উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মুক্তবুদ্ধির চর্চা, মুক্তিযুদ্ধের লালন-পালনে নিজেকে উৎসর্গ করা এই শিল্পীর এমন দুরাবস্থার কথা বঙ্গবন্ধুকন্যা, বাংলাদেশের মানবিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুনলে শিল্পী মহিউদ্দিন বেঁচে ওঠবেন, সগৌরবে ফিরবেন এমন প্রত্যাশা রেহানা বেগম রানুর।