মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭

মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম— তুলে ধরবে ‘একটি না বলা গল্প’

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২০, ৬:৪১ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ইতিহাসের মহত্তম অধ্যায়। এর মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের বিজয় ও স্বাধীনতা। এই মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের রয়েছে অসাধারণ ভূমিকা। এবার মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে; নাম ‘একটি না বলা গল্প’।

প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক, কবি-ঔপন্যাসিক বিশ্বজিৎ চৌধুরীর ছোটগল্প ‘মৃত্যু যেভাবে বাঁচায়’ অবলম্বনে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হবে। এটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করবেন পুনা ফ্লিম ইনস্টিটিউট থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত সিনেমাটোগ্রাফার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক পংকজ পালিত।

সরকারি অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে তথ্য মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত বিবেচিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। ছবির চিত্রনাট্য প্রস্তুত হলেও বিভিন্ন চরিত্রগুলোয় অভিনয় কারা করবেন, সেটা এখনো নির্ধারণ হয়নি।

‘একটি না বলা গল্প’- চলচ্চিত্রটিতে মুক্তিযুদ্ধে দুই বন্ধুর ভূমিকা উঠে আসবে। দেশকে শত্রুমুক্ত করার তাগিদে দুই বন্ধু রাঙ্গুনিয়া থেকে পাহাড়ি পথে রামগড়ে গিয়েছিল। এরপর ফেনী নদী পার হয়ে সীমান্তের ওপারে সাব্রুম বিএসএফের ক্যাম্পে ট্রেনিং নিতে যায় তারা। ভীতু হওয়ায় ট্রেনিং থেকে এক বন্ধু বাদ পড়ে যায়। পরে সে চট্টগ্রামে ফিরে আসে। মুক্তিযোদ্ধারা তখন নানান জায়গায় অপারেশন চালাচ্ছে।

একদিন আন্দরকিল্লা মোড়ে মুক্তিযোদ্ধা বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে আসা বন্ধুটির দেখা হয়ে গেল। দেখেই বন্ধুকে জড়িয়ে ধরেছিল সে। একটু আড়ালে ডেকে নিয়ে গিয়ে মাত্র আগের দিনই তাদের এক সফল অপারেশনের বিবরণ শুনিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা বন্ধুটি। এছাড়া আপাতত সে কোথায় আশ্রয় নিয়েছে, নজির আহমদ চৌধুরী রোডের সেই আস্তানাটাও তাকে চিনিয়ে দিয়েছিল। এটা যে বড় ভুল ছিল জীবন দিয়ে সেই প্রমাণ রেখে গেল মুক্তিযোদ্ধা বন্ধুটি।

এ বিষয়ে প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক, কবি ও সাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের কিছু ছবিতে দেখা যায় জয় বাংলা বলে ডাক দিচ্ছে, গ্রেনেড মারছে, আর পাকিস্তানি সেনা মরে যাচ্ছে। এরকম কাল্পনিক গল্প বানাতে চাই না। সত্যিকারের বেদনার একটা গল্প নিয়ে ‘একটি না বলা গল্প’ ছবিটি তৈরি করা হবে।

তিনি বলেন, ছবিতে দেখা যাবে, একজন মানুষ প্রশিক্ষণে গিয়েও মুক্তিযুদ্ধ করতে পারেনি, নিজের কাপুরুষতার জন্য। সেটা তিনি স্বীকার করছেন, নিজের ছেলের কাছে। এটা ঠিক মুক্তিযুদ্ধ সময়কালের ছবি হবে না। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালের ছবি এটা। ছবিতে ফ্ল্যাশব্যাক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ আসবে। প্রথম চেক পাওয়ার নয় মাসের মধ্যে ছবিটা তৈরি করতে হবে। আশা করছি, সময়মতো কাজটি আমরা শেষ করতে পারবো।

চলচ্চিত্র পুরোপুরি তৈরির জন্য সরকারি অনুদান যথেষ্ট নয় মন্তব্য করে কথাসাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, চলচ্চিত্র তৈরির জন্য সর্বোচ্চ ৭০ লাখ আর সর্বনিম্ন ৪০ লাখ টাকা দেয়া হয় সরকারি অনুদান। একটি বাণিজ্যিক ছবি বানাতে অনেক সময় দেখা যায় এই অনুদানের টাকাটা একজন শিল্পীকেই দিতে হয়। তবে আমাদেরটা সেভাবে বানানো হবে না। নিবেদিত শিল্পী যারা আছেন, টাকার জন্য যারা অভিনয় করেন না, তাদের দিয়ে বানানো হবে। কিন্তু কারিগরি নানান দিক হিসাব করলেও অনুদানের ওই টাকা দিয়ে কাজ শেষ করা যাবে না।

‘ছবির সংখ্যা কমিয়ে বরাদ্দটা বাড়ানো যায় কিনা- এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা ভাবতে পারেন। তবে অনুদানের জন্য অনেক প্রার্থী থাকলে সেক্ষেত্রে কী করার থাকে, আমি ঠিক জানি না। তবে আমি মনে করি, বরাদ্দটা আরও বাড়ানো উচিত। তাহলে ভালো ছবি বানানো যাবে।’

চলচ্চিত্রে সরকারি অনুদান খুব ভালো উদ্যোগ মন্তব্য করে কবি ও সাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, সরকারের এ ধরনের একটা উদ্যোগ ভালো চলচ্চিত্রকে বাঁচিয়ে রাখবে, এটা অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। আর অনুদানের জন্য বাছাই করার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে নির্বাচকমণ্ডলী অনেক সচেতন ও দক্ষ। আমি নিজে পেয়েছি বলে বলছি না। এটাই বাস্তবতা।