মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭

হাঁস-মুরগি-কবুতর কিনতে শত শত মানুষের জটলা, বালাই নেই স্বাস্থ্যবিধির

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২০, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ


নুরুল আবছার : নগরীর বিবিরহাট কাঁচাবাজারে কবুতর-হাঁস-মুরগি কিনতে ভিড় করছেন শত শত ক্রেতা-বিক্রেতা। গা-ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে, গাদাগাদি অবস্থায় হাঁটাচলা করে কেনাবেচায় ব্যস্ত তারা। কেনাবেচার সময় সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেউ। তাছাড়া সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার মতো যে কোনও বিষয় আছে, তা সেখানে গেলে বুঝার উপায় নেই।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সরেজমিন বাজার ঘুরে এই দৃশ্য দেখা যায়। অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে নেই মাস্ক, হ্যান্ড-গ্লাভস। অবস্থাদৃষ্টে যে কারো মনে হতে পারে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে তাই করোনা সতর্কতা মানার বালাই নেই। বাজার কমিটিরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে।

কাঁচাবাজারের একপাশ জুড়ে থাকা এই হাঁস-মুরগি-কবুতরের বাজার অনেকটা বন্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক চলাচলের রাস্তাটাও। দুপুর গড়াতেই জটলা উপেক্ষা করে যাতায়াত করতে হয় স্থানীয়দের। ফলে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে।

সরকার গত ১০ মে সকাল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্ত সাপেক্ষে দোকান-পাট ও শপিংমল খোলার ঘোষণা দিলেও সরকারি বিধি অমান্য করেই বিবিরহাটে ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে।

মারুফ নামের একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, করোনা পরিস্থিতিতে কোন সময় এখানে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার আসলে আমাদের যাতায়াত করতে চরম অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয়। করোনা সংক্রমণ বাড়ার এই বিরাট ঝুঁকি যেন দেখার কেউ নেই।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবারক আলী বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করার অধিকার কর্তৃপক্ষ আমাদের দেয়নি। সচেতনতামূলক যা করার সবই করছি। বাজারের ইজারাদারদের ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনকে জানাবো যাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আগামীতে বাজারের দিন থেকে যেন এমন না হয় সেই ব্যবস্থা নেব।

পাঁচলাইশ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া বলেন, আমরা যতটুকু পারি ততটুকু করছি। আমরা চেষ্টা করছি যাতে সামাজিক দূরত্বটা বজায় থাকে। কিন্তু আমাদের জনবল সমস্যা আছে। আমাদের তিন ভাগের একভাগ সদস্য, প্রায় ৩০ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত। বাকিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করে আমরা কাজ করছি। কমসংখ্যক দিয়ে সর্বোচ্চ কাজ করার চেষ্টা করছি। সেখানে যদি বাজারের এমন অবস্থা হয় তাহলে আমরা ‘এটেনশন প্লে’ করবো যাতে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়।