শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭

মা, মধ্যরাতে পাখির ডাক থামাতে কী করেছিলে?

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২০, ১২:১৮ অপরাহ্ণ

শারমিন সুলতানা রাশা : ‘আমি সব সময় ভালো থাকি। বরং তুমি ভালো থাকার চেষ্টা কর।’

এরপর আর একটি শব্দও বিনিময় হয়নি তাদের। মা বুঝলেন, মেয়েটি ভালো থাকতে শিখে গেছে। ভালো থাকার জন্য মাকে আর দরকার নেই। সপ্তাহখানেক কোনো যোগাযোগ নেই। তার ঠিক আগে-কিচিরমিচির। কিচিরমিচির। মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে যায় মায়ের। কয়েকটা পাখি ভীষণ ডাকছে। মা একমুঠো চাল বারান্দায় ছড়িয়ে দিলেন। এই পাখিগুলো অন্যরকম। কিছু খায় না। অনবরত ডেকে যায়। ভাবছেন কাল মেয়েকে একবার জিজ্ঞেস করে নেবেন, অসময়ে পাখির ডাক বন্ধ করার জন্য কী করা যায়।

‘আচ্ছা মা, পাখিদের কি ক্ষিদে ছাড়া অন্য কোনো অনুভূতি থাকতে পারে না?’ বলতে গিয়ে মেয়েটি হেসেই অস্থির।

‘হয়তো কোনো অসুখ করেছে বা কাউকে খুঁজে পাচ্ছে না, হারিয়ে ফেলেছে। কেবল খাবার দিলেই তো ডাকাডাকি বন্ধ করবে না। তাই না?’

হঠাৎ প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে মা করলেন চিরচেনা প্রশ্নটি- ‘ভালো আছিস?’

ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ক্লান্ত মস্তিষ্ক সপ্তাহখানেক পুরোনো কথামালার হিসেব নিয়ে বসেছে। সেই এক প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত কণ্ঠ কখন চিৎকার করে উঠলো, ‘মা আমি আর মিথ্যে বলতে পারছি না! আমাকে এবার মুক্তি দাও!’

ঘুম ভাঙলো মেয়েটির। কিচিরমিচির। কিচিরমিচির। একটা দুটো করে অসংখ্য পাখি ডাকছে বাইরে। সেই ডাকে সূর্যোদয়ের গান নেই। কেবল মধ্যরাতের ইনসোমোনিয়া।

পাখিদেরও আজকাল ইনসোমোনিয়া হয়?

একবার মাকে জিজ্ঞেস করা দরকার। এ সময়ে মায়ের জেগে থাকার কথা নয়। তবু একবারেই মাকে পাওয়া গেলো- ‘হ্যালো, মা! কয়েকদিন আগে মাঝরাতে যে পাখির ডাক শুনতে পেতে, থামানোর জন্য কী করেছিলে?’

শারমিন সুলতানা রাশা : মঞ্চাভিনেত্রী, নির্দেশক, গল্পকার ও নাট্যকার।