রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

করোনার নমুনা জটে সিএমপির কার্যক্রম ব্যাহত

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২০, ৮:০৮ অপরাহ্ণ


নুরুল আবছার : চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) সাড়ে ৩ শতাধিক সদস্য এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে ফের নেমে পড়েছেন করোনা মোকাবিলায়। কিন্তু পাঁচ শতাধিক সদস্য নমুনা দিলেও পরীক্ষার রিপোর্ট পাচ্ছেন না। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা এসব সদস্যদের কাজে লাগাতে না পেরে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

শুরুর দিকে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল অল্প সময়ে মিললেও এখন ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে।

নগরের পাঁচলাইশ মডেল থানায় এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশের ১৮ জন সদস্য। এর মধ্যে এসআই ৮ জন, কনস্টেবল ১০ জন। সুস্থ হয়ে কাজে যোগদান করেছেন দুইজন। নতুন করে নমুনা পরীক্ষা দিয়ে ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন আরও দুইজন এসআই ও ৬ জন কনস্টেবল।

পাঁচলাইশ থানার মোট ৫৭ জন পুলিশ সদস্যের বেশিরভাগই অসুস্থ হয়ে পড়ায় সীমিত হয়ে পড়ে সদস্য সংখ্যা। কাজেই আক্রান্তদের সুস্থ হয়ে দ্রুত কাজে ফেরানোটাই জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু রিপোর্টের দীর্ঘসূত্রতার কারণে তা সম্ভব হয়ে উঠছে না। অসুস্থ হয়ে পৃথক হওয়ার পর প্রথমবার পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে ২০ দিন সময় গেলে দ্বিতীয় পরীক্ষার জন্য ২০ দিনসহ ৪০ দিন সময় লেগে যাচ্ছে। সবমিলে সুস্থ প্রতিবেদন পেতে দেড় মাসের বেশি লাগছে।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া একুশে পত্রিকাকে বলেন, এই সমস্যার কারণে থানার কার্যক্রম চালিয়ে নিতে খুব হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরেও আমরা সীমিত জনবল নিয়ে যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আক্রান্ত হওয়ার প্রথম ১৪ দিন পরে দ্বিতীয় পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ হয়ে কোনো উপসর্গ না থাকলে তাকে কাজে ফেরানোর। সেক্ষেত্রে রিপোর্টের দীর্ঘসূত্রতার জট কমানো গেলে আমরা দ্রুত সময়ে কাজে ফেরাতে পারবো।

চট্টগ্রামে করোনা পরিস্থিতির প্রথম থেকেই পুলিশ অগ্রণী ভুমিকা পালন করে আসছে। সরকার ঘোষিত লকডাউন নিশ্চিতকরণ, ত্রাণ বিতরণ, লাশ দাফনসহ বিভিন্ন জরুরীসেবা প্রদানে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে করোনার শুরু থেকে সমস্যা মোকাবেলায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা গেছে পুলিশকে। এজন্য বেশ সুনামও কুড়িয়েছে পুলিশ।

সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, সিএমপির পাঁচ শতাধিক সদস্য নমুনা দিলেও পরীক্ষার রিপোর্ট পাচ্ছেন না। তারা করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন নাকি সাধারণ জ্বর-সর্দি তা নিশ্চিত হতে না পারায় তাদের কাজেও যোগদান করানো যাচ্ছে না।