শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭

টুকরো টুকরো করে চুলায় পোড়ানো হয়েছে খাশোগির লাশ!

প্রকাশিতঃ শনিবার, জুলাই ৪, ২০২০, ৮:১৬ অপরাহ্ণ


তুরস্ক : তুরস্কের আদালতে সৌদি দূতাবাসকর্মীর সাক্ষ্য থেকে সাংবাদিক জামাল খাশোগির মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার ধারণাই জোরালো হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) তুর্কি আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই সময় উপস্থিত সৌদি দূতাবাসকর্মী জাকি দামির বলেছেন, সাংবাদিক জামাল খাশোগি তুরস্কের সৌদি দূতাবাসে ঢোকার পরই তন্দুর চুলা প্রায় এক ঘণ্টা জ্বালিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

খাশোগি হত্যার বিচারের প্রথম দিন সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কনস্যুলেটের টেকনিশিয়ান জাকি দামির আরও বলেন, খাশোগি তার বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে দূতাবাসে ঢোকার পর তাকে আবাসিক ভবনে ডাকা হয়। তিনি বলেন, ‘সেখানে পাঁচ–ছয়জন ব্যক্তি ছিলেন। তারা আমাকে তন্দুরের ওভেন জ্বালাতে বলেন। সেখানে পরিবেশ থমথমে ছিল।’

তুর্কি কর্মকর্তারা এর আগেও বলেছেন, পুলিশের ধারণা,হত্যাকারীরা খাশোগির মরদেহ পুড়িয়ে অথবা টুকরো করে কেটে উধাও করে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে।

তুর্কি আদালতে জাকি দামির তার সাক্ষ্যে আরও বলেছেন, ওইদিন তিনি দূতাবাসের বাগানে মাংস কাটার বেশ কয়েকটি বোর্ড দেখেছিলেন। কাবাব জাতীয় কিছু পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। চুলার চারপাশের মার্বেলের স্ল্যাবগুলোর রং বদলে গিয়েছিল। দেখে মনে হচ্ছিল,সেগুলো কোনো রাসায়নিক দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে।

দূতাবাসের গাড়িচালক ও অন্যান্য সাক্ষীরা বলেন, স্থানীয় এক রেস্তোরাঁ থেকে তাঁদের কাবাবের কাঁচা মাংস কিনে আনতে বলা হয়েছিল।

জাকি দামির বলেন,কালো কাচের জানালার একটি গাড়ি ঢোকার পর তিনি গ্যারেজের দরজা খোলার কাজে সাহায্য করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে দ্রুত বাগান ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়।

২০১৮ সালের অক্টোবরে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হলে তাকে হত্যার কথা স্বীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় কর্মকর্তাদের ভুলে নিহত হন ওই সাংবাদিক। তবে তার মৃতদেহের কোনও সন্ধান দেয়নি তারা।

গত বছরের ডিসেম্বরে এই ঘটনায় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে প্রাণদণ্ডের রায় ঘোষণার কথা জানায় সৌদি আরব। সম্প্রতি খবর এসেছে, খাশোগির পরিবার দোষী ব্যক্তিদের ক্ষমা করে দিয়েছেন।

তবে তুরস্ক আলাদাভাবে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ইস্তাম্বুলের কৌঁসুলিরা খাশোগিকে হত্যার অভিযোগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দুই সাবেক সহযোগী এবং আরও ১৮ জনকে অভিযুক্ত করেছে। স্বয়ং যুবরাজ এই হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।