বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

করোনায় মৃত্যু আমেরিকার ধারেকাছেও না যাওয়ায় অনেকের মনে কষ্ট: নওফেল

প্রকাশিতঃ সোমবার, জুলাই ৬, ২০২০, ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ


চট্টগ্রাম : দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা আমেরিকার ধারেকাছেও না যাওয়ায় অনেকের মনে কষ্ট আছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

রোববার (৬ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী লিখেছেন, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবেই স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি সঞ্চারিত করা হয়। যার দরুণ সার্বিক গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থা কিছুটা বিঘ্নিত হয়। এখন এই অবস্থার অনেক উত্তরণ হয়েছে। চট্টগ্রামে আমরা সৃষ্টিকর্তার দয়ায় মৃত্যুহীন কিছু দিনও দেখছি। তাই সকলের প্রতি আহবান সামনের দিনগুলোতে আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, জীবন ও জীবিকা দুটিই আমাদের করোনা মোকাবেলার সাথে সাথে রক্ষা করতে পারবো।

মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তথ্য দিয়েছেন, করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও এর উইং হিসেবে পরিচালিত বেসরকারি অবকাঠামো পুরাতন হলি ক্রিসেন্ট মিলিয়ে প্রায় ৭০টি বেড এখনো খালি। জেনারেল হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন ও প্লান্ট নির্মাণ সম্পন্ন হলে প্রায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি অবকাঠামো প্রস্তুত থাকবে, যেখানে, অক্সিজেন দরকার এমন রোগীর চিকিৎসা শতভাগ নিশ্চিত করা যাবে। ভেন্টিলেটর সাপোর্ট প্রায় ১৮টি দেয়া যাবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫০ শয্যার ব্যবস্থা আর আইসিইউতে আরো প্রায় দশটি শয্যার ব্যবস্থা আছে। বর্তমানে প্রায় ৫০ টি বেড এখনো খালি আছে। রেলওয়ে হাসপাতাল ও সদ্য প্রস্তুতকৃত চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতাল মিলিয়ে প্রায় ৮০টি বেড এখনো খালি আছে।

সরকারের সহযোগিতা প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে, চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল, মা ও শিশু হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও ইউএসটিসিতে সবমিলিয়ে ৭০টি বেডের বেশি এখনো খালি আছে বলেও জানান শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

তিনি জানান, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অনেকগুলোতে করোনা রোগি ভর্তি আছে, এবং বিভাগীয় কমিশনারের অধীনে মনিটরিং চলছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলো সক্ষমতা সাপেক্ষে রোগিদের নিয়মিত ভর্তি করাচ্ছে।

শিক্ষা উপমন্ত্রী লিখেছেন, পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের বাইরেও বেসরকারি উদ্যোগে করোনা রোগিদের সুবিধার্থে অনেক আইসোলেশন সেণ্টার গড়ে উঠেছে, যেগুলোতে ডাক্তার, অক্সিজেন সিলিন্ডার ইত্যাদির পর্যাপ্ত যোগান আছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, মুক্তি আইসোলেশন সেন্টার (মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী), বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন, হালিশহর চট্টগ্রাম আইসোলেশন সেন্টার, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সিটি আইসোলেশন সেন্টার, পতেঙ্গা-ইপিজেড এলাকা আইসোলেশন সেন্টার। এগুলোর মধ্য প্রায় ৫৫০টি বেডের ব্যবস্থা আছে। তবে রোগী ভর্তি না থাকায় সবমিলিয়ে এখনো সকল আইসোলেশন সেন্টার সমূহের সক্ষমতার সর্বমোট ১০ শতাংশের বেশিও ব্যবহৃত হচ্ছে না।

মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তথ্য দিয়েছেন, সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ি মৃত্যুর সংখ্যা পুরো চট্টগ্রাম জেলা ও শহর মিলিয়ে ২ শতাংশের কম, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫ শতাংশের বেশি, যুক্তরাজ্যে প্রায় ১২ শতাংশ।

তিনি আরও লিখেন, আমাদের মত দেশে উন্নত রাষ্ট্রের চাইতে মৃতের সংখ্যা এখনো অনেক কম। তবুও এক শ্রেনীর লোক প্রতিদিন হা-হুতাশ করে চলেছে, একদিন লকডাউন দাবি করে আরেকদিন সবকিছুতে ছাড় চায়, আবার আরেক দিন চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু হয়েছে করোনায় এই ধরনের প্রচারও করে চলছে।

‘হ্যাঁ, করোনায় অনেকের মৃত্যু হবে, এটাও মানতে হবে। আমাদের অনেকেই ঘুরে বেরিয়েছি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক অনুষ্ঠানে ভীড় করেছি, করোনা সংক্রমিতও হয়েছি। এর প্রায় বেশিরভাগই নিজের দোষেই! করোনা নিজেই পায়ে হেঁটে, বা কারো কথায় আমাকে সংক্রমিত করেনি। আমাদের কারণেই হঠাৎ সংক্রমণ হার বেড়েছে।’

পৃথিবীর বেশিরভাগ উন্নত দেশ শতভাগ নিয়ন্ত্রণের আশেপাশেও যেতে পারেনি মন্তব্য করে নওফেল লিখেছেন, মৃত্যুর সংখ্যা বিশাল। মানুষের হায়াত-মউত সবই উপর ওয়ালার হাতে। তবে প্রশ্নটি হলো আমরা আমাদের সর্বোচ্চ করেছি কি না। বাংলাদেশের মত দেশে আমেরিকার চিকিৎসা সেবা দাবি করা অনেকের আবার মৃত্যুর সংখ্যা আমেরিকার ধারেকাছেও না যাওয়ায় মনে কষ্ট আছে।

‘জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই দেশটা অনেক এগুনোর পরে একটি মানব নিয়ন্ত্রণহীন মহামারীকে পুঁজি করে কিছু জল ঘোলাকারীর আলোচনা-সমালোচনার সঠিক জবাব সময়ই দেবে।’ লিখেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল।