জেএসসির রেজিস্ট্রেশন করতে না পেরে ছাত্রের আত্মহত্যা


আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের আনোয়ারায় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে দুর্জয় দাশ (১৪)। সোমবার (২৯ জুন) রাতে আনোয়ারার কৈনপুরা জলদাশ পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত দুর্জয় দাশ আনোয়ারার কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তার বাবার নাম মিলন দাশ। তার বাড়ি কৈনপুরা জলদাশ পাড়ায়। দুর্জয় দাশরা দুই ভাই এক বোন। বড় ভাই একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করে। বোনটা তার ছোট।

এর আগে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত), কৈনপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয়ের প্রধান শিক্ষক ও চাতরী ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন দপ্তরে বারবার ধর্ণা দিয়েছিল দুর্জয় দাশ। কিন্তু চেষ্টা সফল হয়নি।

দুর্জয় দাশের বাবা মিলন দাশ বলেন, দুর্জয় কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। আগামীকাল জেএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের শেষ দিন। গত কয়েকদিন আগে রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে জানতে পারে জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী তার বয়স দুই বছর বেশি। ফলে তার রেজিস্ট্রেশন হবে না। এটা শোনার পর সে বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে।

তিনি আরও বলেন, প্রথমে চাতরী ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে যায়। সেখান থেকে তাকে বলা হয়, স্কুল থেকে একটা প্রত্যয়নপত্র নিয়ে আসতে। এরপর তারা কৈনপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট গেলে তিনি জানান ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা তাদের বিরুদ্ধে ইউএনওর নিকট অভিযোগ করেছে। তাই তিনি নিষেধ করেছেন প্রত্যয়নপত্র না দিতে।

মিলন দাশ বলেন, এরপর যোগাযোগ করা হয় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (ভারপ্রাপ্ত) আশীষ দে এর সাথে। তিনিও জানান, ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র থেকে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে আনতে হবে। এই অফিস থেকে ওই অফিসে দৌড়াদৌড়ি করে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন এবং জেএসসির রেজিস্ট্রেশন করতে না পেরে দুর্জয় হতাশ হয়ে আত্মহত্যা করেছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী বলেন, ঘটনাটা খুবই মর্মান্তিক। ছেলেটা আমার কাছে আসলে আমি ইউনিয়ন তথ্যসেবাকেন্দ্রে বলে দিয়েছিলাম। তারা সংশোধন করে দেবে বলেছিল।