বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ৩১ আষাঢ় ১৪২৭

সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে বাবাদের নিয়ে স্তুতিগাথা চলছে

প্রকাশিতঃ রবিবার, জুন ২১, ২০২০, ৮:২৮ অপরাহ্ণ


পাপন বড়ুয়া : আজ থেকে ২৫-২৬ বছর আগের কথা। আমি তখন স্কুলে পড়ি। এক আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের গবেষণা প্রতিবেদনে জানিয়েছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী দেশ হলো বাংলাদেশ। তখনকার সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব না থাকলেও যাঁরা নিয়মিত সংবাদপত্র পড়তেন তাদের মধ্যে একধরনের অস্থিরতা কাজ করেছিল। অনেকে চোখ কপালে তোলেছিলেন-উক্ত সংস্হার লোকজন গবেষণার সময় নির্ভেজাল দেশী (বাংলাদেশি) মদ খেয়েছিলেন নাকি?

তখনকার দিনে আজকের মতো ফেইসবুক মার্কা এতো জ্ঞানী-গুনী ছিলেন না। তাই এখনকার মতো জটিল কঠিন সমস্যার সমাধান এতো সহজে সমাধান হতো না। একমাত্র ভরসা ছিল সংবাদ পত্র/সংবাদ পত্রের কলামিস্টরা। ঐ গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে তখন দৈনিক আজাদীতে অধ্যাপক ননী গোপাল সাহা (নাম স্মৃতি থেকে নেওয়া তাই কিঞ্চিত ভুল হতে পারে) একটা প্রবন্ধ লিখেছিলেন। উক্ত প্রবন্ধে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত তোলে ধরেছিলেন। যার সারসংক্ষেপ নিম্নরুপ-

প্রাকৃতিকভাবে বাংলাদেশ বেশ সমৃদ্ধ। আরব বিশ্বে একটা চারাগাছকে বাঁচিয়ে রাখতে তারা যে পরিমান পরিশ্রম আর অর্থব্যয় করেন অথচ বাংলাদেশে ফল খেয়ে কোন লোক ফলের বিচি মাটিতে ছুড়ে ফেললেই আস্তে আস্তে লকলকিয়ে ফলের চারা গাছটি বৃক্ষে পরিণত হয়। ইউরোপ আমেরিকায় বছরের বেশিরভাগ সময় রাস্তায় বরফ জমার ফলে লোকজন ঘরবন্দী হয়ে পড়েন আর সেই ঘর কৃত্রিমভাবে উষ্ণ করতে অনেক ডলার খোয়াতে হয়…।

আর পারিবারিক বন্ধন!সেতো বাংলাদেশ অতুলনীয়। বাংলাদেশের মা-বাবারা অনেকটা নিশ্চিত থাকেন শেষ বয়সে সন্তানেরা তাঁদের ভরনপোষণ করবে আর আমেরিকার কোন যুবককে যদি প্রশ্ন করা হয় তোমার মা-বাবা কোথায়? সে দু’সেকেণ্ড সময় নিয়ে হয়তো বলবে-ইউরোপের কোন দেশে হবে! তাদের সম্পর্কগুলো আমাদের দেশের তুলনায় বেশ ঠুনকো। এছাড়া উনি আরো বেশকিছু যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন।

আসলেই পারিবারিক সম্পর্কগুলো আমাদের দেশে বেশ দৃঢ়। বাংলাদেশের মা-বাবারা জীবনের শেষ সময়টুকু সন্তানদের সেবাসুশ্রুষায় কাটিয়ে দিতে পারেন (কিছু ব্যতিক্রমও আছে)। আমাদের দেশের সন্তানরা ৩৬৫ দিনই মা-বাবার খোঁজখবর রাখেন (যদিও ইদানীং পশ্চিমাদের মতো আমাদের বৃদ্ধাশ্রম সংস্কৃতিরও বেশ জমে উঠছে)।

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। আমার জানামতে দেশে বাবা দিবসের আবির্ভাব পশ্চিমা সংস্কৃতি থেকে হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে বাবাদের নিয়ে স্তুতিগাথা চলছে।

যে ছেলেটা বাবার প্রতি নূন্যতম দায়িত্বও পালন করে না সেও বাবাকে নিয়ে আবেগমাখা স্ট্যাটাস দিচ্ছে। কিন্তু আজকের বাবা দিবসতো কলামিস্ট অধ্যাপক সাহেবের কলমের সেই আমেরিকান ছেলেটির জন্য; যে ছেলেটি বলেছিল তার বাবা হয়তো ইউরোপের কোন দেশে হবে।

বিশ্বায়নের যুগে আমাদের আরো সচেতন হতে হবে আমরা যেন হারিয়ে না ফেলি আমাদের দৃঢ় পারিবারিক বন্ধনগুলো। অকৃত্রিম সম্পর্কগুলো যেন কৃত্রিম করে না ফেলি। বিশ্বের সব বাবাদের জন্য শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।