বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

‘গরিবের টাকায় ধনীকে গাড়ি কিনতে ঋণ দিতে ব্যাংকের আগ্রহ বেশি’

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, জুলাই ৭, ২০২০, ২:২৯ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : গরিবের সঞ্চয়ের টাকায় ধনীকে গাড়ি কিনতে ঋণ দিতে ব্যাংকের আগ্রহ বেশি বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

উপমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমাদের দেশে অনেক ব্যাংক হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সেবা দেওযার ক্ষেত্রে তাদের সবার চেষ্টা একটি একাউন্ট খুলে দিয়ে শুধুই ডিপোজিট সংগ্রহের দিকে। জনগণের ক্ষুদ্র সঞ্চয় দিয়ে বড় বড় বিনিয়োগেই তাদের আগ্রহ বেশি। সাধারণ মানুষে ভোগ সক্ষমতা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য, ব্যক্তি পর্যায়ে ভোক্তা ঋণ সুবিধা, ক্ষুদ্র মাঝারি ব্যবসা বা শিল্পে অর্থায়নে ব্যাংকগুলোর তেমন আগ্রহ দেখা যায় না। যা দেখা যায় না মাত্র।’

সাধারণ মানুষের ব্যক্তি পর্যায়ে ক্ষুদ্র মাঝারি অর্থায়নে ব্যাংকগুলোর আগ্রহ নিয়ে নওফেল বলেন, ‘ব্যাংকের শাখা সমূহের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, নির্বাহীদের বিশাল বেতন ভাতা, পরিচালকদের পেছনে বিশাল অংকের টাকা খরচে যতটা তারা আগ্রহী আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মূল শর্ত- সাধারণ মানুষের ব্যক্তি পর্যায়ে ক্ষুদ্র মাঝারি অর্থায়নে ততটা আগ্রহী তারা নয়।’

মুহিবুল হাসান চৌধুরী লিখেন, ‘সব ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের নির্বাহীরা সবাই আসলে বাস্তবে বিনিয়োগ বা ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার। রিটেইল ব্যাংকিং পর্যায়ে ডিপোজিট সংগ্রহকেই তারা মনে করে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, অর্থায়নে নয়।’

নওফেল বলেন, ‘আমরা হিসাব খুলে শুধু টাকা ব্যাংকে দিয়ে আসি, ব্যাংক আমাদের কী ঋণ সুবিধা দেয় ব্যাক্তি পর্যায়ে? আমি এখনো জামানতবিহীন ২০ হাজার টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকার ঋণ পেয়েছেন এমন একজনকেও পাইনি। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক এই ব্যাপারে অনেক আগেই অনুমতি দিয়েছে। হয়তবা কাগজে কলমে এই জামানতবিহীন ঋণের অস্তিত্ব আছে কিন্তু এঁরা এতই বিরল যে চোখে দেখা যায় না।’

শিক্ষা উপমন্ত্রী আরও বলেন, ‘করোনা মহামারির অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে উঠার অন্যতম কৌশল সাধারণ ব্যক্তির ভোগ সক্ষমতা বাড়ানো যার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ভোগের খাত বৃদ্ধি পাবে। ধনী ব্যক্তির ভোগ সক্ষমতা আরো ঋণ দিয়ে বাড়ানোর চাইতে সাধারণের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করলে ব্যাংকগুলো সাধারণ মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে পারবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ভোগের খাত আরো শক্তিশালী হবে। তবে বর্তমান প্রেক্টিস হলো হবিগঞ্জ থেকে সঞ্চয় নিয়ে গুলশানের ব্যবসায়ীকে ঋণ দেওয়।’

দামি গাড়ি বাড়ি ঘড়ির লোক না হলে ব্যাংক অর্থায়ন করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশে আমরা দেখি ব্যক্তি পর্যায়ে; আমরা ছাত্র অবস্থাতেও ২০ হাজার থেকে ১০ লক্ষ টাকা সম্পূর্ণ বিনা জামানতে ক্রেডিট স্কোরের ভিত্তিতে ঋণ পেয়েছি। ঋণ নিয়েই অনেকে পড়াশোনা করেছে, নিজের ভাগ্য উন্নয়ন করেছে।

‘আমাদের দেশে ছাত্রদের শিক্ষা ঋণ শুধুই বিজ্ঞাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ অথচ ল্যাপটপ, কম্পিউটার কিনতে, টিউশন ফি দিতে, অনেক কিছুতেই ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে পারে কিন্তু গরিবের সঞ্চয়ের অর্থে ধনীর গাড়ি কিনতে ঋণ দিতেই তাদের আগ্রহ বেশি’ লিখেছেন উপমন্ত্রী নওফেল।